সংবাদ শিরোনাম:
দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকার সেরা অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন ‘ভোট জালিয়াতি’ তদন্তের নির্দেশ চট্টগ্রামে গলায় ছুরি ধরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ধর্ষকদের বাঁচাতে কাউন্সিলরপ্রার্থী বেলালের দৌড়ঝাঁপ নারী নির্যাতন মামলায় বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের বিবাহিত সভাপতি মাহবুব হোসেন কারাগারে দুই নবজাতকের লাশ নিয়ে হাইকোর্টে বাবা কনস্টেবলকে মারধর, শ্রমিকলীগ নেতার স্ত্রী কারাগারে অবক্ষয় থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে চলচ্চিত্রের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে- তথ্যমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2020 কর কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২০ ৯ দিনে করোনা জয়ী তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
ফেসবুক লাইভ: পুলিশ আতঙ্কে

ফেসবুক লাইভ: পুলিশ আতঙ্কে

doinik71
doinik71

সম্প্রতি এস আই সুমন বিন শাকিল নামের উদ্ধৃতি দিয়ে ফেসবুকে একটি ঘটনা আলোড়ন সৃষ্টি করে।তার ভাষ্যমতে ঘটনাটি এমন “ঘটনাটি আজ বিকেলের।আমি ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় ছিলাম। নিরাপত্তার জন্য আমি ঘটনাস্থলের নাম উল্লেখ করছি না।

আমি উবার বাইকের ভাড়া দিচ্ছিলাম, ভাড়া মোট ১০৭ টাকা। ১০০০ টাকার নোট বের করে তার হাতে ধরিয়ে দিতেই বলল, “স্যার ভাংতি দিলে ভালো হয় ৯০০ টাকা ফেরত দিলে আমার খুব অসুবিধায় পরে যাবো।”

আমি আবার তার হাত থেকে টাকা টা মানিব্যাগে নিলাম এবং খুচরা টাকা মিলাতে ব্যাস্ত হয়ে গেলাম। হঠাৎ করেই উবারের লোক টি আমাকে ডেকে বলল,”স্যার ওই দেখুন আপনাকে মনে হয় ছেলেটি ভিডিও করছে”।

আমি মাথা উঠিয়ে দেখি হ্যাঁ সত্যি এক স্কুল ইউনিফর্ম পরা ছেলে খাম্বার আড়ালে দাঁড়িয়ে আমাদের লেনদেন টি মোবাইলে ধারন করছে।

ছেলেটা লিকলিকে কালো, চুল গুলো মোরগ কাট করা খুব Yo Yo boy টাইপ। ইন করা নেই জুতাও স্কুল সু নয়।আমাদের ভাষায় চরম বখাটে লুক তার। আমার বুঝতে আর বাকি রইল না ঘটনাটা কি ঘটতে চলেছে। আমি দ্রুত তার কাছে যাই এবং বাইকের কাছে এনে জিজ্ঞেস করি ভাইয়া কি করছিলে তুমি আড়ালে দাঁড়িয়ে?

সে আমাকে প্রতি উত্তর দিলো “বাইক থামিয়ে আপনার টাকা নেয়ার দৃশ্য ধারন করছিলাম এবং এটা ফেসবুকে ইউটিউবে আপলোড করে জনতাকে দেখাব পুলিশ কিভাবে ঘুষ যাচ্ছে।”

কথা শুনে উবারের ভাইজান জিব্বায় কামড় কাটলেন আর আমার মনে হল আমার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেল।

ব্যক্তিগত ভাবে আমি প্রচন্ড মাত্রার বদরাগী।

সাথে সাথে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে এনে খুব করুন সুরে বললাম ভাইয়া আমি তো উবারের ভাড়া দিচ্ছি আমার সাথে ওই ভাইজান ও বলল কিন্তু তাতেও ওই ছেলেটির বিশ্বাস হল না।

মূহুর্তের ভিতরে সে আবার ফোন বের করে ভিভিও করছে এবং গলা ফাটিয়ে ফাটিয়ে বলতে লাগল “দেখুন পুলিশের কুকর্ম প্রকাশ্যে টাকা নিচ্ছে মটর সাইকেল চালকদের কাছ থেকে……… (নানান কথা) ” সাথে সাথে শত শত লোক জমা হয়ে গেল ভীড় জমে গেলো এ যেনো এক সাপ বেজির খেলা।

