সংবাদ শিরোনাম:
বিডি ক্লিনের প্রধান সমন্বয়কের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর সাবেক সহ সভাপতি মশিউর রহমান শরিফ নরসিংদী মডেল থানার নতুন ওসি বিপ্লব কুমার দত্ত চৌধুরী টাঙ্গাইল পৌর ভবন এখন করোনার হট স্পট সাহেদের ৫০ দিনের রিমান্ড আবেদন শাহিন স্কুলের কর্তৃপক্ষ তালা ঝুলিয়ে পালালেন দলীয় নেতা কর্মীরা মিথ্যার জাহাজ হিসেবে আখ্যায়িত করলেন কেন্দ্রীয় তাঁতী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে ক্লিন টাঙ্গাইলের উদ্যোগে চতুর্থবারের মত প্রতিবন্ধীদের মাঝে উপহারসামগ্রী বিতরণ মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তাঁতী লীগের মন্তাজউদ্দীন ভূঁইয়ার কর্মসূচি ব্যারিষ্টার ছেলের পিতা টাঙ্গাইল পৌর প্যানেল মেয়র সাইফুজ্জামান সোহেল
মধুপুরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন দরিদ্র মেধাবী নিরঞ্জন

মধুপুরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন দরিদ্র মেধাবী নিরঞ্জন

নিরঞ্জন সূত্র ধর
নিরঞ্জন সূত্র ধর

নিরঞ্জন সূত্র ধর, পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক।

৮ ই নভেম্বর ১৯৮৮ সালে তিনি টাঙ্গাইলের মধুপুরে জন্ম গ্রহণ করেন।মধুপুরের রায় পাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় তার পরিবার নিয়ে বসবাস করেন।। তার বাবা বীরেন সূত্র ধর। তিনি পেশায় একজন কাঠ মিস্ত্রি। মা সন্ধ্যা রানী তিনি একজন গৃহিনী।

নিরঞ্জন সূত্র ধর পরিবারের বড় সন্তান। তার একজন ছোট ভাই আছে। আর্থিকভাবে যথেষ্ট প্রতিকুলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠা নিরঞ্জন সূত্র ধর এর।

দরিদ্র বীরেন সূত্র ধর পক্ষে পরিবারের খরচ চালিয়ে ছেলেদের লেখাপড়ার খরচ চালানো সম্ভব ছিল না। তাই নিরঞ্জন সূত্র ধরের মা লেখাপড়ার খরচ চালানোর জন্য বাড়িতে বিড়ির খোল তৈরী করতেন। এক হাজার খোল তৈরী করলে 2 টাকা পাওয়া যেত। ছেলেরাও মাঝে মাঝে মাকে এ কাজে সাহায্য করতো।

অভাবের সংসারে কখনো সময় কাটে আধপেটা খেয়ে আবার বেশীর ভাগ সময়ই না খেয়ে স্কুলে যেতে হয় দুভাইকে। কিন্তু ছাত্র অবস্থায় কখনো খারাপ ফলাফল করেনি নিরঞ্জন। তবুও আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় মানবিক শাখা নিয়ে ২০০৩ সালে মধুপুর রানী ভবানী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৩.৫০ নিয়ে এস এস সি পাস করেন এবং মধুপুর ডিগ্রী কলেজে ভর্তি হন।

এরপর তার মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফলে লেখাপড়ার খরচ চালানো খুব কষ্টকর হয়ে পড়ে। প্রাইভেট পড়িয়ে পরিবারের খরচ চালাতে বাবাকে সাহায্য করা এবং নিজের লেখাপড়ার খরচ চালাতে থাকেন নিরঞ্জন।

খুব কষ্ট হলেও নিরঞ্জনের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে থাকে। ২০০৫ সালে এইচ এস সি এবং ২০১০ সালে বি এস এস পাস করেন তিনি। জীবনে অনেক ইচ্ছা ছিল বড় কিছু হবার কিন্তু আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় তা হতে পারিনি। এখনো ভালো একটা চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ান।

মেধাবী নিরঞ্জন সূত্রধরের শিক্ষক হিসেবে রয়েছে প্রচন্ড সুনাম। তিনি মধুপুর উপজেলা শহরে একজন জনপ্রিয় শিক্ষক হিসেবে ইতিমধ্যে সর্বজনের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র হিসেবে অত্যন্ত সুপরিচিত হয়েছেন। তাকে সমাজের সকলেই ভালোবাসেন, সম্মান করেন, শ্রদ্ধা করেন।

একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে যেসব গুনাবলী থাকা দরকার তার সবই পরিলক্ষিত হয় নিরঞ্জন সূত্রধরের মধ্যে। তার সহজ-সরল মানসিকতা, সততা, নম্রতা শ্রদ্ধার আসনে বসাতে দেরী করেন না কেউ। মধুপুর উপজেলা শহরে একজন কিন্ডার গার্টেন শিক্ষকের এতোটা জনপ্রিয়তা হতে পারে তা ভেবেও হিমশিম খেতে হয়।

নিরঞ্জন সূত্র ধর নিজেকে স্থায়ী কিছু করার মাধ্যমে আবিষ্কার করতে চান। তিনি বলেন “প্রাইভেট টিউশন কোন স্থায়ী ব্যবস্থা নয়। যথেষ্ট পড়ালেখা করা স্বত্ত্বেও ভালো কিছু করতে পারিনি। একটা ভালো ও স্থায়ী চাকরী হলে পরিবারের অর্থনৈতিক যোগান মিটিয়ে নিজেকে কিছুটা হলেও বিশ্রামে রাখতে পারতাম। জীবনের শুরু থেকেই পরিবারের অর্থনৈতিক অসঙ্গতির কারনে অর্থের সাথে যুদ্ধ করে যেতে হচ্ছে। মাঝে মাঝে প্রচন্ড হতাশ হয়ে পড়ি।”

নিরঞ্জন সূত্র ধর নিজে দরিদ্র পরিবারে জন্ম গ্রহণ করে বেড়ে উঠায় সবসময় দরিদ্র-অসহায় শিক্ষার্থীদের পাশেও দাঁড়ান। যাদের বেতন দিতে সমস্যা তাদের থেকে তিনি বেতন নেন না। তিনি সকাল থেকে রাত এগারোটা অবধি খাটাখাটুনি করে পরিবারের অর্থনৈতিক ব্যয়ভার বহন করেন। মধুপুরে শত শত স্টুডেন্ট আছে যারা বিনাবেতনে নিরঞ্জনের থেকে পাঠ নিয়েছেন। কখনো তিনি বেতনের জন্য কারো উপর জোরারোপ করেন নি। অমায়িক ব্যবহারের মাধ্যমে সকলের মন জয় করে চলেছেন তিনি।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840