সংবাদ শিরোনাম:
দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকার সেরা অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন ‘ভোট জালিয়াতি’ তদন্তের নির্দেশ চট্টগ্রামে গলায় ছুরি ধরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ধর্ষকদের বাঁচাতে কাউন্সিলরপ্রার্থী বেলালের দৌড়ঝাঁপ নারী নির্যাতন মামলায় বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের বিবাহিত সভাপতি মাহবুব হোসেন কারাগারে দুই নবজাতকের লাশ নিয়ে হাইকোর্টে বাবা কনস্টেবলকে মারধর, শ্রমিকলীগ নেতার স্ত্রী কারাগারে অবক্ষয় থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে চলচ্চিত্রের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে- তথ্যমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2020 কর কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২০ ৯ দিনে করোনা জয়ী তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
বিপুল খন্দকার সুস্থ্যধারার সাংস্কৃতিক চর্চায় একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র

বিপুল খন্দকার সুস্থ্যধারার সাংস্কৃতিক চর্চায় একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র

বিপুল খন্দকার
বিপুল খন্দকার

একটানা ত্রিশ বছর যাবত সুস্থ্যধারার সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে নক্ষত্রের ন্যায় ক্রমশ উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর দ্যুতি ছড়াচ্ছেন জনপ্রিয় নাট্যকার ও নির্মাতা বিপুল খন্দকার। যাত্রা পালা থেকে ইউটিউবিং সকলক্ষেত্রে অসাধারণ নৈপুন্যতার স্বাক্ষর রেখে তিনি নিজেকে মেলে ধরেছেন সর্বত্র। কুড়িয়েছেন সর্বত্র সম্মান আর পরিচিতি।

ত্রিশ বছর আগে যখন যাত্রা মঞ্চ ছিল গ্রাম বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় একটি মাধ্যম তখন তিনি যুক্ত হোন নাট্যাঙ্গনে। পরবর্তীতে মঞ্চনাটক এবং পর্যায়ক্রমিক সংযাত্রার সাথে ব্যাপকভাবে তার সম্পর্ক গড়ে উঠে। তিনি সংযাত্রাকে নিয়ে যান একটি ভিন্ন মাত্রায়।

যখন এই দেশের মানুষ সিডি প্লেয়ারে হিন্দি গানের মহড়া দিত। গ্রামে গঞ্জে হাঁটে বাজারে সর্বত্র ভারতীয় হিন্দি সিনেমার গানের জয়জয়কার। হোটেল, রেস্টুরেন্ট, ছোট ছোট টং দোকান, চা স্টল সর্বত্র মানুষ সারাক্ষণ হিন্দি গানের সাথে নাচের মোহনীয়তায় আটকে থাকতো তখনই বিপুল খন্দকার ভাদাইমার জন্ম দেন। বলতে গেলে সিডি প্লেয়ারে সংযাত্রা বা কৌতুক বাজারজাতকরন এবং নির্মান এই দেশে প্রতিষ্ঠা পায় তারই হাত ধরে। সকল স্তরের সকল বয়সী মানুষ হিন্দি গান ছেড়ে ঝুঁকে পরে ভাদাইমার কৌতুকে।

টাংগাইলের ভাদাইমা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রবাসীরা মেতে উঠেন নতুন বিনোদনে। ভারতীয়রাও রীতিমত ভক্ত হয়ে যায় বাংলা আঞ্চলিক ভাষা নির্ভর এই বিনোদনের। বাস থেকে শুরু করে চা স্টল-হোটেল-রেস্টুরেন্ট সর্বত্র ভিসিডিগুলো কিংবা ডিশ চ্যানেলগুলোকে দখল করে নেয় ভাদাইমার বিভিন্ন কৌতুক।

দীর্ঘ ১২ বছর তিনি একক ভাবে অসংখ্য ভাদাইমার সিডি নির্মান করেন যা অত্যান্ত মাইলফলক এই নব ধারার বিনোদনের ক্ষেত্রে।

বিপুল খন্দকার হঠাৎই খেয়াল করেন ভাদাইমার নামে অনেকেই অশ্লিল ভিডিও নির্মান শুরু করেছেন। তিনি ক্ষোভে দু:খে নিজেকে গুটিয়ে নেন। তিনি ভাদাইমার ভিডিও বানানো বন্ধ করেন। ভাদাইমার নাম ভাঙ্গিয়ে নকল ভাদাইমার ছড়াছড়ি শুরু হয়ে যায় সারাদেশে। একটি কুমহল উঠে পরে লাগে। তারা নানা রকম কুরুচিপূর্ণ ভিডিও তৈরি করতে থাকে।

