সংবাদ শিরোনাম:
দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকার সেরা অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন ‘ভোট জালিয়াতি’ তদন্তের নির্দেশ চট্টগ্রামে গলায় ছুরি ধরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ধর্ষকদের বাঁচাতে কাউন্সিলরপ্রার্থী বেলালের দৌড়ঝাঁপ নারী নির্যাতন মামলায় বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের বিবাহিত সভাপতি মাহবুব হোসেন কারাগারে দুই নবজাতকের লাশ নিয়ে হাইকোর্টে বাবা কনস্টেবলকে মারধর, শ্রমিকলীগ নেতার স্ত্রী কারাগারে অবক্ষয় থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে চলচ্চিত্রের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে- তথ্যমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2020 কর কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২০ ৯ দিনে করোনা জয়ী তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
ভালোবাসা দিবসের ইতিবৃত্ত

ভালোবাসা দিবসের ইতিবৃত্ত

ভালোবাসা দিবসের সঠিক ইহিতার্স
ভালোবাসা দিবসের সঠিক ইহিতার্স

শামীম আল মামুন (তুহিন)

সে অনেক বছর আগের কথা।
২৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ঘটনা। ইতালির রোম নগরীতে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন’স নামে একজন খৃষ্টান ধর্ম যাজক মানে পাদ্রী ছিলেন। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস একজন ধর্ম প্রচারক ছাড়াও খুব ভাল চিকিৎসক ছিলেন। রোমে খ্রিষ্টান ধর্মের প্রচার নিষিদ্ধ ছিল অথচ দিন দিন তার ভক্ত অনুসারীর সংখ্যা বেড়ে যেতে থাকে ফলে তৎকালীন রোম সম্রাট দ্বিতীয় ক্রাডিয়াস তার চরম শত্রু হয়ে উঠেন।

সম্রাট দ্বিতীয় ক্রাডিয়াস শুধু মাত্র ধর্ম প্রচারের অভিযোগে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনসকে বন্দী করেন এবং তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস কারাগারে থেকেও তার ব্যবহারে মুগ্ধ করেন কারারক্ষীদের। কারারক্ষীগণ দু:খ কষ্টের কথাও ভ্যালেন্টাইনস এর সাথে শেয়ার করতে শুরু করেন।

বন্দী অবস্থায় তিনি জনৈক কারারক্ষীর দৃষ্টহীন মেয়ের ব্যাপারে জানতে পারেন। তারপর তিনি কারাবন্দী অবস্থায় চিকিৎসা শুরু করেন এবং অল্প দিনেই চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলেন। এতে করে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস এর জনপ্রিয়তা অনেক বেড়ে যায়। রাজা বিষয়টি জেনে রাগে ফেটে পড়েন, তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ১৪ই ফেব্রুয়ারী তারিখে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

এর বেশ সময় পর ৪৯৬ সালে পোপ সেন্ট জেলাসিউও ১ম জুলিয়াস ভ্যালেন্টাইন’স স্মরণে ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে ভ্যালেন্টাইন’ দিবস ঘোষণা করেন। খৃষ্টানজগতে পাদ্রী-সাধু সন্তানদের স্মরণ ও কর্মের জন্য এ ধরনের আরও অনেক দিবস রয়েছে। যেমন: ২৩ এপ্রিল – সেন্ট জজ ডে, ১১ নভেম্বর – সেন্ট মার্টিন ডে, ২৪ আগস্ট – সেন্ট বার্থোলোমিজম ডে, ১ নভেম্বর – আল সেইন্টম ডে, ৩০ নভেম্বর – সেন্ট এন্ড্রু ডে, ১৭ মার্চ – সেন্ট প্যাট্রিক ডে।

পাশ্চাত্যের ক্ষেত্রে জন্মদিনের উৎসব, ধর্মোৎসব সবক্ষেত্রেই ভোগের বিষয়টি মুখ্য। তাই গির্জা অভ্যন্তরেও মদ্যপানে তারা কসুর করে না। পর্যাক্রমে কালের আবর্তে খৃস্টীয় এই ভ্যালেন্টাইন দিবসের চেতনা বিনষ্ট হয়ে যায়।

১৭৭৬ সালে ফ্রান্স সরকার কর্তৃক ভ্যালেইটাইন উৎসব একেবারে নিষিদ্ধ করা হয়। ইংল্যান্ডে ক্ষমতাসীন পিউরিটানরাও একসময় প্রশাসনিকভাবে এ দিবস উদযাপন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এছাড়া অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি ও জার্মানিতে বিভিন্ন সময়ে এ দিবস প্রত্যাখ্যাত হয়। পাকিস্তানেও ২০১৭ সালে ইসলামবিরোধী হওয়ায় ভ্যালেন্টাইন উৎসব নিষিদ্ধ করে সেদেশের আদালত।

বর্তমানকালে, পাশ্চাত্যে এ উৎসব মহাসমারোহে উদযাপন করা হয়। যুক্তরাজ্যে মোট জনসংখ্যার অর্ধেক প্রায় ১০০ কোটি পাউন্ড ব্যয় করে এই ভালোবাসা দিবসের জন্য কার্ড, ফুল, চকোলেট, অন্যান্য উপহারসামগ্রী ও শুভেচ্ছা কার্ড ক্রয় করে এবং আনুমানিক প্রায় ২.৫ কোটি শুভেচ্ছা কার্ড আদান-প্রদান করা হয়।

