সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
মুক্তিকামী জনতার প্রত্যাশিত শক্তি ইসলামী আন্দোলন

মুক্তিকামী জনতার প্রত্যাশিত শক্তি ইসলামী আন্দোলন

মুক্তিকামী জনতার প্রত্যাশিত শক্তি ইসলামী আন্দোলন
মুক্তিকামী জনতার প্রত্যাশিত শক্তি ইসলামী আন্দোলন

একঃ ইসলামী রাজনীতিতে আজ চরম হতাশা বিরাজ করছে। আদর্শিক দ্বন্দ্ব, নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা, ক্ষমতার মোহ সব মিলিয়ে ইসলামী রাজনীতিতে আজ এক হতাশাজনক অবস্থা। ইসলামী দলগুলো আজ অনৈক্যের বেড়াজালে আবদ্ধ। ঠিক সেই মুহুর্তে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জাতিকে নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে। সেই স্বপ্নের সারথি হতে এগিয়ে আসছে মুক্তি পাগল জনতা।

ক্ষমতার দ্বন্ধে, রাজনৈতিক শক্তি পরীক্ষার কবলে পড়ে তারা নিজেদের কে আর ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিতে চাইনা। স্বাধীনতা পরবর্তী রাজনৈতিক অন্তদ্বন্ধে আর ক্ষমতার মোহে হিংসাত্বক রাজনীতির চর্চার ফলে খুন গুমের পরিণাম আজ অসহনীয় মাত্রায় এসে দাঁড়িয়েছে। মানুষ ক্ষমতালোভীদের থেকে মুক্তি চাই।

হিংসাত্বক রাজনীতি থেকে বাঁচতে এদেশের মানুষ বিকল্প রাজনৈতিক দলের প্রতিক্ষায় ছিলেন। শান্তিকামী মুক্তি পাগল জনতার প্রতিক্ষার পালা শেষ। এদেশের মানুষে তাদের প্রতিক্ষিত বিকল্প রাজনৈতিক দলের সন্ধান পেয়েছে। যে বিকল্প রাজনৈতিক দলটি এদেশে শান্তি প্রতিষ্টায় অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। যে বিকল্প শক্তি এদেশ থেকে খুন,গুম, ধর্ষণ, রাহাজানি চিরতরে বন্দ করবে। হিংসাত্বক রাজনীতি চর্চার অবসান করে সুখী সমৃদ্ধ কল্যাণকর রাষ্ট্র প্রতিষ্টা করবে।

শান্তিকামী মুক্তিপাগল জনতার প্রতিক্ষিত রাজনৈতিক বিকল্প শক্তি হিসেবে শান্তির বার্তা নিয়ে আজ বাংলাদেশের বুকে জনতার পক্ষে কথা বলতে রাজপথে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। অবহেলিত,শোষিত, বঞ্চিত জনতার মুক্তির বার্তা নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আজ দেশদ্রোহী, ক্ষমতালিপ্সু,হিংসাত্বক রাজনীতির চর্চাকারীদের বিরুদ্ধে ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে।

স্বাধীনতার পর থেকে মানুষ পরিবর্তনের লক্ষ্যে ভোট দিয়ে সরকার নির্বাচিত করেছে। মুক্তিপাগল জনতার ভোটে নির্বাচিত হয়ে সেই জনতার বুকে গুলি চালিয়েছে সেই সরকারের পুলিশবাহিনী। যে জনগের টাকায় সরকার চলে, যে জনগনের টাকা দিয়ে পুলিশের অস্ত্র কেনা হয়েছে সেই অস্ত্রের গুলিতে জনগন মরবে তা এদেশের মুক্তিপাগল জনতা কখনো চাইনি।

