সংবাদ শিরোনাম:
দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকার সেরা অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন ‘ভোট জালিয়াতি’ তদন্তের নির্দেশ চট্টগ্রামে গলায় ছুরি ধরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ধর্ষকদের বাঁচাতে কাউন্সিলরপ্রার্থী বেলালের দৌড়ঝাঁপ নারী নির্যাতন মামলায় বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের বিবাহিত সভাপতি মাহবুব হোসেন কারাগারে দুই নবজাতকের লাশ নিয়ে হাইকোর্টে বাবা কনস্টেবলকে মারধর, শ্রমিকলীগ নেতার স্ত্রী কারাগারে অবক্ষয় থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে চলচ্চিত্রের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে- তথ্যমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2020 কর কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২০ ৯ দিনে করোনা জয়ী তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
ভিডিও ফুটেজ থেকে সব-ই তো স্পষ্ট, কর্তৃপক্ষের ঘোলা করবার চেষ্টা কেন?

ভিডিও ফুটেজ থেকে সব-ই তো স্পষ্ট, কর্তৃপক্ষের ঘোলা করবার চেষ্টা কেন?

আবরার ফাহাদের ভিডিও ফুটেজ
আবরার ফাহাদের ভিডিও ফুটেজ

আবরার হত্যাকান্ডের একটি ভিডিও ফুটেজে দেথা যায়। সিঁড়ির কাছে আসামিরা আবরারকে নিয়ে আসার পর ডাক্তার-ও ডেকে নেয় তারা। ডাক্তার, দাঁড়োয়ান, প্রভোস্ট সবাই দু:শ্চিন্তায় পরে যান। দাঁড়োয়ানকে পানি পান করতেও দেখা যায়। অথচ উনি বলেছেন “কে বা কারা সিঁড়ির কাছে ফেলে গেছেন তা তিনি দেখেন নি। “।

পরিষ্কার ও স্বচ্ছ ভিডিও কর্তৃপক্ষ কেন আড়াল করতে চাইলো? তাদের উদ্দেশ্য কি ছিল?

আবরার হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে বুয়েট শিক্ষার্থীরা ৭ টি বিষয় বেঁধে দিয়ে আন্দোলন করছে। যদিও আল্টিমেটাম দিতে মানা করেছেন উপাচার্য।

১. খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
২.৭২ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের শনাক্ত করে সবার ছাত্রত্ব আজীবন বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. দায়েরকৃত মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অধীনে স্বল্পতম সময়ে নিষ্পত্তি করতে হবে।
৪. বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়নি, তা তাঁকে সশরীরে ক্যাম্পাসে এসে আজ বিকেল ৫টার মধ্যে জবাবদিহি করতে হবে। একই সঙ্গে ডিএসডব্লিউ স্যার কেন ঘটনাস্থল থেকে পলায়ন করেছেন, এ বিষয়ে তাঁকে আজ বিকেল ৫টার মধ্যে সবার সামনে জবাবদিহি করতে হবে।
৫. আবাসিক হলগুলোতে র‍্যাগের নামে ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর সকল প্রকার শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনকে জড়িত সবার ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে আহসানউল্লা হল এবং সোহরাওয়ার্দী হলের আগের ঘটনাগুলোতে জড়িত সবার ছাত্রত্ব বাতিল ১১ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখ বিকেল ৫টার মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে।
৬. রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হওয়ায় শেরেবাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখ বিকেল ৫টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে।
৭. মামলা চলাকালে সকল খরচ এবং আবরারের পরিবারের সকল ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে।

হত্যাকান্ড ঘটে যাওয়ার ৩০ ঘন্টা পর উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সামনে আসেন। তিনি অসুস্থ্যতার দাবী করে দূরে থাকলেও সামনাসামনি এসে তিনি সেরকম দাবী করেন নি।

আবরারের জানাযাতেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না।

উপাচার্যের সাথে কথোপকথন তুলে ধরা হল।

উপাচার্য: তোমরা চেয়েছ উপাচার্য আসুন, আমি এসেছি তোমাদের কাছে।

শিক্ষার্থী: আমাদের কিছু প্রশ্ন আছে। কালকে শেরেবাংলা হলে পুলিশ এসেছিল। কার অনুমতিতে?

উপাচার্য: এটা পারমিশনের কোনো ব্যাপার না।

শিক্ষার্থী: পুলিশ পুরো সেট আপ নিয়ে এসেছে।

উপাচার্য: না, ওদেরকে তো কোনো অ্যাকশন না নিতে বলা হয়েছে।

শিক্ষার্থী: সন্ধ্যার দিকে আসছে, ভিডিও আছে। দাঙ্গা পুলিশ

উপাচার্য: পুলিশ আমার কন্ট্রোলে নেই।

শিক্ষার্থী: পুলিশ প্রভোস্ট স্যারের কন্ট্রোলে নেই, প্রক্টরের কন্ট্রোলে নেই, উপাচার্য স্যারের কন্ট্রোলে নেই। তাহলে পুলিশ কার কন্ট্রোলে আছে?

