সংবাদ শিরোনাম:
দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকার সেরা অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন ‘ভোট জালিয়াতি’ তদন্তের নির্দেশ চট্টগ্রামে গলায় ছুরি ধরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ধর্ষকদের বাঁচাতে কাউন্সিলরপ্রার্থী বেলালের দৌড়ঝাঁপ নারী নির্যাতন মামলায় বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের বিবাহিত সভাপতি মাহবুব হোসেন কারাগারে দুই নবজাতকের লাশ নিয়ে হাইকোর্টে বাবা কনস্টেবলকে মারধর, শ্রমিকলীগ নেতার স্ত্রী কারাগারে অবক্ষয় থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে চলচ্চিত্রের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে- তথ্যমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2020 কর কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২০ ৯ দিনে করোনা জয়ী তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
ব্যবসার নামে কুষ্টিয়াতে আধুনিক প্রিন্টার্সের ধান্ধাবাজি

ব্যবসার নামে কুষ্টিয়াতে আধুনিক প্রিন্টার্সের ধান্ধাবাজি

কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়া

১৭ ই আগষ্ট শনিবার কুষ্টিয়া জেলার অন্তর্গত আধুনিক প্রিন্টার্সে রাজু নামের এক ব্যক্তি দুই হাজার লিফলেট বানানোর অর্ডার দেন। লিফলেট বাবদ খরচ ধার্য করা হয় ষোলশত টাকা। রাজু নামের ঐ ভদ্রলোক দুই শত টাকা অগ্রিম প্রদান করেন।

সেখানে কোন ডিজাইনার না থাকায় রাজু সাহেব উক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে প্রস্তাব করেন। আমি নিজেই ডিজাইন করে পাঠিয়ে দিবো। আপনি আমাকে সোমবারে ডেলিভারী দিয়েন।

কর্তৃপক্ষ জানায় কাজের চাপে সেটা সোমবারে নয় মঙ্গল বারে দিতে হবে। মঙ্গলবারে ডেলিভারী দিবে এই ব্যাপারেই তাদের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়।

তারপর রাজু সাহেব নিজেই বেশ কয়েকটা ডিজাইন করেন। সারারাত জেগে অনেক গুলো ডিজাইন করেন কিন্তু একটাও মনের মতো হচ্ছিল না। নিজের কাছেই প্রফেশনাল মনে হচ্ছিল না। সে অনেক বার চেষ্টা করে। অনেক রাত হয়ে যাওয়ায় বিষয়টা আর আধুনিক প্রিন্টার্সে সে জানাতে পারেনি।

সে রবিবার দিন জানায় “ভাই আমি কাজটা করতে পারিনি। মানসম্মত হয়নি। আপনাদের ডিজাইনার দিয়েই করিয়ে ফেলুন।” আমি কাল এসে ডিজাইনটা দেখে চূড়ান্ত করে দিলে প্রিন্ট দিয়েন। কথা এ পর্যন্ত-ও ঠিক ছিল তাদের।

সোমবার যথারীতি তিনি আধুনিক প্রিন্টার্সে যান এবং স্যাম্পল ডিজাইন দেখতে চান। ম্যানেজার জানায় তাদের ডিজাইনার আজ-ও আসেনি। একটু পর আসবে। রাজু সাহেব অপেক্ষা করেন। এক পর্যায়ে জানানো হয় তিনি অসুস্থ্য আজ আর আসবেন না।

রাজু সাহেব বাধ্য হয়ে তার নিজের স্যাম্পল দেখান। তখন উক্ত প্রিন্টার্স আর-ও তেরশত পঞ্চাশ টাকা বেশি দাবী করেন। যেখানে ডিজাইনারের খরচ তাদের বেঁচে গেলো সেখানে তারা বিল বেশি দাবী করছে। অথচ রাজু সাহেব বলেন তারা আমাকে বলেছে এক কালারের জন্য খরচ ষোলশত টাকা। আমি ডিজাইন করায় তাদের বিল বেড়ে গেলো।

রাজু সাহেব তার অর্ডার বাতিল করতে দাবী জানান। ম্যানেজার পাশের এক দোকানে তাকে নিয়ে যান ডিজাইন করার জন্য। সেই দোকানে প্রচন্ড ভীর থাকায় ডিজাইনার পরে যেতে বলেন তাকে। সেই দোকানদারের কাছে স্যাম্পল দেখতে চাইলে তিনি বলেন স্যাম্পল নাই। সব মিলিয়ে রাজু সাহেবের মনে হয় কাজটি তিনি এখানে করাতে পারবেন না।

তাই তিনি অর্ডার ক্যানসেল করে তার অগ্রিম প্রদত্ত টাকা ফেরত চান। উনি টাকা দিতে নারাজ। তার ডিজাইনার নাই। কাজটাও করে দিতে পারতেছেন না আবার টাকাও দিবেন না। উনার বক্তব্য তার কাছে দুই শত টাকা নাই।

