সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
বংশধর (ছোটগল্প) আখতার বানু শেফালি

বংশধর (ছোটগল্প) আখতার বানু শেফালি

বংশধর- আখতার বানু শেফালি
বংশধর- আখতার বানু শেফালি

কি ভয়ানক স্রোত নদীতে তার উপর সকাল থেকেই থেকে থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। সকাল পর্যন্ত তার বাড়ীটা টিকবে বলে মনে হচ্ছে না সোমেশের। একটা বিরাট পেট নিয়ে ঘর থেকে জিনিস পত্র সরাচ্ছে তার বউ জয়গুন। কয়টা জিনিস আর সে সরাতে পারবে? একটু বড় জিনিস গুলো সরানের কোন উপায় নাই। কারন তার সাথে কে ধরবে বড় জিনিস? সবাই যার যার জিনিস সরাতে ব্যস্ত। কেউ কেউ ঘরও ভেঙে সরিয়ে নিচ্ছে, বউ ছেলে পেলের সাহায্যে।

একটি দুরে গাছের নীচে বসে দেখছে সোমেশ। ঘরটা তার কাছে বড় না বড় তার ভিটাটা। ভিটাটা নদীতে হারিয়ে গেলে এই পৃথিবীতে তার আর কোন ঠিকানা থাকবে না। ঠিকানা ছাড়া মানুষের কি মূল্য আছে দুনিয়ায়? তার বাপ দাদা, তার পূর্ব পুরুষের ভিটাই যদি না থাকে, তার নিজের বা তার বংশধরের বেঁচে থেকে কি লাভ?

প্রথম যখন শুনলো জয়গুনের বিয়ের দশ বছর পর বাচ্চা হবে কি খুশী না হয়েছিলো সে। আহা তার পূর্ব পুরুষের ভিটেবাড়ীতে হাসবে খেলবে বেড়ে উঠবে তার বংশধর। যেদিন থেকে সোমেশ বুঝতে পেরেছে তার ভিটেমাটি চলে যাবে নদীতে সেদিন থেকে তার বাচ্চার প্রতি সে কোন টান অনুভব করছে না সে।

কতো বড়লোক কোটিপতি পাটের ব্যাপারীকে সে নিজে চোখে দেখেছে ভিক্ষা করতে নদী তার সব কেঁড়ে নেওয়ার পরে। ডাকাত বা চোরে সব নিলেও ঘর আর ভিটেমাটি থেকে যায়, আগুনে সব পুড়ে গেলেও ভিটে থেকে যায়,মানুষ নতুন করে স্বপ্ন বোনে ঘর বাঁধে বাপদাদার চৌদ্দ পুরুষের ভিটায়।

নদী যার সব কেড়ে নেয় সে হয় সর্বহারা ভিক্ষুক। সোমেশ কয়েকদিন যাবত কল্পনায় দেখছে জয়গুন একটি ছোট শিশু নিয়ে বাজারে ভিক্ষায় বেড়িয়েছে মানুষ তাকে দুরছাই করছে,দৃশ্যটি দেখে তার বুকের ভিতর কষ্টে মােচড় দিয়ে উঠেছে। তাছাড়া এই করোনাকালে তাকে গরীব মানুষেরা ভিক্ষাই বা দিবে কোথা থেকে। সে নিজে তাগড়া জোয়ান সে খাটলে পাঁচজনকে বসিয়ে খাওয়াতে পারে কিন্তু তার জন্য কাজ কোথায়? করোনায় যারা সামান্য কিছু করে খেত তারাও এখন বেকার।

জয়গুন সবশেষ পোটলাটা আনতে গেছে, এর আগে বড় পোটলাগুলো সোমেশই নিয়ে এসেছে এই গাছ তলায়। জয়গুনের হঠাৎ মনে পড়ছে তার ছেলের জন্য ফুলতোলা সেলাই করা কাঁথা গুলি ঘরের ধন্নার উপর রাখা আছে আনা হয় নাই। না করা সত্বেও দৌড়ে গেছে কাঁথা আনতে। অন্ধকারে বিদ্যুত চমকের আলোয় সোমেশ দেখলো গায়ের শেষ বাড়ীটাও নদীতে চলে গেলো। কিন্তু জয়গুন কেন ফিরছে না? সেওকি তবে তার ঘরের সাথে ভিটার সাথে তার বংশধরকে নিয়ে নদীর বুকে চলে গেলো?

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840