সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
বাবার কোলেই তুহিনকে জবাই করেন চাচা ও চাচাত ভাই

বাবার কোলেই তুহিনকে জবাই করেন চাচা ও চাচাত ভাই

তুহিন হত্যা
তুহিন হত্যা

সিলেটের সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার নাম শাহ আব্দুল করিমের কারনে সবারই জানা। সেই দিরাই এবার সবার মুখে মুখে অন্য কারনে। দিরাইর রাজানগর ইউনিয়নের কেজাউড়া গ্রামে সাড়ে পাঁচ বছরের শিশু তুহিনকে রবিবার দিবাগত রাতে শিশুটিকে ঘুম থেকে কোলে তুলে বাইরে বের হন খুনি বাবা আব্দুল বাছির। পরে চাচা নাসির ও বাবা মিলে তাকে নৃশংস কায়দায় গলা কেটে হত্যা করেন।

শিশুটির মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ছুরি দিয়ে দুই কান ও যৌনাঙ্গ কেটে ফেলা হয়। পরে ছুরিবিদ্ধ মৃতদেহ কদমগাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। তিনি জানান, হাতের ছাপ ও ছুরির বাঁটের লেখা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রাসায়নিক পরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে কে বাঁটে লিখেছেন। বেশি সময় লাগবে না। খুব দ্রুত মামলাটির রহস্য উন্মোচিত হবে।

গলা কেটে হত্যা করেন বাবা আব্দুল বাছির ও চাচা নাসির। ঘাতকরা নির্মম ভাবে পরে দুটি কান ও পুরুষাঙ্গ পর্যন্ত ফেলেন। আর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ছুরির বাঁটে প্রতিপক্ষের সালাতুল ও সোলেমানের নাম লিখে পেটে বিদ্ধ করে লাশ গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন। পুরো পুরি পৈশাচিক ও বর্বর কায়দায় কাজটি করেন তারা। ঘটনার বিবরণে মনে হয় এ যেন কোন লোমহর্ষক ক্রাইম নির্ভর সিনেমার গল্প।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ সদরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন।

গ্রামের সাবেক মেম্বার আনোয়ার হোসেন, তাঁর সহযোগী সালাতুল, সোলেমানসহ প্রতিপক্ষদের ফাঁসাতেই পরিকল্পিতভাবে এমন জঘন্য, নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

প্রায় এক যুগ আগে কবীর মিয়া ও নিলুফার নামের দুই ব্যক্তির খুনের ঘটনায় নিহত তুহিনের বাবা আব্দুল বাছির ও চাচারা আসামি। গত সোমবার ওই মামলায় যুক্তিতর্কের দিন ধার্য ছিল। মামলাটিতে তাদের হারের সম্ভাবনা দেখা দেয়ায় তার পূর্বের রাতে তারা এমন একটি ঘটনা ঘটান যাতে তাদের বিরোধীপক্ষ এই অভিযোগে কুপোঘাত হন।

মিজানুর রহমান বলেন “ বাবার কোল যদি সন্তানের জন্য নিরাপদ না হয় তাহলে আর কোথায় নিরাপদ রবে? তুহিনকে জবাই করার সময় সে বাবার কোলেই ছিল। শিশু তুহিনকে বাবা ঘুমন্ত অবস্থায় কোলে তুলে বাহিরে নিয়ে আসেন। তারপর তার চাচা ও চাচাতো ভাই মিলে বাবার কোলেই জবাই করেন। ১৬৪ দ্বারা মোতাবেক স্বিকারোক্তি মূলক জবানবন্ধি দিয়েছেন নিহত তুহিনের চাচা।

সোমবার রাতে নিহত শিশুটির মায়ের করা মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ১০ জনকে আসামি করে দিরাই থানায় হত্যা মামলা করা হয়। এই মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার যখন দেখতে পান ছুড়ির বাঁটে উক্ত শিশু পুত্রের বাবার শত্রুদের নাম খোদাই করা তখন তিনি শিশুর বাবাকে সন্দেহ করেন। এরই জের ধরে জিঙ্গাসাবাদ শুরু করেন।

জিঙ্গাসাবাদে বেরিয়ে আসে নিহত তুহিনের বাবা একজন খুনি। তার নামে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। একটি মামলায় কোনভাবেই জেতার সুযোগ না থাকায় মামলাটি অন্য দিকে ধাবিত করতেই এমন ঘুণ্য সিদ্ধান্ত নেন সে।

এপর্যন্ত নিহত তুহিনের বাবা ছাড়াও তিন চাচা ও একজন চাচাত ভাইকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। চাচি ও চাচাত বোনকে প্রথমে গ্রেফতার দেখানো হলেও পুলিশের এই ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা মনে না হওয়ায় প্রাথমিক জিঙ্গাসাবাদ শেষে ছেড়ে দিয়েছেন।

গতকাল বিকেলে সুনামগঞ্জের বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খালেদ মিয়ার আদালতে চাচা নাসির ও চাচাতো ভাই শাহরিয়ার ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শ্যামকান্ত সিনহার আদালত বাবা আব্দুল বাছির, দুই চাচা জমসেদ ও আব্দুল মোছাব্বেরকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রবিবার রাতে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। সোমবার দুপুরে সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুহিনের বাবা, তিন চাচা, চাচাতো ভাই-বোন ও চাচিকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তাঁদের পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করার ফলে তারা ওই রাতেই শিকার করেন সত্যিকারের ঘটনা।

পুলিশ আসামীদের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করলেও আদালত তিন দিন মঞ্জুর করেন।

সাংবাদিকদের সামনেই বিচারক শিশুটির বাবা আব্দুল বাছিরকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির আহ্বান জানালে আব্দুল বাছির বলেন “ আমি এ ঘটনায় জড়িত নই।”

বিচারক তাঁকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনার ভাই ও ভাতিজা স্বিকারোক্তিমূলক জবানবন্ধি দিয়েছেন যা ১৬৪ দ্বারায় রেকর্ড হয়েছে। আপনারা পরিকল্পিতভাবে এমন নৃশংস ঘটনা ঘটিয়ে কখনোই বাঁচতে পারবেন না।” আদালত ঘটনার তথ্য বের করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে বাবা ও দুই চাচা মোট তিনজনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন “তুহিনের বাবা হত্যা মামলা ও লুট মামলার আসামি। গ্রাম্য কোন্দল, প্রতিপক্ষের প্রতি তীব্র আক্রোশ। কোন ভাবেই প্রতিপক্ষের সাথে পেরে না উঠার কারনে।

মামলার জের ধরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই পরিকল্পিতভাবে পরিবারের সদস্যরা শিশু তুহিনকে হত্যা করে।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840