বিপুল খন্দকার সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ আবিষ্কারের নেশায় মত্ত হয়ে পড়েন।

খাটি জহুরি তিনি। যেখানেই হাত দিয়েছেন যেন সোনা ফলেছে। তিনি হাত দেন ইউটিউবিং এ। এখানে যেন হিরে ফলানো শুরু হয় তার হাত দিয়েই। অসংখ্য ইউটিউব চ্যানেল আজ প্রতিষ্ঠিত বিপুল খন্দকারের তৈরি কন্টেন্ট দিয়ে। অন্তত ৩০ টি ইউটিউব চ্যানেলে তার তৈরি শর্টফিল্ম প্রদর্শিত হয়। অন্তত ২ হাজার শর্টফিল্ম ইউটিউবে রীতিমত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে যার নির্মাতা বিপুল খন্দকার।

আজ বিপুল খন্দকারের কন্টেন্ট ইউটিউবে দেয়ার দু-একদিনের মধ্যেই ভিউ হয় কয়েক মিলিয়ন। তিনি গ্রাম বাংলার নিত্য নৈমিত্তিক হয়ে যাওয়া ঘটনাগুলোই ছোট ছোট প্লটের মাধ্যমে তুলে ধরেন ইউটিউবে। দর্শক প্রিয়তা এবার তাকে দুহাত ভরে দিয়েছে।

বর্তমান ইন্টারনেট সমৃদ্ধযগে ইউটিউব চালান না এমন লোকের খুবই অভাব। আর ইউটিউবের বিনোদন মানেই বিপুল খন্দকারের তৈরি কোননা কোন শর্টফিল্ম। অল্প টাকা বিনিয়োগ করে অনেকেই বিপুল খন্দকারের হাত দিয়ে চ্যানেলের জন্য কন্টেন্ট তৈরি করে রুটি রুজি করছেন। বাংলাদেশের ইউটিউবিং জগতে সবচেয়ে বেশি ভিউ পাওয়া কন্টেন্ট নির্মাতা বিপুল খন্দকার।

তার সহধর্মিনী মমতা খন্দকার ও আদরের কন্যা ছোট্ট ও মিষ্টি মেয়ে বিমু খন্দকারের নাম টা জানেন না এমন লোক ইউটিউব জগতে যারা বাংলা ভাষাভাষী কোন নাটক বা শর্টফিল্ম দেখেন খুবই দুষ্কর।

বিপুল খন্দকারের নির্দেশনায় ক্ষুদে শিল্পী বিমু ক্রমান্বয়েই দর্শক হৃদয়ে সর্বোচ্চ জনপ্রিয়তা অর্জন করে চলেছে। বিমুর অত্যন্ত সুক্ম ও দক্ষ অভিনয়শৈলী মুগ্ধ করেনি এমন মানুষ এ যুগে পাওয়া অসম্ভব।

বিপুল খন্দকারে নির্মান কৌশল, গল্পের ধরন সবার থেকে আলাদা, তাই ইউটিউব ব্যবসায়িদের নিকট তার পরিচিতি এবং কদরের শেষ নেই। তার কাছ থেকে অল্প কিছু কন্টেন্ট নিয়েও অনেকে খুব দ্রুত তাদের চ্যানেল দাঁড় করিয়ে ফেলছেন। সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরাই যেন তার নির্মানের মূল লক্ষ্য।

তিনি আরো ভালো গল্প নির্মান করতে চান। তিনি ভালো বাজেট পেলে তিনি আরো সুন্দর সুন্দর গল্প নির্মান করতে পারবেন বলে আশাবাদি। তিনি বলেন “আমাদের কাজের বাজেট এতটাই কম যে একটা নাটক বানানোর জন্য তা প্রি প্রোডাকশনেই খরচ হয়ে যায়, যদি বিনিয়োগকারীরা আরেকটু বাজেট বানাতেন তবে আর-ও মান সম্মত কাজ উপহার দেয়া সম্ভব হতো।”

বিপুল খন্দকার তার কাজের মাধ্যমে দিন দিন নিজেকে নিয়ে যাচ্ছেন এক অনন্য উচ্চতায়।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840