সংবাদ শিরোনাম:
দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকার সেরা অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন ‘ভোট জালিয়াতি’ তদন্তের নির্দেশ চট্টগ্রামে গলায় ছুরি ধরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ধর্ষকদের বাঁচাতে কাউন্সিলরপ্রার্থী বেলালের দৌড়ঝাঁপ নারী নির্যাতন মামলায় বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের বিবাহিত সভাপতি মাহবুব হোসেন কারাগারে দুই নবজাতকের লাশ নিয়ে হাইকোর্টে বাবা কনস্টেবলকে মারধর, শ্রমিকলীগ নেতার স্ত্রী কারাগারে অবক্ষয় থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে চলচ্চিত্রের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে- তথ্যমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2020 কর কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২০ ৯ দিনে করোনা জয়ী তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
রিক্সাচালক আতিক, অনার্সের স্টুডেন্ট

রিক্সাচালক আতিক, অনার্সের স্টুডেন্ট

doinik71
doinik71

একজন ব্যক্তি ফেইসবুক স্ট্যাটাসে এক নায়কের পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।বাস্তবজীবনে সত্যিই সে একজন নায়ক। একজন আতিক সবার অনুপ্রেরণার গল্প হোক। কি লিখেছেন সেই স্ট্যাটাসে?

রাত ১০.৩০ টা।

টি,এস,সি থেকে শাহবাগের রিক্সা নিয়েছি। রিকশাচালক কম বয়সী। সম্ভবত আমার চেয়েও ছোট হবে।

তো রিক্সাতে উঠার পর চালককে জিজ্ঞেস করলাম,

-ভাই আপনি কি মগবাজার যাবেন?

-না ভাই। এখন এতোদূর যাবো না।

-আচ্ছা। শাহবাগেই নামায়ে দেন।

-আচ্ছা ভাই, এখান থেকে দিনের বেলা মৌচাক কিভাবে যান? রাতের বেলাতো শাহবাগ হয়ে যান, রাস্তা খোলা থাকে। দিনের বেলা তো এই রাস্তা বন্ধ।

-দিনের বেলা প্রেসক্লাব, সেগুন বাগিচা হয়ে যাওয়া লাগে।

-ও আচ্ছা। হাতিরঝিলটা কোথায়? ওদিক দিয়েই যেতে হয় নাকি?

-হ্যাঁ একই পথ দিয়ে যেতে হয়।

-ও আচ্ছা।

আমি তো রিক্সাচালকের কথা শুনে অবাক ! এতো শুদ্ধ আর স্পষ্ট উচ্চারণ অনেক শিক্ষিত লোকেও করতে পারে না।

ইতোমধ্যেই চালক গান ধরল। আমি আরেকবার অবাক হলাম। এতো সুন্দর গানের গলা, অনেকদিন শুনি নি।

তো শাহবাগে নেমে রিক্সাভাড়া দিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম,

-ভাই আপনি কোত্থেকে এসছেন? আপনার কথা শুনে তো মনে হয় না আপনি একজন রিকশাচালক !

-আমি অনার্স ফার্স্ট ইয়ারের স্টুডেন্ট। আমি কুড়িগ্রাম থেকে এসেছি।

-মানে !!

-আমি কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে পড়াশুনা করি।

-তো আপনি এখানে কি করছেন?

-আমার বাবা গরীব কৃষক। পড়াশুনার খরচ দিতে পারেন না। তাই মাঝে মাঝে ঢাকায় আসি। ১৫-২০ দিন রিক্সা চালালে ৭-৮ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারি। তাতেই আমার প্রায় ৩ মাস চলে যায়। তারপর আবার আসি। এবার ঈদের আগের দিন ঢাকায় এসেছি। আরো কিছুদিন থাকবো। ঈদের ছুটি এখানেই কাটাচ্ছি।

-অনেক কষ্ট করছেন ভাই পড়াশুনা করার জন্য।

-কিন্তু লাভ কি বলেন? আমরা গরীব মানুষ। চাকরী বাকরি আমাদের কপালে নাই। ইচ্ছা ছিল আর্মিতে ঢুকবো। কিন্তু মেডিকেলে গিয়েই বাদ পড়ে গেসি। আমার কয়েকটা বন্ধু আবার বিভিন্ন যায়গায় টাকা দিয়ে ঢুকে গেসে। আমরা কি আর এগুলো পারবো? পরে ভাবলাম ঢাকায় সরকারি বিজ্ঞান কলেজে ভর্তি হবো। কিন্তু গিয়ে দেখি ওখানে বেতন দেয়া লাগে। তাই আর হতে পারিনি। তাই যেটা পারি সেটাই করি। কিছু একটা করে তো খাওয়া লাগবে। আগে কারখানায় কাজ করতাম। কিন্তু ওখানে পোষায় না। তাছাড়া কারখানায় তো পুরো মাস কাজ করা লাগে। কিন্তু আমার তো পড়াশুনা আসে। তাই রিক্সা চালানোটাই আমার জন্য বেস্ট অপশন।

-ভাই আপনার নাম কি? কয় ভাই বোন আপনারা?

-মোঃ আতিকুর রহমান। আমরা চার ভাই দুই বোন। দুই বোনের বিয়ে দিয়ে দিসি। আর আমার বড় ভাইটা কুড়িগ্রামেই অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ে।

-মাশাল্লাহ। সুন্দর নাম আপনার। কিন্তু এতো সুন্দর গান শিখলেন কোথায়?

-কি যে বলেন ভাই। মন চাইলে গাই। কোথাও শিখি নাই।

-আপনার একটা গান রেকর্ড করি? খুব ভালো লাগসে আমার।

-আজ না ভাই। আরেকদিন। রিক্সা জমার সময় হয়ে গেসে। আমার নাম্বার টা রাখেন। আমি ঢাকা ভার্সিটিতেই সব সময় রিক্সা চালাই। আমাকে ফোন দিয়েন। আমি আরও ১৫ দিনের মতো আসি।

-আচ্ছা। খুব অবাক হলাম আপনার গল্প শুনে। এতো কষ্ট করে নিজের পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছেন। আল্লাহ্ নিশ্চয়ই আপনার ভালো করবেন।

-মুচকি হাসি।

হাসিটা এখনও দিলে লেগে আছে। আমরা কত কিছু নিয়ে কত অভিযোগ করি।

এই সমস্যা,সেই সমস্যা !

আমার এই নেই,সেই নেই !

আতিককে দেখুন। ওর কিছুই নেই। কিন্তু সব আছে।

আতিক আমাদের সবার জন্য একটি দৃষ্টান্ত। রিক্সা চালিয়ে অনার্সের পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছে। এবং সে পড়ালেখা শেষ করবে বলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ! ঈদে যখন আমরা ঘুরাঘুরি করে কূল পাচ্ছি না, তখন আতিক নিজের রক্ত পানি করে রিক্সা চালিয়ে নিজের পড়াশুনার খরচ যোগাতে ব্যস্ত ! এরকম দৃঢ় মনোবলের মানুষেরাই একদিন বড় হবে।

নিশ্চয়ই অনেক বড় হবে।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840