আমরা দুই জন লোক কিছুতেই বুঝাতেই পারছিলাম না যে আসল ঘটনা টা কি।ছেলেটির অকাট্য বিশ্বাস বাইক চালক আমার ভয়ে এখন আর স্বীকার করছে না যে আমি তার থেকে টাকা নিচ্ছিলাম।

বাধ্য হয়েই ছেলেটির হাত থেকে ফোন কেড়ে নিলাম।

উবারের ভাইজানও নিজের গা বাচাতে চলে যাবার পাঁয়তারা করছে। আমি তারও বাইকের চাবি ও ফোন নিয়ে এক চায়ের দোকানে বসালাম। লোকের ভীড় পিছুই ছাড়ছে না। এর ভিতরে দেখি সেই ছেলেটির আরো কিছু বখাটে বন্ধু এসে হাজির তাদের ও ওই একই অবস্থা পোশাক পরিচ্ছেদের। ব্যাপারটা আরো ঘোলাটে হয়েই যাচ্ছে। আমি উপায়ান্তর না পেয়ে থানায় কল দেই কারন পরিবেশ কিছুতেই শান্ত হচ্ছিল না। কিছুক্ষন বাদে থানার পুলিশ এলো আমি আমার ফোন বের করে দেখাই আমার উবার এ্যাপের প্রুফ এবং সব খুলে বলি উবারের ভাইজান ও বুঝিয়ে বললেন। ওই ছেলে টারও ফোনের ভিডিও দেখলেন স্যার।

স্যার-ও বুঝতে পারলেন ঘটনা টা। তিনি শুধু জানতে চাইলেন কি চাই আমি?

“আমি এক কথায় উত্তর দেই মমালা করতে চাই।”

যাইহোক পরে ছেলের বাবা আসে থানায় আমি আর মামলা দেই নি কারন জেল কি ভয়ানক তা পুলিশের চেয়ে ভালো কেউ জানে না। ১৪ দিন জেলে থাকলে এ ছেলের জীবন শেষ এ টা নিশ্চিত কিন্তু আজ যদি আমার এই ভিডিও ভাইরাল হত আমার চাকরীও যে শেষ হত এটাও নিশ্চিত।

আসলে ঘটনা কি ছিল আর বানালো কি ছেলেটা।

সব শেষে সবার উদ্দেশ্যে একটা কথাই বলব না জেনে না বুঝে নিশ্চিত না হয়ে কখনই পুলিশ বা আর্মি, নেভি, এয়ারফোর্স বা এমন কোনো সংস্থার নামে ফেসবুকে খারাপ কিছু বলতে যাবে না। এটা আপনার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়াবে। আপনি নিশ্চিত হন প্রমান সহ অভিযোগ দিন কিন্তু লাইক, কমেন্টের, আশায় বা একটু ফেমাস হবার আশায় এমন ভুল করবেন না।

এমন অনেক দেখেছি মিথ্যা পোষ্ট পুলিশের নামে।পরে যারা এই কাজ করেছে তাদের ঠিকানা জেলেই হয়েছে। কারন পুলিশের নামে যেকোনো পোষ্ট খুব দ্রুত ভাইরাল হয় আর পুলিশকে গালাগালি করে অন্যরকম পৈচাশিক মজা পায় জনগন।

আজ নিজেই এই মিথ্যা পোষ্টের শিকার হতে যাচ্ছিলাম আমি। আমার চাকরী যেতো আমার পরিবার মুখ দেখাতে পারতো না সমাজে। বেঁচে থেকেও আমি লাশ হয়ে যেতাম শুধু মাত্র লাইক, কমেন্টের নেশায় ভাইরাল হবার নেশায় আর আমি যদি আজ সত্যিই মামলা দিতাম তাহলে কি হত ছেলেটার?

সবার প্রতি অনুরোধ,লাইক কমেন্ট শেয়ার আপলোড এসবে সর্বোচ্চ সর্বোচ্চ সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করুন।

এই ঘটনাটি ফেসবুকে যথেষ্ট সাড়া জাগায়। বেশিরভাগ মানুষের ধারণা এটি একটি নিছক গল্প। গল্পকার গল্প ফেঁদে পুলিশের দুর্নিতী আর-ও উস্কে দিয়েছে। এখন যাতে কেউ তাদের ঘুষের লেনদেনের ঘটনা ভিডিও করলে এটি একটি ভুল বলে চালিয়ে দেয়া যায়।

আমরা ঘটনার সত্যতা উদঘাটনের চেষ্টা করে পুরোপুরি ব্যর্থ হই।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840