সংবাদ শিরোনাম:
দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকার সেরা অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন ‘ভোট জালিয়াতি’ তদন্তের নির্দেশ চট্টগ্রামে গলায় ছুরি ধরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ধর্ষকদের বাঁচাতে কাউন্সিলরপ্রার্থী বেলালের দৌড়ঝাঁপ নারী নির্যাতন মামলায় বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের বিবাহিত সভাপতি মাহবুব হোসেন কারাগারে দুই নবজাতকের লাশ নিয়ে হাইকোর্টে বাবা কনস্টেবলকে মারধর, শ্রমিকলীগ নেতার স্ত্রী কারাগারে অবক্ষয় থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে চলচ্চিত্রের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে- তথ্যমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2020 কর কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২০ ৯ দিনে করোনা জয়ী তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
বরিশালে ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক হাজার কোটি টাকার সরকারি জমি বেদখল

বরিশালে ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক হাজার কোটি টাকার সরকারি জমি বেদখল

সুরুজ চেয়ারম্যানের দুর্নিতীর চিত্র
সুরুজ চেয়ারম্যানের দুর্নিতীর চিত্র

বরিশালের তালতলী বাজার এলাকায় গণপূর্ত বিভাগের ৯ একরের বেশি জমি স্বনামে বেনামে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাতাব হোসেন সুরুজ দখল করেছেন। এ জমির বাজারমূল্য ১০০ কোটি টাকার বেশি বলে গণপূর্ত বিভাগের এক কর্মকর্তার কাছ থেকে জানা গেছে।

বেশ কয়েক বছর ধরে বিপুল পরিমাণ জমি দখলে নেন সুরুজ। গত বুধবার গণপূর্ত বিভাগ দখলদারদের যে তালিকা জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করেছে। সেখানে সুরুজ ছাড়াও তার ভাই এবং আওয়ামী লীগের কমপক্ষে ১৫ জন নেতার নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই প্রকৃতপক্ষে ভাড়াটিয়া।

সরকারি জমিতে বালু ভরাট করে গরুর হাট ও অস্থায়ী বাজার বসানো দিয়ে সুরুজ দখলদারী শুরু করেন। তিনটি পুকুর দখল করে মাছ চাষ ছাড়াও অস্থায়ী দুই শতাধিক দোকান তুলে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। গণপূর্তের নীচের দিকের কর্মকর্তারা সব কিছুই জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলীকে।

স্থায়ী স্থাপনা ও মাছ বাজার করার সময়ও খুব কড়া ভাবে নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছিল কিন্তু তিনি নীরব ছিলেন, কোন ব্যবস্থা নেয়া তো দূরের কথা, কর্ণপাতই করেন নি। এরাকাবাসী এবং গণপূর্তের একাধিক কর্মকর্তার দাবী তাকে ম্যানেজ করেই সব কিছু হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তালতলী বাজার এলাকার বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, সব জমিই চেয়ারম্যান ও তাঁর স্বজনদের দখলে। গণপূর্ত বিভাগ ভাড়াটিয়াদেরও দখলদার হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এ কারণে তাদের তালিকায় দখলদারের সংখ্যা ৫২। চেয়ারম্যানের স্বজন বলতে কারা তা খোঁজ নিয়ে দেখা যায় সব চেয়ারম্যানের নিজস্ব গুন্ডা বাহিনীর সদস্য। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গণপূর্ত বিভাগ সরেজমিনে এস ভাড়াটিয়াা বা দখলদারদের তালিকা তৈরি করেন না। চেয়ারম্যানের কাছ থেকেই গণপূর্ত বিভাগ তালিকা নেয়।সহজেই অনুমেয় কেমন তালিকা হবে সেটি।

সুরুজের দাবী গণপূর্তের খালি জমিতে তার কয়েকটি দোকান রয়েছে। এর বাইরে কিছু নয়। সে কোন দখল করেন।
চরবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্গত তালতলী বাজারটি প্রায় ২০০ বছরের পুরনো। ওই বাজারের ৫০০ ব্যবসায়ীর জন্য প্রায় চব্বিশ বছর আগে দুটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করে দেয় জেলা পরিষদ। জেলা পরিষদ টয়লেট দুটি গণপূর্তের জমিতেই তৈরি করে। গণপূর্ত বিভাগ বাধা দেয়নি।

তিন মাস আগে টয়লেট দুটি ভেঙে ফেলেন ইউপি চেয়ারম্যান সুরুজ। প্রায় এক একর জমির ওপর চারতলা মার্কেট এর ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করেন। এরই মধ্যে একতলার কাজ শেষ। রাস্তার পাশের পাঁচটি দোকান ভাড়াও চলছে।

এর আগে সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) কাছ থেকে সাড়ে আট লাখ টাকা বরাদ্দ এনে সেখানে একটি মাছ বাজার বানানোর কাজ শুরু করেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে চলে আসে। ফলে কাজটি স্থগিত থাকে বেশ কিছু দিন। পরে কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে দুই মাস আগে কাজটি শেষ করেন সুরুজ বাহিনী । বাজারের প্রায় ৫০টি দোকান থেকে নিয়মিত ভাড়া তোলেন চেয়ারম্যান সুরুজ।

তালতলী বাজারে গিয়ে তথ্য পাওয়া যায়, সদর উপজেলার চরবাড়িয়া মৌজার ৪১ নম্বর জেএলের ৩ নম্বর খতিয়ানের (দাগ নম্বর ১৭৭, ১৭৮, ১৮১, ২৪৪, ২৪৫ ও ২৪৬) গণপূর্ত বিভাগের ৯ একর ১৫ শতাংশ জমিই বেদখল হয়ে গেছে। আগের জরিপে গণপূর্ত বিভাগের নামে পুরো জমিটিই রেকর্ড হয়েছিল। যার পুরোটাই রয়েছে চেয়ারম্যান সুরুজের দখলে।

বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অলিবার বলেন, ‘আমরা দখলের বিষয়ে অনেক আগে থেকেই মন্ত্রণালয়ে অবহিত করেছি। তারা আমাদের ওই দখলদারদের উচ্ছেদে কোনো নির্দেশনা দেয়নি। দখল হয়ে যাওয়া জমির সীমানা নির্ধারণ এবং উদ্ধার জেলা প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়ের সহায়তা না পেলে সম্ভব নয়।”

অপরদিকে জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান এর থেকে জানা যায় গণপূর্ত বিভাগ তাদের জমি বেদখলের বিষয়ে আদৌ অবহিত করেনি। অবহিত করলে অবশ্যই উচ্ছেদের ব্যবস্থা নিত জেলা প্রশাসন।

সুরুজ জমি দখলের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বিকার করেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840