সংবাদ শিরোনাম:
দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকার সেরা অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন ‘ভোট জালিয়াতি’ তদন্তের নির্দেশ চট্টগ্রামে গলায় ছুরি ধরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ধর্ষকদের বাঁচাতে কাউন্সিলরপ্রার্থী বেলালের দৌড়ঝাঁপ নারী নির্যাতন মামলায় বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের বিবাহিত সভাপতি মাহবুব হোসেন কারাগারে দুই নবজাতকের লাশ নিয়ে হাইকোর্টে বাবা কনস্টেবলকে মারধর, শ্রমিকলীগ নেতার স্ত্রী কারাগারে অবক্ষয় থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে চলচ্চিত্রের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে- তথ্যমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2020 কর কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২০ ৯ দিনে করোনা জয়ী তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
বাবা মায়ের আদর্শ ভূমিকা

বাবা মায়ের আদর্শ ভূমিকা

ফারজানা আলম
doinik71.com

জিবনের কোন একসময়ে সন্তানের হাত ছেড়ে দিতে হয় বাকি পথটুকু তার একার বলে ! সন্তানের মাথার উপরের ছায়াটা কোন একসময় সরিয়ে দিতে হয় যেন সে নিজের ছায়া তৈরী করতে পারে ! সন্তানের মঙ্গলের জন্যই এমনটা করতে হয়!

বাবা মায়ের চেয়ে ভালো সন্তানের জন্য কেউ চাইতে পারেনা, এতে সন্দেহ থাকার কোন কারন নেই।

সন্তানের জন্য ভালো চাওয়া, তার ভবিষ্যতের জন্য উদ্বিগ্ন হওয়া, তাকে ভালো মন্দ পথটুকু বেছে দেওয়া কিংবা সন্তানের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো আপনি নিয়ে নিলেন এবং প্রত্যেকটা কাজই করলেন আপনি তার ভালোর জন্য।

খেয়াল করে দেখুনতো সত্যিই ভালো হচ্ছে কিনা? আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি যেই সন্তানকে বড় হওয়ার পরও কোন দায়িত্ব দেওয়া হয়না সে সত্যিই দায়িত্বহীনই হয়! এমনকি তার বউ সন্তানের দায়িত্বও সে নিতে চায়না! তাদের আচরণ অনেকটা এমন তারা তো আছেই তাদের দেখার জন্য , আমার আর কি করার আছে! সেসময়টাতে আবার বাবা,মায়েরাই আবার বিরক্ত হয়, অভিযোগ করে সংসারে তার কোন অংশগ্রহণ নেই বলে।

এই অভ্যাসটা কিন্তু আপনিই করে দিয়েছেন তাকে জানিয়ে দিয়ে ” তোমার জন্য তোমাকে ভাবতে হবেনা ” এখন সে ভাবে তার বউ সন্তানের জন্যও তাকে ভাবতে হবেনা, তারা তো আছেই।

যে সন্তানকে সবসময় বলা হয় “তোমার ভালো তোমার চেয়েও বেশী আমরা বুঝি ” সে সত্যিই নিজের ভালো মন্দ বিচার করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে! তার জীবনের অনেকটা সময়ই কাটে পরর্নিভরশীলতায়! এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে সে এবং অস্তিত্ব সংকটে ভোগে একটা সময় পর ।

মেয়ে বিয়ে দেওয়ার পর সম্পর্কগুলো সব স্বাভাবিক জানার পরও সংসারের আদ্যোপান্তের সব কিছুতে প্রভাবিত করার ইচ্ছা এবং নিজের দৃষ্টিভঙ্গির পূর্ন প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা থাকে অনেক বাবা মায়ের। ফলশ্রুতিতে মেয়েটার সংসারী হতে, অচেনা পরিবেশ, সম্পর্কের সাথে মানিয়ে নিতে কেটে যায় প্রয়োজনের চেয়েও অনেকটা বেশী সময়।

অবশ্যই সন্তানের ভালো মন্দের খোঁজখবর রাখতে হবে, তাকে আশ্বস্ত করতে হবে তার যে কোন প্রয়োজনে আমরা পাশে আছি। তবুও একবার তাদের উপর ভরসা করে দেখুনই না “সে কতটা পারে” যতটা না পারে ততটার জন্য নাহয় এগিয়ে এলেন। জানতে দিন তার নিজেকে, গুছিয়ে নিতে দিন তার জগতকে তার মত করে।

বাবা, মা থেকে সন্তান আসলেও সে কিন্তু আলাদা একটা সত্তা হয়েই দুনিয়াতে আসে। সে হতে পারে কিছুটা আপনার মতো তবে পুরোটা আপনি নন, সে আলাদ একটা মানুষ । তার ভাবনাগুলো আপনাকে দিয়ে প্রভাবিত হতে পারে তবুও তার নিজের ভাবনা আছে আর সেই ভাবার রাস্তাটুকু যদি আপনি বন্ধ করে দিন সে নিজেই কখনো জানবে না সে কে?

শেষ জীবনে এসেও অনেক বাবা,মায়ের আফসোস করে বলতে হয় “আমি চলে গেলে তার যে কি হবে! ” এই কথাগুলো যে কতটা হতাশার আর অসহায়ত্বের সেটা তারা ছাড়া বুঝি কেউ আর জানবেনা! আপনি চলে যাবার পরও যেন তার জীবনটা থমকে না যায় সেজন্যই মাঝেমধ্যে তার হাতটা ছেড়ে দিন, কিভাবে বেঁচে থাকতে হয় জানতে দিন।

আপনি না থাকলেও যেন তার ছায়া তাকে ছেড়ে না যায় সেজন্য আপনার ছায়াটুকু সরিয়ে নিন, এমনটাও হতে পারে উল্টো সেই হবে আপনার জন্য নির্ভরতা।

অবশ্যই বাবা মা সন্তানের জন্য ভালো চায় তবে সব ভালো চাওয়ার কৌশল কিন্তু মঙ্গল বয়ে আনেনা। ভরসা করুন তার উপর, সাহস দিন মন্দ সময়ে, হয়ত আপনি যা আশা করেননি তাও করে ফেলবে সে। যে হাতে ধরে তাকে আপনি পথ চলা শিখিয়েছেন সেই হাতটাই একদিন শক্ত হবে সামর্থ বাড়বে আর আপনার কাধে ভরসার হাত রেখে জানান দিবে” চিন্তা কর কেন আমি আছি না।”

বাবামায়ের জন্য এরচেয়ে আনন্দের কি হতে পারে সন্তান তাকে ভরসা দিচ্ছে, আশ্বাস দিচ্ছে সে আছে তাদের সাথে।বাবামায়ের সন্তানের জন্য শ্রম, ত্যাগ, তিতিক্ষা কোনটাই প্রতিদান পাবার আশায় নয় সেটা আমরা মন থেকে বিশ্বাস করি। তবে অবশ্যই তারা সন্তান নিয়ে গর্ব করতে চায়! আর এর জন্য নাহয় ভাবনাগুলো একটু বদলাক যেন বাবামায়ের গর্ব করার রাস্তাটুকু আরেকটু প্রসস্থ হয়!!

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840