তার ব্যবসার আকার বেশ বড়। অনেক কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তিনি বলেন বিকেলে এসে টাকা নিয়ে যাবেন। বিকেলে আসতে গেলে রাজু সাহেবের প্রায় ৮০ টাকা খরচ হয়ে যাবে। সময় তো যাবেই।

রাজু সাহেব চেপে ধরেন। টাকাটা এক্ষুণি দিতে হবে। তারপর উনি বলেন দাঁড়ান টাকা তুলে নিয়ে আসি। তিনি চলে যান। দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখেন তিনি আসেন না। ফোন করলে কখনো বলেন ১৫ মিনিট বসেন। কখনো কেটে দেন। আবার বলেন অফিসে আছি। এমন তার পাঁয়তারা।

বিকাশ বা রকেটে যদি টাকা থাকে তবে আমার নাম্বারে সেন্ড করেন। এটাও বলেন রাজু সাহেব কিন্তু তিনি টাকা দেবার কোন চিন্তা মাথায় রাখেন নাই।

এক পর্যায়ে রাজু সাহেব বলেন “ভাই, আপনি কি টাকা দিবেন না? হয়রানি করছেন কেন? যদি এরকম করেন তাহলে আপনি কিন্তু কাস্টমার হয়রানি করছেন, ভোক্তা অধিকারে জানিয়ে দেব আমি। উনি তখন গালি দিয়ে বলেন যার কাছে ইচ্ছা ফোন দে, কি করতে পারিস কর।”

রাজু সাহেব সাথে সাথে ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে ভোক্তা অধিকার অফিসের নাম্বার নেন। তারপর তার এক ছোটভাই আসায় তাকেও বলেন বিষয়টা। সে বলে বিষয়টা নিজেরাই মিটিয়ে ফেলার জন্য। ফলে রাজু সাহেব ভোক্তা অধিকারে আর ফোন দেন নাই।

তারপর হঠাত দেখেন উনি চলে আসছেন। এসে ঝাড়ি বকাবকি করছেন যে দেখি আপনার কত বড় ক্ষমতা দেন ফোন দেন৷ আমি বসে আছি ভোক্তা অধিকারের কে আসে আসুক। তখন ও রাজু সাহেব হাসিমুখে বলেন ভাই আমি ফোন দেই নাই সামান্য ব্যাপার আপনি মিটিয়ে ফেলুন। টাকাটা দিয়ে দেন আমি চলে যাই।

তারপর উনি মেমো নিলেন। (মেমোর ফটোটা আগেই তুলে রেখেছিলেন রাজু সাহেব)। দেখে বললেন ভাই এখন টাকা নাই। বিকাশে পাঠিয়ে দিবনে বিকালে। রাজু সাহেব বলেন “ভাই মুসলিম হয়ে দুইশত টাকার জন্যে মিথ্যে বলছেন? উনি স্বীকার করলেন না।

বিকাশ নাম্বার দিয়ে রাজু সাহেব বাসায় চলে আসে।

বিকেল পেরিয়ে সন্ধাও গেল। রাত ৮ টা বাজল। ফোন দিয়ে টাকা চাইলে তিনি বলেন মেমো দেন নাই। তখন রাজু সাহেব বুঝতে পারেন ঝামেলা পাকাবে তাই কল রেকর্ড শুরু করেন।

তিনি বলেন আমি আপনার কাছে মেমো দিয়েছি আর আপনি আপনার টেবিলে ডান পাশে রেখেছিলেন। তখন লোকটি বলে দাঁড়ান দেখতেছি। এরপর তিনি ফোন কেটে দেন।

তারপর ফোন দিলে তিনি গালিগালাজ শুরু করেন। অকথ্য ভাষায় তার গালিগালাজ গুলো রাজু সাহেব রেকর্ড করেন। একাধিকবার তিনি কল করেন এবং যথেষ্ট খারাপ ব্যবহার করেন ওই ব্যক্তি।

এরপর ভোক্তা অধিকারে তিনি অনলাইনে অভিযোগ পেশ করেছেন। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এক সপ্তাহ কেটে গেলেও ভোক্তা অধিকার অভিযোগটি আমলে নিয়ে কাজটি নিয়ে এক বিন্দু-ও অগ্রসর হোননি।

রাজু সাহেবের অভিযোগ তবে কি ভোক্তা অধিকার এই ব্যক্তির পকেটে? তিনি যা কাজ করতে পারবেন না তবুও অর্ডার নিবেন আর এই ভাবে টাকা আত্মসাৎ করবেন।

প্রশ্নটা দুই শত টাকার নয় প্রশ্নটা ব্যবসার নামে জন হয়রানির। কে জানে কতোদিন যাবত আধুনিক প্রিন্টার্স এভাবেই মানুষকে হয়রানি করে যাচ্ছে আত্মসাৎ করছে অন্যায়ভাবে অন্যের টাকা। এর সমাধান মিলবে কবে?

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840