সংবাদ শিরোনাম:
বাংলাদেশ ভারতে ইলিশ উপহার পাঠিয়েছে! সত্যতা কতোটুকু?

বাংলাদেশ ভারতে ইলিশ উপহার পাঠিয়েছে! সত্যতা কতোটুকু?

ইলিশ উপহার
ইলিশ উপহার/ভারতকে বাংলাদেশের ইলিশ উপহার

ভাইরাল নিউজের দেশ বাংলাদেশ, দু-একদিন পরপর বিভিন্ন ভাইরাল বিষয় সামনে আসে আর ফেসবুকে সয়লাব হয়ে ঢেকে যায় পুরো বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সরকার প্রদান মোদিকে পাঁচশত টন ইলিশ উপহার দিয়েছে দুর্গা পূজা উপলক্ষ্যে সারা বাংলাদেশের মানুষের বর্তমান সময়ের মুখরোচক ফেসবুকের ভাইরাল সংবাদ এটি।

বাংলাদেশ সরকার যেন মোদির পরিবারবর্গকে পূজা উপলক্ষ্যে এক বেলার খাবার হিসেবে উপহার দিয়েছেন এমনভাবেই উপস্থাপিত গোটা বাংলাদেশে বিষয়টি কিন্তু আসলে কি আছে এর নেপথ্যে। আসলেই কি ইলিশ পুজার উপহার! সাধারণ জনমনে এই প্রশ্নই উপস্থাপিত হচ্ছে। একদল মানুষের প্রচেষ্টায় আবার অনেকে বিশ্বাস করে এই সংবাদটি ছড়াচ্ছেন সবার মাঝে।

২০১২ সাল থেকে শেখ হাসিনা সরকার ভারতে ইলিশ রপ্তানী বন্ধ রেখেছেন। এটা ওপেন সিক্রেট ঝামেলাটা মমতা’র সাথে বর্তমান সরকারের। তিস্তার পানি বন্টন নিয়ে মমতার ঝামেলার কারণে। ২০১২ এর আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ৫০০০ থেকে ৮০০০ টন ইলিশ রপ্তানী হতো। প্রায় তিন বিলিয়ন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতো। তিস্তা পানি বন্টন চুক্তিতে মমতার হস্তক্ষেপে বাংলাদেশ ন্যায্যা হিসসা থেকে বঞ্চিত হয়। বাংলাদেশ এর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, “পানি আসলে ইলিশ যাবে।”

ভারত বাংলাদেশে ঢুকে মাছ নিয়ে যাচ্ছে না, হাসিনাও জোর করে মাছ পাঠাচ্ছে না। বাংলাদেশ ফিশ এক্সপোর্টার্স এর এসোসিয়েশন সেক্রেটারি কাজী আবদুল মান্নান এর অনুরোধের ফলে বাংলাদেশ সরকার সাময়িক অনুমতি দিয়েছে। অতিরিক্ত ইলিশ ধরা পরার ফলে জেলেরা যেমন প্রকৃত দাম পাচ্ছে না তেমনি দেশের চাহিদা পূরণ করে রপ্তানি করা আবশ্যক সেটাই সরকারকে বুঝাতে সমর্থ হোন কাজী আব্দুল মান্নান।

ফলশ্রুতিতে সেপ্টেম্বর ২৮ থেকে অক্টোবর ১০ পর্যন্ত আর বাংলাদেশের সরকার ভারতে ইলিশ রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেন।

ফেসবুক চিন্তাবিদগণ যে শব্দটাকে ‘উপহার’ বলে ব্যবহার করছে, শব্দটি টাইমস অফ ইন্ডিয়াতে বাংলাদেশ ফিশ এক্সপোর্টার্স এর আরেক এসোসিয়েশন সেক্রেটারি সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ এর বরাতে ছাপানো হয়েছে ‘গুডউইল জেসচার’ বলে।

প্রকৃত অর্থে এটি উপহার নয় ইলিশ রপ্তানি যা এই দেশের রূপালী সম্পদ। অপরদিকে বাংলাদেশ সরকার পানি বন্টন নিয়ে মতবিরোধের জের ধরে ইলিশ রপ্তানি করে আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে গত সাত টি বছর।

ভারত কখনো ইলিশ চায়নি কারন বাংলাদেশ পানির ন্যায্যা হিসসা চাইবে। ভারত ইলিশ পেয়ে খুশি সাত বছর পর। বাংলাদেশ রপ্তানি করতে পেরেও খুশি। বিষয়টা দুই পক্ষের সম্পর্কের ফাটলকে জোড়া লাগাতে সহায়ক হবে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

বাংলাদেশের চেয়ে দুই গুণ বেশি দামে ভারতে ইলিশ রপ্তানি হয়েছে। এর মাধ্যমে জেলে থেকে ব্যবসায়ী, সরকার সকলেই আর্থিক ভাবে লাভবান হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ মাছ বাংলাদেশের বাজারে সয়লাভ হলে ইলিশের দাম আর-ও কমে যেতো। এতে করে জেলে থেকে কারবারী এবং সরকার সকল পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে সরকার বিরোধী একটা মহল সব সময় মুখিয়ে থাকে সরকারের কুৎসা রটনোর জন্য। যারা প্রচার করেছে পাঁচ শত টন ইলিশ প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপূজায় উপহার হিসেবে পাঠিয়েছেন। আসলে যা উপহার নয়, রপতানি করেছেন। উপহারের বিনিময়ে কখনো কেউ মূল্য গ্রহণ করে না, তাহলে বাংলাদেশের জেলে-ব্যবসায়ী-সরকার ভারতের থেকে মূল্য গ্রহণ করছে কেন?

সরকারের একের পর এক উন্নয়নের পালক যুক্ত হচ্ছে। বর্তমান সরকার প্রতিনিয়তই ‍যুগোপযোগি একের পর এক কাজ করে ছাড়িয়ে যাচ্ছে নিজেকেই। সেই কাজগুলোর পথে বাধার সৃষ্টি করে দেশের উন্নয়নকে ব্যহত করাই বিরোধী দলের কাজ বলে মন্তব্য করেন আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীরা।

ফেসবুকের সুবাধে গুজব রটায় ভারত পাঁচ শত টন মাছ উপহার পেয়ে বাংলাদেশকে সীমান্তে আট জনের মৃত দেহ উপহার দিয়েছে আবার কেউ কেউ বলেছেন বিএসএফ বাংলাদেশের সাত জন নাগরিক ধরে নিয়ে গেছেন। প্রকৃত অর্থে রপ্তানির মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাবে সেটাই একটা মহল সহ্য করতে পারছে না।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840