সংবাদ শিরোনাম:
বিবস্ত্র করে নির্যাতন: চার বিশিষ্টজনের প্রতিক্রিয়া মিন্নি সর্বশেষ সংবাদ টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন
বলাৎকার ধামাচাপা দিতেই গলাকেটে হত্যা

বলাৎকার ধামাচাপা দিতেই গলাকেটে হত্যা

doinik71
doinik71

চুয়াডাঙ্গায় মাদ্রাসাছাত্র আবির হুসাইন, যার বয়স হয়েছিল এগারো। পড়তেন দ্বিতীয় শ্রেণিতে। মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ের গুজবের সঙ্গে কোনো মিল নেই। প্রকৃত ঘটনা হলো বলাৎকারের পর তা ধামাচাপা দিতেই গলাকেটে হত্যা করে কেটে ফেলা মাথা গুম করা হয়েছে। অথচ ফেসবুক সহ সকল পর্যায়ে প্রচার চালানো হয় পদ্মাসেতুতে আবিরের মাথা ব্যবহার হয়েছে।

মূলত বলাৎকারের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ‘ছেলেধরা’ নিয়ে গেছে বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করে ঘাতক/ ঘাতকরা। ২৪ শে জুলাই বুধবার রাতে এসব তথ্য জানান চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান। মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই মাঠে নেমেছে পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট। দিনভর অভিযান ও তদন্ত চালিয়ে পুলিশ পেয়েছে চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য।

পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদ্রাসার পাঁচ শিক্ষককে আটক করেছে। বুধবার সন্ধ্যায় তাদের আটক করা হয়। আটকের পর তাদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার কয়রাডাঙ্গা গ্রামে কয়েক বছর আগে স্থানীয় বিত্তশালীদের আর্থিক সহযোগিতায় গড়ে তোলা হয় একটি মাদ্রাসা ও এতিমখানা। মাদ্রাসাটির নাম দেওয়া হয় নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা। বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে অধ্যায়নরত রয়েছে একাত্তর জন শিক্ষার্থী। চুয়াডাঙ্গা জেলা বাদেও আশপাশের জেলাগুলো থেকে অধ্যায়নরত আছে বেশ কিছু ছাত্র।মাদ্রাসাটি অল্প সময়েই বেশ সুনাম কুড়াচ্ছে।

মাহবুবুর রহমান বলেন, মাদ্রাসাছাত্রের হত্যার নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে।

তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ের গুজবের সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের কোনো সর্ম্পক নেই তবে সুকৌশলে হত্যার ঘটনাটি ভিন্নখাতে দিতেই নিহত ওই ছাত্রের মাথা কেটে গুম করা হয়েছে। পদ্মাসেতুর জন্য ওই ছাত্রের মাথা কেটে নিয়ে গেছে বলেও স্যোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচারণা চালানো হয়েছে।যারা ঘটনাটি ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করেছে আমরা তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি।

প্রকৃত ঘটনা হলো ওই ছাত্রের ওপর দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতন চালানো হচ্ছিলো। যৌন নির্যাতনের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতেই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে ওই ছাত্রকে। ময়নাতদন্ত রির্পোটেও এ বিষয়টি উঠে এসেছে বলে নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল মাদ্রাসাটির ৫ শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। আটক শিক্ষকদের হাতের ছাপ সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে ঢাকাতে। অনুমান করা হচ্ছে তারাই জড়িত।

মাদ্রাসাটির মুহতামিম মুফতি আবু হানিফ জানান, ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে আবির হুসাইন প্রায় এক বছর আগে এই মাদ্রাসাতে ভর্তি হয়। তার মা কমেলা খাতুন তাকে ভর্তি করান। বর্তমানে আবির হুসাইন মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াশুনা করতো।

মুফতি আবু হানিফের মতে, মঙ্গলবার এশার নামাজের একটু আগে থেকে আবির হুসাইন নিখোঁজ হয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় গ্রামের বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরপর সকালে গ্রামবাসী মাদ্রাসার অদূরে একটি আম বাগানের ভেতরে আবিরের মাথাবিহীন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে।

আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান মুন্সি জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে সকাল ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কানাই লাল সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. কলিমুল্লাহসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। খুবই গুরুত্বের সাথে মামলাটি দেখছে পুলিশ।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশ নিহত ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠাতে গেলে উত্তেজিত হয়ে ওঠে গ্রামবাসী। তারা মাদ্রাসা ছাত্র আবিরের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান গ্রামবাসীদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে গ্রামবাসীকে শান্ত থাকারও অনুরোধ জানানো হয়। আশ্বাস দেওয়া হয় ঘাতককে চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার। গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে কল্লাকাটার সত্যতিা নিয়ে ফলে পুলিশ সবাইকে সতর্ক করেন।

কয়রাডাঙ্গা গ্রামে মাদ্রাসা ছাত্রের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধারের পর গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মাদ্রাসা থেকে ছাত্রদের তাদের অভিভাবকরা নিজ নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। এখন পাঠদান কার্যকম স্থগিত রয়েছে।

সদর হাসপাতালের এক চিকিৎসকের ময়নাতদন্তের বর্ণনা দিয়ে মো. কলিমুল্লাহ বলেন, ওই ছাত্রের ওপর দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতন চালানো হতো।নির্যাতনের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। একই সঙ্গে সুকৌশলে হত্যার ঘটনাটি ভিন্নখাতে দিতে নিহত ওই ছাত্রের মাথা কেটে গুম করা হয়েছে। পদ্মাসেতুর জন্য ওই ছাত্রের মাথা কেটে নিয়ে গেছে বলেও স্যোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচারণা চালানো হয়েছে। নেপথ্যে কাজ করেছে চিহ্নিত একটি গোষ্ঠী। সব বিষয়গুলো মাথায় রেখেই আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে মাদ্রাসার দায়িত্বরত ৫ শিক্ষককে। তাদের কাছ থেকেও অনেক তথ্য মিলেছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. শামীম কবির জানান, প্রাথমিকভাবে মলদ্বারের ক্ষত ও আঘাতের চিহ্ন দেখে মনে হয়েছে তাকে বেশ কিছুদিন ধরে বলাৎকার করে আসা হচ্ছিলো। বিষয়টি আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডিএনএ টেস্ট ও নিহতের শরীরের সোয়াব সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ঢাকা থেকে রিপোর্ট পেলেই চূড়ান্তভাবে সব বলা সম্ভব।

অপরদিকে, বিকেলে র‌্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটালিয়ন এর সদর দপ্তর থেকে হেলিকপ্টারে করে ডগ স্কোয়াড নিয়ে একটি বিশেষ টিম চুয়াডাঙ্গায় পৌঁছে। ৫ সদস্যর ওই টিমে ছিল দু’টি ডগ স্কোয়াড। টিমের সদস্যরা সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত ঘটনাস্থলসহ আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা অনুসন্ধান চালিয়েও নিহত মাদ্রাসা ছাত্রের কেটে ফেলা মাথা উদ্ধারে ব্যর্থ হয়। টিমটি তাদের অনুসন্ধান অব্যাহত রখেছে।

দলটির প্রধান ঝিনাইদহ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মাসুদ আলম জানান, সাম্প্রতিক সময়ে গুজবের সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক নেই। মাদ্রাসাছাত্র আবির হুসাইনকে হত্যার পর অত্যন্ত কৌশলে সাম্প্রতিক গুজবে রুপ দিতে কাজ করেছে হত্যাকারীরা। তবে আমরা তৎপর বিষয়টির সুষ্ঠু ও সঠিক তদন্ত হচ্ছে। আমরা বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করেই ছাড়বো।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840