সংবাদ শিরোনাম:
দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকার সেরা অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন ‘ভোট জালিয়াতি’ তদন্তের নির্দেশ চট্টগ্রামে গলায় ছুরি ধরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ধর্ষকদের বাঁচাতে কাউন্সিলরপ্রার্থী বেলালের দৌড়ঝাঁপ নারী নির্যাতন মামলায় বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের বিবাহিত সভাপতি মাহবুব হোসেন কারাগারে দুই নবজাতকের লাশ নিয়ে হাইকোর্টে বাবা কনস্টেবলকে মারধর, শ্রমিকলীগ নেতার স্ত্রী কারাগারে অবক্ষয় থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে চলচ্চিত্রের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে- তথ্যমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2020 কর কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২০ ৯ দিনে করোনা জয়ী তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
মাইক্রোসফটের সঙ্গে পেন্টাগনের ৮৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ চুক্তি

মাইক্রোসফটের সঙ্গে পেন্টাগনের ৮৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ চুক্তি

মাইক্রোসফট ও পেন্টাগন
মাইক্রোসফট ও পেন্টাগন

আধুনিক বিশ্বের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র। যাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও যথেষ্ট শক্ত হওয়া বাঞ্চনীয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন। তারা তাদের প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিতে তাদের কম্পিউটার ব্যবস্থা উন্নত করে ‘ক্লাউড’ নির্ভর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটি ১০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে বলে সম্প্রতি জানা যায়।

গুঞ্জন ওঠেছিল ‘ক্লাউড কম্পিউটিং’ এর এই চুক্তিটি আমাজনের সঙ্গে করতে যাচ্ছে পেন্টাগন কর্তৃপক্ষ। তবে এক প্রতিবেদনে বিবিসি গত শনিবার জানিয়েছে, আমাজন নয়, বিপুল পরিমাণ অর্থের এই কাজটি পেন্টাগন মাইক্রোসফটকে দিয়ে করাচ্ছে। তাদের চুক্তি সম্পাদন ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন তাদের কম্পিউটার ব্যবস্থা উন্নত করে ‘ক্লাউড’ নির্ভর করার জন্যই এতো বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা খাতে মাইক্রোসফট নামক বিশ্বের জনপ্রিয় এই প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা বাজেটের কাজ করতে দিয়েছে। যা মাইক্রোসফট তথা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের এই দশকের সবচাইতে বড় বাজেট।

‘জয়েন্ট এন্টারপ্রাইজ ডিফেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার (জেডি)’ নামের ১০ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের মাধ্যমে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরকে প্রযুক্তিগত দিক থেকে আরও বেশি সক্ষম করে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। যে দেশ যত বড়, শক্তিশালি তাদের ঝুঁকিও ততবেশি।

পেন্টাগন এর একজন দায়িত্বশীল অভিভাবক জানায় “প্রকৃতপক্ষে বর্তমানে প্রযুক্তি নির্ভর সবকিছু। এই প্রযুক্তির যুগে তথ্য যেমন সহজ প্রাপ্য তেমনি এর নিরাপত্তা বিধান খুবই শক্ত। আমরা আমাদের প্রযুক্তি আর ও নিরাপদ করতে চাই। নিরাপদে রাখতে চাই। আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে বিশেষ কিছু সুবিধা চাই। যা আমাদের সৈনিকদের নিরাপদ রাখবে। ”

‘জয়েন্ট এন্টারপ্রাইজ ডিফেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার (জেডি)’ নামের ১০ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের মাধ্যমে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরকে প্রযুক্তিগত দিক থেকে অধিক সক্ষম করে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে এতে করে প্রতিযোগি রাষ্ট্রগুলো থেকে আরেকধাপ এগিয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। খুব সহজেই অন্যদের তথ্য খুব দ্রুত পৌছে যাবে এখন তাদের কাছে।

প্রযুক্তির প্রতিযোগিতার বাজারে সবসময় রাশিয়া, চিন, উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের চেয়ে এগিয়ে থাকতে মরিয়া। তারই ধারাবাহিকতায় নিজেদের সক্ষমতা আর-ও বাড়ানোর লক্ষেই পেন্টাগনের এমন সিদ্ধান্ত যা ভাবিয়ে তুলেছে প্রতিযোগি রাষ্ট্রগুলোকে।

চুক্তির বিষয়ে পেন্টাগন জানিয়েছে, সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণ শেষে মাইক্রোসফটকেই তারা বেছে নিয়েছে। আমাজন এই চুক্তির প্রেক্ষিতে হতাশা প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে যদি সঠিক সিদ্ধান্ত হতো তবে হয়তো এমনটা হতো না। এই বিষয়ে মাইক্রোসফট বেশ উচ্ছসিত।

অতীতে বেশ কয়েকবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টের মালিক জেফ বেজস এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। এর কোন প্রভাব আছে কি না উক্ত চুক্তিতে সেটাও ভাববার বিষয়। অনেকেই বলেছেন ট্রাম্পের সরাসরি প্রভাব রয়েছে এখানে।

অতীতে আমাজন ও পেন্টাগনের চুক্তি-সম্পর্কিত অজস্র অভিযোগ ছিল। দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যে চুক্তি গুলো হয়েছিল, তা যথেষ্ট স্বচ্ছ নয়। এ জন্য কোন প্রক্রিয়ায় নতুন চুক্তিটি হতে চলেছে, সেটি যাচাই করার জন্য তাঁর প্রশাসন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে বলে ট্রাম্প আগেই জানিয়েছে।

এই চুক্তির ফলে মাইক্রোসফটের শেয়ারের দর অনেকটা বাড়বে। একই সঙ্গে আসন্ন বছরগুলোতে কোম্পানিটি অর্থ-সম্পর্কিত নানা ব্যবস্থাপনা ইতিবাচকভাবে সম্পন্ন করতে পারবে। কোম্পানীটি আগামি বছর গুলোতে এর সুবিধা পাবে যা আমাজনকে পিছিয়ে দিয়েছে। মাইক্রোসফট বিশেষ কিছু দিতে বদ্ধ পরিকর।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর তাদের ব্যবহার করা পুরোনো কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা ভেঙ্গে ক্লাউড ভিত্তিক একক কম্পিউটার নেটওয়ার্ক তৈরি করতেই এই বৃহৎ বাজেট নিয়ে কাজে হাত দিয়েছে।

জেডি প্রকল্পের মাধ্যমে মার্কিন সামরিক বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আরও সহজে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তে ঢুকতে পারবে। তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও সুক্ষ্ম বিশ্লেষণের জন্য এটি এই মুহুর্তে আমেরিকার দরকার ছিল। অন্যদের তথ্য উপাত্ত খুব সহজে জেনে নিতে পারলে অন্যরা কখনোই তাদের সাথে পেরে উঠবে না।

চুক্তির আওতায় মাইক্রোসফট পেন্টাগনকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর বিশ্লেষণ ও অতি গোপনীয় সামরিক কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সেবাসহ আরও কিছু বিশেষ সেবা দেবে যা অন্যান্য দেশের উপর নিয়ন্ত্রনে সুবিধা দিবে। চুক্তির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হয়েছে।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840