উপাচার্য: এটা মার্ডার কেস। ধরতে হবে লোকজনকে।

শিক্ষার্থী: দাঙ্গা পুলিশ কেন?

উপাচার্য: সে তো আমার আমার কন্ট্রোলে না। আমি তো ডাকি নাই। আমি অনুরোধ করেছি… কিন্তু এটা তো মামলা। তোমরা ভিডিও ফুটেজ চেয়েছ, ভিডিও ফুটেজ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমি দাঁড়াতে পারছি না।

শিক্ষার্থী: চেয়ার আছে স্যার, বসুন। কালকে পুলিশ না ঢুকলে ধরত কীভাবে।

শিক্ষার্থী: দাঙ্গা পুলিশ কেন?

উপাচার্য: আমি ওদের সঙ্গে কথা বলব এ ব্যাপারে। আমি মাননীয় মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। এটা তো পাবলিক ইউনিভার্সিটি। এখানে আমি নিজের ক্ষমতায় সবকিছু করতে পারি না। সরকারকে প্রতিটা ক্ষেত্রে বলতে হয়। আমি তোমাদের দাবির সঙ্গে একমত। ইন প্রিন্সিপল একাত্মতা প্রকাশ করছি। আমি তোমাদের সঙ্গে বসব। মোডালিটি ফিক্স করতে হবে।

শিক্ষার্থী: না, সবার সঙ্গে বসতে হবে।

উপাচার্য: সবার সঙ্গে বসলে হবে? তোমাদের প্রতিনিধি দাও আমাকে।

সমবেত শিক্ষার্থীরা: কোনো ক্লোজড ডোর মিটিং হবে না।

উপাচার্য: দুনিয়াভর কোথায় প্রতিনিধি ছাড়া হয় না। তোমরা সুযোগ পাবে।

শিক্ষার্থী: আমরা সাত-আটজন যাব, মিডিয়া থাকবে না, মিডিয়া না।

উপাচার্য: আর কোনো কথা আছে। (তুমি আস, তোমাকে আমি বুকে জড়িয়ে ধরি)
আমি কথা দিচ্ছি তোমাদের স্বার্থ বিরোধী কোনো কাজ করব না। আজকে যেটা হয়েছে, সেটা আমি না থাকলে হতো না। এটা বুঝতে হবে তোমাকে। (অস্পষ্ট)

শিক্ষার্থী: আপনি কি আমাদের আলটিমেটামগুলো দেখেছেন?

উপাচার্য: আল্টিমেটাম দিয়ো না, বাবা। আমি দেখছি, ব্যবস্থা করছি।

শিক্ষার্থী: আমি দাবিগুলো পড়ে শোনাই।

উপাচার্য: আমি তো একবারেই বলে দিলাম, ইন প্রিন্সিপল আমি স্বীকার করি। এক কথায় বলে দিলাম। এক্সিকিউশনের পদ্ধতিগুলো তো লাগবে। আমি রাস্তায় দাঁড়িয়ে বলতে পারব না। তোমাদের যদি পছন্দ না হয়, তোমরা আবারও ইয়ে করতে পারবে। কোনো অসুবিধা হবে না।

শিক্ষার্থী: প্রতিটা দাবি পূরণে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া আছে। আমরা সকাল থেকে বসে আছি। আমাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

উপাচার্য: ১১ জন গ্রেপ্তার হয়েছে।

শিক্ষার্থী: আমি দাবিগুলো পড়ব।

উপাচার্য: মাগো, তুমি আবারও একই জায়গায় যাচ্ছ।

শিক্ষার্থী: আমরা দাবি থেকে নড়ব না।

উপাচার্য: হলের প্রভোস্ট আমাকে জানাবেন, আমি ব্যবস্থা নেব।

শিক্ষার্থী: চল্লিশ ঘণ্টায় কেন আপনি একবারও সেখানে যান নাই? জানাজায় কেন যাননি। আপনার ছেলে মারা গেছে আপনি কেন যাননি?

উপাচার্য: আমি তখন মাননীয় মন্ত্রীর সঙ্গে আবারও দেখা করতে গেছি। পুলিশ সরানোর কাজগুলো করতে হয়েছে।

উপাচার্জ কি চাচ্ছেন? ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা তার মধ্যে ছিল কি না অথবা তিনি কি ঘটনাকে অন্য দিকে প্রবাহিত করতে চাচ্ছেন শিক্ষার্থীদের মনে এরকম নানা প্রশ্ন। উপাচার্যর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840