যাদের টেক্সে দেশ চলে তাদের উপর নির্যাতনের ষ্ট্রিমরোলার চলছে যুগের পর যুগ। এদেশে যারা ক্ষমতায় আছে এবং ছিল তারা দেশ ও দেশের জনগনের কথা ভাবেনি। ভেবেছে তাদের কথা,ক্ষমতার কথা,সম্পদের কথা। ১৯৭১ সালে যে আশা আকাঙ্খা নিয়ে এদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে করেছিল আদৌ সেই আশা আকাঙ্খা পূর্ণ হয়নি। এদেশের মানুষ জুলুম, নির্যাতন,শোষণ বঞ্চনা থেকে বাঁচতে মুক্তিযুদ্ধ করেছিল। মা বোনের ইজ্জত বাঁচাতে, মৌলিক অধিকার ফিরে পেতে মুক্তিযুদ্ধ করেছিল।

স্বাধীনতার ৪৭ বছর অতিক্রম হওয়ার পরেও যখন এদেশের মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকে, মা বোন যখন ধর্ষিত হয়, বাবার সামনে ছেলের আর সন্তানের সামনে বাবার রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকে, পরিবারের একমাত্র উপর্জনক্রম ব্যক্তির লাশ যখন রাস্তার পাশে পড়ে থাকে তখন এদেশের মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ভাবে আবারো যুদ্ধ করবে। মুক্তিপাগল জনতার মুক্তির বার্তা নিয়ে রাজনীতির পিচ্ছিল ময়দানে নেমে এসেছে।

জনতার মুক্তির লক্ষ্যে শাসন ক্ষমতার পরিবর্তনের তাগিদে জাতীয় – স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। মুক্তি পেতে হলে ইসলামের পক্ষে হাতপাখায় ভোট দেওয়ার বিকল্প নেই।গত জাতীয় নির্বাচনে জনতার মতের প্রতিফলন ঘটার কথা থাকতে ছিল কিন্তু তা হতে পারেনি জুলুমবাজদের কারণে।

দুইঃ এদেশের মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে যারা সরকার গঠন করে তাদের সবাই এদেশের মানুষকে জিম্মি করে রাখে। ক্ষমতার দ্বন্ধে প্রাণ হারায় গরীব দুঃখি মেহনতি মানুষ। হিংসাত্বক রাজনীতির করালগ্রাসে ধ্বংস হচ্ছে এদেশের ঐতিহ্য আর রাজনৈতিক সংস্কৃতি। ক্ষমতালোভীরা হিংসাত্বক রাজনীতির চর্চা করে রাজনীতিকে কুলষিত করেছে।

আজকের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এতটাই নোংরা হয়েছে যে তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। নিজেদের সুবিধামত সংবিধান সংশোধন আর নিজেদের সুবিধার্থে আইন প্রনয়ণ করে জাতিকে জিম্মি করে ক্ষমতাকে আকড়ে ধরতে চায়। জনতার সুখের কথা না ভেবে পারস্পরিক দ্বন্ধে শেষ হচ্ছে দেশের সম্পদ, দেশের জশখ্যাতি। বিশ্বের মানচিত্রে দুর্নীতিতে বার বার চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে আমাদের সোনার বাংলাদেশ।

তিনঃ ক্ষমতাকে স্থায়ী করতে নানা কুটকৌশলের আশ্রয় নেয় ক্ষমতাসীনরা। যারাই ক্ষমতায় যায় তারাই ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরতে চায়। কখনো সোনার বাংলা, কখনো সোনার বাংলা, কখনো নতুন বাংলা আবার কখনো ডিজিটাল বাংলার শ্লোগান দিলেও এদেশের মানুষের অধিকারের কথা ভুলে যায় শাসকগোষ্ঠী।

শাসনক্ষমতা পেলে যেন জনতার ঘাড়ে বসে থাকতে চায়। জনগনের ভোটে মসনদে বসে জনতার অস্তিত্ব কে তনছন করতে দ্বিধাবোধ করেনা। স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা পত্রে উল্লেখিত সাম্য মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্টা এখনো হয়নি। তাই আসুন সাম্য মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্টায় ইসলামের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে। ক্ষমতালোভী রাজনৈতিক দলের কবল থেকে মুক্তি পেতে মুক্তিপাগল জনতার যে শক্তির প্রতিক্ষায় ছিলেন সে শক্তি আজ জনতার পক্ষে কথা বলছে। আর সেই প্রতিক্ষিত শক্তির নাম ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

লেখকঃ নুর আহমদ ছিদ্দিকী

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840