সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
মেহেরুন্নেসা চৌধুরীর তিনটি ভিন্নধারার কবিতা

মেহেরুন্নেসা চৌধুরীর তিনটি ভিন্নধারার কবিতা

মেহেরুন্নেসা চৌধুরী
মেহেরুন্নেসা চৌধুরী

মুহাম্মদ (সঃ)
মেহেরুন্নেছা চৌধুরী
—————————————-

প্রাণহীন মরুভূমির অনন্ত জীবনের প্রশ্রবন
আমার প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ)।
ধরণীর বুকে এসেছিলেন তিনি
মানবতার মুক্তির বার্তা নিয়ে
মা আমেনার কোল জুড়ে।
মরুভুমির তপ্ত বালির কণা অনুকণা থেকে
আকাশ, বাতাস, চন্দ্র, তারা
মহান আল্লাহর প্রত্যেকটি সৃষ্টি
সেদিন উদ্ভাসিত।
উৎফুল্ল সেদিন ফেরেস্তাকুল
সর্বশ্রেষ্ঠ শিশুর নূরের প্রভায়
প্রউজ্জ্বলিত বিশ্ব ভূমন্ডল।
অতঃপর!
অতঃপর এই ছোট্ট শিশুর
জীবনই শুরু হলো পরীক্ষিত।
দারিদ্র্যতার কোষাগারে চলতে থাকে
এতিম শিশুর যাপিত জীবন।
দিন, মাস, বছর এভাবেই,
এভাবেই চলতে থাকে
বিশ্ব প্রকৃতি ও সৃষ্টি বৈচিত্র্যের জ্ঞানের ভান্ডার
সত্যবাদী পরোপকারী আল-আমীনের।
সামনে- পেছনে, ডানে-বায়ে
অধর্ম, কুসংস্কার,
জাহেলিয়াতি জুলুম অত্যাচার,
ব্যভিচার দেখতে দেখতে
গভীর আত্ন শোকে ধ্যানে মগ্ন হন তিনি।
আল্লাহু আকবর।
সুউচ্চ মাথা তুলে সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে
পবিত্র জাবালে নূর।
পাথরের পর পাথরে রয়ে গেছে
প্রিয় নবীর পদো ছোঁয়া।
নূরের জ্যোতির ছটায় আলোকিত হতো
হেরা গুহার অভ্যন্তর।
মহান আল্লাহর দূত হযরত জিব্রাঈল (আঃ) সেদিন বলেছিলেন,
সেদিন বলেছিলেন,” পড় তোমার প্রভুর নামে”।
এভাবে একে একে নাযিল হতে লাগল
পবিত্র কোরআনের এক একটি সূরা।
উম্মতে মুহাম্মদের মুক্তির সংবিধান।
হাজারো লক্ষ লাঞ্চনা, অপমান, জুলুম নির্যাতন
অবশেষে, নাড়ী কাটা প্রিয় জন্মভূমির মায়া ছেড়ে
আহত হৃদয়ে দেশ ত্যাগ।
শুধু, এই সংবিধান প্রতিষ্টার জন্য,
পথভ্রষ্ট মানুষকে সঠিক পথ দেখানোর জন্য,
আল্লাহ এক, অদ্বিতীয়
এই বিশ্বাস প্রতিষ্টার জন্য,
আল-কোরআন
আল্লাহর সর্বশেষ ও সর্বশ্রষ্ট আসমানী কিতাব।
তা বিশ্বাস স্থাপনের জন্য।
অতঃপর, আরবের পবিত্র মক্কা মদিনায়
হাজারো স্মৃতির নিদর্শন রেখে
পবিত্র মদিনার সবুজ গম্বুজের নীচে
চির শায়িত আছেন আজ
উম্মতের দুজাহানের সর্দার, বিপদের বন্ধু,
হাশরের ময়দানের সাহায্যকারী হযরত মুহাম্মদ (সঃ)।
হাজারো দরুদ ও সালাম প্রিয় নবী (সঃ) আপনার প্রতি।

