সংবাদ শিরোনাম:
রাজনৈতিক দুরবৃত্তায়ন বনাম সুশীল সমাজের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা

রাজনৈতিক দুরবৃত্তায়ন বনাম সুশীল সমাজের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা

ছাত্রলীগের হামলা/ ভিসির দায়/ আওয়ামীলীগ
ছাত্রলীগের হামলা/ ভিসির দায়/ আওয়ামীলীগ

রাজনীতি মানে নীতির রাজা যা এখন দুরবৃর্ত্তদের হাতে বন্দি। রাজনীতি হওয়ার কথা ছিল মানবতা ও দেশের কল্যাণে কিন্তু বর্তমান রাজনীতি হল নিজেদের স্বার্থ হাসিল ও ক্ষমতার অপব্যবহার। ক্ষমতাসীন নেতা কর্মীদের কর্ম লাগেনা রাজনীতি করেই তারা হয়ে যায় আঙ্গুল ফুলে বটগাছ।রাজনীতিতে দুরবৃত্তদের আগ্রাসন জ্যামিতিক হারে বেড়ে চলছে। স্বাধীনতা পরবর্তী যারাই ক্ষমতায় ছিল ও আছে তারা নিজেদের স্বার্থের কথা যতটা ভেবেছ ততটা দেশ ও দশের কথা ভাবেনি। ক্ষমতায় গিয়ে লুটেরারা ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।

ক্ষমতাসীন দলের পদ পদবী যেন আলাদিনের গুপ্তধন। যুবলীগের পদ পাওয়ার জন্য ভিসির পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি মিজানুর রহমান।তাকে যুবলীগের সভাপতির পদ দিলে তিনি ভিসি পদ ত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন। এই যেন ইসি, ভিসি, ডিসি সবাই আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের সাংসদ শামীম ওসমান ক’দিন আগে এক অনুষ্টানে বলেছিল, এখন ডানে বামে সবাই আওয়ামী লীগ। পুলিশ, ডাক্তার, প্রফেসর সবাই আওয়ামী লীগ হয়ে গেছে। সবাই যে আদৌ আওয়ামী লীগ হয়ে গেছে তা নয় বরং তোষামোদ আর আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ড বিক্রি করে বিত্তবান হওয়ার ধান্দা করছে।

গতকাল জাবিতে ছাত্র ও শিক্ষকদের যৌক্তিক আন্দোলনে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের হামলা মিডিয়ায় দেখলাম। ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা এক শিক্ষককে মারতে মারতে মাটিতে ফেলে দিয়েছে এবং আরেকজন শিক্ষক কে শার্ট ধরে টানাটানি করছে। পিতৃতুল্য শিক্ষকদের শরীরে আঘাত করতেও তাদের অন্তর কাঁপেনা। এরা কি আদৌ ছাত্র নাকি ছাত্র সেজেছে বুঝে আসেনা। আন্দোলনরত এক মেয়েকে তারা যেভাবে তলপেটে লাথি মারল তা জাতিকে ভাবনায় ফেলেছে দেশের ছাত্ররাজনীতি কোন দিকে যাচ্ছে।

গত ২ নভেম্বর রাজশাহী পলিটেকনিক এর প্রিন্সিপ্যাল কে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা টেনে হেচড়া করে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে মারতে চেয়েছিল। প্রিন্সিপ্যাল এর দোষ ছিল অকৃতকার্য ছাত্রলীগ কর্মীদের ফরম পূরণ করতে না দেওয়া। একজন বাবার বয়সি শিক্ষক কে যারা নির্দয়ভাবে মারতে পারে তারা কখনো ছাত্র হতে পারে না।এরা দুর্বৃত্ত ও সন্ত্রাস।

বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার মাস না পেরুতেই পলিটেকনিক প্রিন্সিপ্যালের উপর হামলা এবং জাবিতে ছাত্র ও শিক্ষকদের উপর ছাত্রলীগ হামলা করেছে।আমরা একটা বিষয় গভীর ভাবে লক্ষ্য করেছি তাহল সাম্প্রতিক এই হামলার কোন প্রতিবাদ করেনি সুশীল সমাজ। এরা এখন নিরবতা পালন করছে।

