সংবাদ শিরোনাম:
দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকার সেরা অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন ‘ভোট জালিয়াতি’ তদন্তের নির্দেশ চট্টগ্রামে গলায় ছুরি ধরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ধর্ষকদের বাঁচাতে কাউন্সিলরপ্রার্থী বেলালের দৌড়ঝাঁপ নারী নির্যাতন মামলায় বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের বিবাহিত সভাপতি মাহবুব হোসেন কারাগারে দুই নবজাতকের লাশ নিয়ে হাইকোর্টে বাবা কনস্টেবলকে মারধর, শ্রমিকলীগ নেতার স্ত্রী কারাগারে অবক্ষয় থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে চলচ্চিত্রের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে- তথ্যমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2020 কর কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২০ ৯ দিনে করোনা জয়ী তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
বিএসএফ নিহত হওয়ায় ভারতের মিথ্যাচার

বিএসএফ নিহত হওয়ায় ভারতের মিথ্যাচার

বিজিবি/বিএসএফ/সীমান্ত/নিহত
বিজিবি/বিএসএফ/সীমান্ত/নিহত/বাংলাদেশ/ভারত/পদ্মায় ইলিশ

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অনৈতিকভাবে তারা ঢুকে পরে জোর করে জেলেদের ছিনিয়ে নিতে চাইলে যখন বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষাকারী বাহিনী বলে “তোমরাও যেতে পারবে না।” পতাকা বৈঠকের পর যাবে। তখন তারাই আগে (বিএসএফ) গুলি বর্ষণ শুরু করে এবং জেলেকে ছিনতাই করে নেয়ার চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে বিজিবি গুলি করলে দুইজন বিএসএফ আহত হয় পরে একজন মারা যায়।

ভারত, বিএসএফ ও ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম রীতিমত মিথ্যাচার করছে বিষয়টা নিয়ে। তারা বলছে পতাকা বৈঠকের কথা বলে নিয়ে গিয়ে গুলি চালিয়েছে। আসল পতাকা বৈঠক হয়েছে বিকেলে। তারা দাম্ভিক ছিল। তারা বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশ করে ক্ষমতা দেখাতে চেয়েছিল। বীর বিজিবি মাথা নত করেনি।

বাংলাদেশের কামন্ডেন্ট ফেরদৌস আহমেদ বলেছেন “আমরা মদ্যপ জাতি নই।” এতেই বুঝার কথা তিনি কি বুঝিয়েছেন। ভারত মিথ্যাচার করেই চলেছে। তারা মদ্যপ জাতি বুঝাতেই তিনি একথা বলেছেন।

বাংলাদেশের সীমানায় মাছ ধরার অপরাধে গ্রেফতারকৃত প্রণবকে ছাড়তে জোর প্রয়োগ করেন বিএসএফ। রাজি হয়নি বিজিবি। জলসীমায় বিজিবি ও বিএসএফের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। সেই সময়েই বিজিবি-র স্পিডবোটের সঙ্গে বিএসএফের স্পিডবোটের ইচ্ছাকৃত ধাক্কা লাগিয়ে বাংলাদেশ ও বিজিবিকে হেয় করে বিএসএফ কথা বলতে থাকে। বিজিবি-র আরও একটি বোট তাদের বোটের কাছাকাছি চলে আসে।

বিজিবি ঘিরে ফেলে। বিএসএফ জওয়ানেরা তখন ভয় পেয়ে যান। তিন জওয়ান দুই মাছ চোর জেলেকে নিয়েই পালানোর চেষ্টা করেন। তখন তারা বিজিবির উদ্দেশ্যে গুলি ছুড়েন।

বিজিবি-ও আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়েন। বিজয়ভানের মাথার ডান দিকে গুলি লাগে। উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা রাজবীর স্পিডবোট চালাচ্ছিলেন। গুলি লাগে তাঁর হাতে। সাগরপাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে বিজয়ভানকে মৃত ঘোষণা করা হয়। রাজবীরকে ভর্তি করা হয়েছে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালে। তাঁর চোট তেমন গুরুতর নয়।

ইলিশের প্রজননের মরসুম হওয়ায় বাংলাদেশের সব নদীতে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলছে। সে জন্যই নদীতে টহল দিচ্ছিল বিজিবি। তারা দেখে, বাংলাদেশের জলসীমার ভিতরে তিন ভারতীয় মৎস্যজীবী ইলিশ ধরছেন। তারা তাদের ধরতে চেষ্টা করেন।

তাঁদের মধ্যে দু’জন পালিয়ে যান, এক জনকে আটক করা হয়। বিজিবি-র অভিযোগ, দু’জন ফিরে গিয়ে বিএসএফকে ঘটনাটি জানালে তারা এসে আটক জেলেকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। কটূক্তিও করা হয় বিজিবিকে।

কাকমারি ফাঁড়ি থেকে স্পিডবোটে বিএসএফের ‘৪ জন’ জওয়ান বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ৭০০-৮০০ গজ ভিতরে ঢুকে পরেন। তাঁদের মধ্যে এক জন মাত্র ইউনিফর্ম পরিহিত ছিল, বাকিরা হাফপ্যান্ট ও গেঞ্জি পরে ছিলেন। তবে বিএসএফের দলটির সবার কাছে অস্ত্র ছিল।

বিজিবি তাদের বলে, আটক মৎস্যজীবীকে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে ফিরিয়ে দেয়া হবে কিন্তু বিএসএফের ওই দলটি রাজি হোন নি। অপরদিকে তারাও যেহেতু ‘অবৈধ ভাবে’ বাংলাদেশে ঢুকেছে, তাই তাদেরও ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে ভারতে হস্তান্তর করা হবে।

বিজিবি-র এই কথা শুনেই বিএসএফের দলটি পালাতে উদ্যত হয়। বিজিবি বাধা দিলে বিএসএফ জওয়ানেরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে বোটে করে ভারতের দিকে চলে যেতে থাকেন। তখনই বিজিবি আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়।

নিহত বিজয়ভান উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদের বাসিন্দা। তাঁর দুই ছেলে। অনেকে জেলেদের থেকে সুবিধা নিয়ে মাছ ধরার সুযোগ দেন। অনেকেই বলেছেন বিএসএফ আটক জেলেকে উদ্ধারে আসার কারন তারা উৎকোচ নিয়ে জেলেদের বাংলাদেশের সীমানায় মাছ ধরতে পাঠিয়েছিল। তাদের দায়বদ্ধতা ছিল।

প্রণব মন্ডল কে বিজিবি-র চারঘাট করিডোর সীমান্ত ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে বলে বিজিবি সূত্রের দাবি। বিজিবি সবসময়ই অতিথী পরায়ন। তারা কখনো ভারতীয়দের উপর কোন প্রকার অত্যাচার করেন না। এর আগেও বাংলাদেশ এরকম বহু নজীর দেখিয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘‘এমন একটি ঘটনার কথা শুনেছি। বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।’’

ভারত সরকার সরাসরি বাংলাদেশকে কিছু না বললেও বিজিবির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ভারতীয় আগ্রাসন  বন্ধে বাংলাদেশের এটি একটি সঙ্কেত।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840