জনপ্রিয় লেখক ও সাংবাদিক, যায় যায় দিন পত্রিকার সম্পাদক শফিক রেহমান
১৯৮৬ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত লন্ডনে নির্বাসিত ছিলেন। ঐ সময়ে লন্ডনে বানিজ্যিক কারনে ব্যাপকভিত্তিক সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস যে উদযাপিত হত। সেখানকার স্বামী-স্ত্রী, প্রেমিক-প্রেমিকারা দিবসটিকে সাদরে গ্রহণ করেন।

ওই সময়ই শফিক রেহমান সিদ্ধান্ত নেন, বাংলাদেশে ফিরে আসার পর দিনটিকে সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেবেন। কারণ সেন্ট ভ্যালেন্টাইনসডের মধ্যে ভালোবাসার বাণী খুঁজে পেয়েছিলেন শফিক রেহমান। আর তিনি মনে করেন ঘন বসতির বাংলাদেশে ভালোবাসাটা অনেক বেশি দরকার। সুসম্পর্ক, সহাবস্থান গড়ে ওঠা জরুরি।

বাংলাদেশে শুরু করার সময় লন্ডনে প্রচলিত ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে’ থেকে শুরুর ‘সেন্ট’ শব্দটি ধর্মীয় কারণে বাদ দেওয়া হয়। এটি ‘ভালোবাসার দিন’ হিসেবে প্রচার শুরু করেন তৎকালীন যায়যায়দিন পত্রিকায়। সেই সঙ্গে দিনটিকে শুধু স্বামী-স্ত্রী, প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ভাই-বোন, বাবা-মা-সন্তানদের মধ্যে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশও যুক্ত করা হয়।

শফিক রেহমান একটি বাণী ছড়াতে থাকেন, ‘এই দিনে মায়ের প্রতি ভালোবাসা দেখাও। অন্তত এক কাপ চা বানিয়ে মাকে খাওয়াও।’ পত্রিকাটিতে ‘ভালোবাসার দিন’ নিয়ে লেখাও আহ্বান করেন সম্পাদক শফিক রেহমান। বিপুলসংখ্যক পাঠক নিজ নিজ ভালোবাসার গল্প লিখে চিঠি পাঠানো ‍শুরু করে পত্রিকাটিতে। পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে ব্যাপক আকারে ১৪ জানুয়ারিকে ‘ভালোবাসা দিবস’ হিসেবে পালন করা শুরু হয় বাংলাদেশে। অনেকে দিবসটিকে ‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবস’ আখ্যায়িত করলেও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বলতে আজোবধি কিছু নেই।

ভালোবাসা দিবস পালন শুরুর পাশাপাশি রাজধানী ঢাকার একটি সড়কের নাম ‘লাভ লেন’ রাখতে সক্ষম হয়েছেন শফিক রেহমান। আসলে তিনি নিজে যখন প্রথম প্রেমে পড়েছিলেন তখন চট্টগ্রামে ডিসি হিলের উল্টোদিকে ছোট্ট একটি রাস্তার নাম ছিল “লাভ লেন”। এই লেনের শুরুতে পানের দোকান ছিল। প্রেমিক-প্রেমিকারা সেখানে এসে পান খেত। পানের আকৃতিও তো ঠিক হৃদয়ের মতো। শফিক রেহমান যখন যায়যায়দিনের প্লট বুকিং দেন তখন সেই রাস্তাগুলোর কোনো নাম ছিল না। এ সুযোগে তৎকালীন নগরপিতার মাধ্যমে এলাকাবাসীর আগ্রহে তেজগাঁওয়ের এ রাস্তার নাম রাখা হয় ‘লাভ লেন’।

শফিক রেহমান বাংলাদেশে লাল গোলাপ নামে টক শো প্রবর্তন করেন। সেখানে অনেক তথ্য সমৃদ্ধ ডকুমেন্টারি প্রদর্শনের পাশাপশি অল্প আলোচনাও হতো। শফিক রেহমানকে ভালোবাসা দিবসের কারনে নাস্তিক আখ্যায়িত করেন অনেকেই।

যদিও বর্তমানে বাংলাদেশে কেউ আর শফিক রেহমানের সেই বাণীটির কথা কেউ আর মনে রাখে না। কেউ মনে রাখে না সেন্ট ভ্যালেন্টাইনসকে। বর্তমানে বক ধার্মিকের দল আর কিছু মূর্খরা ভালবাসা দিবসের ইতিহাস, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য না জেনে করে ঘোর বিরোধীতা। তারা বলে এইটা ধর্মের বাইরে আর কিছু অতি উৎসাহী পশ্চাদপদ তরুন-তরুনী এটিকে নিয়ে অতিরঞ্জিত কাজকর্ম করে দিনটিকে করে ফেলছেন সমালোচিত। উভয়েই মূর্খ। ভাব নেন পন্ডিতের মত। আসলে অতি স্মার্ট এর ভাব ধরলেও এরা কিছুই জানে না।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840