পথের বিড়াম্বনা
মেহেরুন্নেছা চৌধুরী
—————————————
যে পথে যাই কখনও তা সুগম
কখনও রয়েছে সহসা দুর্গম,
পাড়ি দিতে হয় তবু ও সে পথে
পদে পদে কাটি পথের বিড়াম্বনা।
কখনও বলো আছি,তোমার সাথে
তখন ভাবি, নই আমি নিঃসঙ্গ,
পরোক্ষণে দেখি, অজস্র ব্যস্ততায় ভরা।
প্রতিটি যাত্রা পথে নেই কোন সঙ্গ।
তবু আছ, নিবিড় বন্ধনে।
সাহস যোগিও সদা চিত্তে মোর,
ভয় জাগে মনে, হারিয়ে এ পথ
পতিত হবো কিনা দূর- বহুদূর।
যাব সম্মুখে নির্ভীক মনে
আশায় বাধিঁ বুকে ভেলা,
ভুবন মাঝে বিচিত্র জনে
নিত্য খেলে রংয়ের খেলা।
আশ্বাস দিও করিবে পার
জড়তার অপার বারিধর,
সাঁতরিয়ে কাটি প্রতি পথে পথে
হাঁপিয়ে উঠি বিরহী বিধিবার।
করিতে থাকি আবার পুনঃ পুনঃ
ঘুরে ফেরার সাধনা,
আছে আর থাকিবে সদা সর্বদা
চলার লগনে পথের বিড়াম্বনা।

পথ শিশু
মেহেরুন্নেছা চৌধুরী
—————————
পৌষের কুয়াশার চাদরে ঢাকা সকাল।
যানজট ভরা ব্যস্ততম শহরে
জংধরা গাড়ীর বিষাক্ত বিরক্তিকর কালো ধোঁয়ায়
সাঁতরিয়ে উঠা কোমল মতি শিশু গুলো।
হ্যাঁ,সেই শিশু যার মুখে কালিমা,
হাতে পায়ে ধোঁলোর মোজা
আমি সেই শিশুর কথা বলছি
উড়ন্ত সেতুর পিলার ঘেঁষে
বসে থাকা কাঁপা কাঁপা ঠোট দুটো।
যে দিকে যাই দুর দুর ভেংচি খাওয়া,
অথচ,কতো মায়া।
গভীর আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরা
ছেড়া ওড়নার চাদরে,
উত্তরের হিমেল হাওয়ার
নিষ্ঠুর প্রতিঘাতি আক্রমনে
পাঁচ ইন্দ্রয়ে জট ধরে।
চক্ষু খোলে দেখে সবাই।
আবার,চলেও যাই।
হায়রে বিবেকবান মনুষ্য।
নিজেকে বড়ই অসহায় ভাবি।
পারিনা, কিছুই পারিনা।
লক্ষ কৌটি মানুষের ক্ষুদ্র অনুভূতি
একবার হাত বাড়িয়ে ভালবাসো,
মন ডাকে, আয়, আয়রে পথশিশু।
চারটি বেড়ার একটি চাউনি
এখনও কি কোথাও খুজিয়ে পাওনি?
এতো অলিগলি, এতো ধনবান
মেয়র মন্ত্রীর দায়তো সমান।
বাড়িয়ে দাও দু’হাত এবার।
আমরাও মানুষ, ওরাও তো মানুষ।
অধিকার দাও বাঁচিবার।

কবি মেহেরুন্নেছা চৌধুরী, পিতাঃ মির আহমদ চৌধুরী, মাতাঃ জাহানারা চৌধুরী, গ্রামঃ হাইল’ধর, উপজেলাঃ আনোয়ারা, জেলাঃ চট্টগ্রাম।উচ্চশিক্ষিতা কবির শিক্ষাগত যোগ্যতা -এম এ যদিও পেশায় গৃহিণী।তার কাজের পাশাপাশি শখ হচ্ছে বই নিয়ে পড়ে থাকা। অন্যদের বই পড়া এবং নিজে লেখা।
তার একক কবিতার বই “একান্ত অনুভূতি” যা ২০১৮ বইমেলায় আসে। একটি যৌথ কবিতার বই “হৃদয় রাখির ডোর”। আল্লাহ অশেষ রহমতে সামনের বইমেলায় আসবে একক গল্প গ্রন্থ ” হিয়ার মাঝে আকুল সুধা” তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। আর-ও তিনটি যৌথ কবিতার বই আসবে যার কাজ চলছে।
কবির লেখায় রয়েছে গভীর দেশাত্মবোধের উপলব্ধি।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840