নারায়ণগঞ্জের মৃনাল কান্তি নামক এক শিক্ষক আমাদের প্রিয় নবী কে নিয়ে কটুক্তি করায় জাতীয় পার্টির শওকত ওসমান তাকে কান ধরে উঠ বস করিয়েছিল শাস্তি স্বরুপ। এই কারণে সুশীল সমাজ ফুঁসে উঠে। সে যে নবীকে কটুক্তি করেছে তার কোন প্রতিবাদ হয়নি বরং তাকে কানে ধরানোর প্রতিবাদে সুশীল সমাজ ও প্রগতিশীল নামের লোকজন কান ধরে দেশব্যাপি উঠ বস করে কিন্তু পলিটেকনিকের বাবার বয়সি শিক্ষক কে পানিতে ডুবিয়ে মারার চেষ্টার কোন সুশীল সমাজ প্রতিবাদ করেনি। পলিটেকনিক এর প্রিন্সিপ্যাল দাড়ি, টুপি আর পাঞ্জাবি পরিহিত তাই তার পক্ষে হয়ে প্রতিবাদ করেননি! পলিটেকনিক এর ঐ প্রিন্সিপ্যাল হিন্দু হলে এতক্ষণে দেশব্যাপি আন্দোলন হত। মিছিল মিটিং হত। যারা নিজেদের সুশীল ও প্রগতিশীল দাবি করেন তাদের বলছি আপনাদের কারণে এদেশে দুরর্বৃত্তদের পদায়ন হচ্ছে।

জাবি ভিসি ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের ধন্যবাদ দিচ্ছেন। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছে। আমরা হতবাক ভিসি কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর উপর হামলার নির্দেশ দিতে পারে। বিশ্বজিৎ হত্যা, ফেনীর নুসরাত হত্যা, বরগুনার রিফাত শরিফ হত্যার, আবরার ফাহাদ হত্যাসহ বিভিন্ন হত্যাকান্ডের সাথে ছাত্রলীগের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হাত রয়েছে।

ছাত্রলীগ এখন ছাত্র রাজনীতি করছে না, করছে খুন খারাবির রাজনীতি। আমাদের জাতির স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এমন ছাত্রলীগ চাইনি।প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব দয়া করে ছাত্রলীগের লাগাম টানুন। অন্যথায় আপনার নৌকা আপনিসহ ডুবে যেতে পারে। দুর্নীতিবাজ জাবি ভিসিকে বাঁচাতে কেন তারা আজ মাস্তানের ভূমিকায়? এটাই কি ছাত্ররাজনীতি ? আর কতটা নৃশংসতা করলে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর বোধোদয় হবে জানিনা। সর্বত্র আজ ছাত্রলীগের তান্ডবে অতিষ্ট জনগন। কোনো কিছুতেই থামছে না ছাত্রলীগ।

প্রায় ১১ বছর ধরে ছাত্রলীগ মূলত আলোচনায় এসেছে হত্যা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই কিংবা টেন্ডারবাজির কারণে। ভালো কাজের জন্য ছাত্রলীগ গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে—এমন নজির নিকট অতীতে খুঁজে পাওয়া যাবে বল মনে হয় না।

২০১০ সালে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত হন ঢাবির শিক্ষার্থী আবুবকর সিদ্দিক। একই বছর ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে মারা যান জাবির শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ। ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক নিষ্ঠুর ও নৃশংস ঘটনার জন্ম দিয়ে যাচ্ছে ছাত্রলীগ। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়ে ছাত্রলীগের নিজেদের কোন্দলে নিহত হন ৩৯ জন। আর এই সময়ে ছাত্রলীগের হাতে প্রাণ হারান অন্য সংগঠনের ১৫ জন।

২০০৯ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের একাংশের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আসাদ ওরফে রাজীবকে হত্যা করে লাশ বহুতল ভবন থেকে ফেলে দিয়েছিল ছাত্রলীগ। ২০১০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কর্মী নাসরুল্লাহ নাসিমকে নিজ সংগঠনের কর্মীরাই মারধর করে বহুতল ভবন থেকে ছুড়ে ফেলে হত্যা করেন।

২০১০ সালে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী আবুবকর সিদ্দিক। একই বছর ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে মারা যান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ। ২০১২ সালে ছাত্রলীগ নেতাদের চাপাতির কোপে প্রাণ হারান পুরান ঢাকার দরজি বিশ্বজিৎ দাস।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো কাজে ছাত্রলীগকে খুঁজে পাওয়া না গেলেও বারবার সাধারন শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলনে হামলা চালিয়েছেন ছাত্রলীগ নামিয়েও এই সংগঠনটির কর্মীরা। কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের মতো আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারধর করার অসংখ্য অভিযোগ তাঁদের বিরুদ্ধে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হকের ওপর ঢাকা ও ঢাকার বাইরে অন্তত সাতবার হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, জনগন আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে জিম্মি।এই সরকারের আমলে ঘরে থাকলে খুন এবং বাইরে গেলে গুম হয়ে যায় মানুষ।

আজ কোথাও মানুষ নিরাপদ নয়। এমন কি মায়ের পেটের সন্তানও নিরাপদ নয় বলে দাবি করেন চরমোনাই পীর সাহেব।সব কথার এক কথা হচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের কাছে দেশের মানুষ জিম্মি ও অসহায়।

লেখকঃ নুর আহমদ সিদ্দিকী

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840