সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
রেস্টুরেন্টের নামে সেক্স পয়েন্ট: প্রতিবাদ করতে গিয়ে মার খেয়ে জেল হাজতে

রেস্টুরেন্টের নামে সেক্স পয়েন্ট: প্রতিবাদ করতে গিয়ে মার খেয়ে জেল হাজতে

সেক্স রেস্টুরেন্ট
সেক্স রেস্টুরেন্ট

মুনতাসির মাহমুদ হলেন চট্টগ্রাম কোটা সংস্কার আন্দোলনের একজন প্রথম সারীর নেতা। তিনি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন চট্টগ্রামের ডার্ক রেস্টুরেন্ট (সেক্স পয়েন্ট) নিয়ে। সেটা দেখার পর দৈনিক ৭১ সারাদেশেই তাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জরীপ চালায়। সে বিষয়ে প্রতিবেদন আসবে খুব তাড়াতাড়ি।

মুনতাসীর মাহমুদ লিখেছেন চট্টগ্রামে ডার্ক রেস্টুরেন্ট (সেক্স পয়েন্ট) নামে কিছু জায়গা আছে, যেখানে স্কুল কলেজের বাচ্চা ছেলে-মেয়েরা গিয়ে সেক্স করে। কিস বা হাগ না, ডাইরেক্ট সেক্স। যারা করে তাদের বেশিরভাগ ভার্সিটি লেভেলেও যায়নি, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী। এরা হিজাব পড়ে ঢুকে, সেক্স করে বেরোয়।

কিছুদিন আগে আমি এটা জেনে অবাক হই। ৪ দিন আগে প্রথমবারের মত কিছু রেস্টুরেন্টে গিয়ে নিজের চোখে প্রমাণ দেখে আসি। অনেক স্কুল পড়ুয়া মেয়েদের সরাসরি সেক্স করা অবস্থায় পাই। বয়স্ক লোকের সাথে সেক্স করতে দেখে মহসিন কলেজের একটা মেয়ের বাসায় কল করে তার আম্মুকে সাবধান করে দেই। পরে এই ঘটনা বন্ধ করার জন্যে উচ্চপদস্থ একজন পুলিশের সাথেও যোগাযোগ করি।

গতকাল যা ঘটেছিল, কোন প্ল্যান ছাড়াই। বের হয়েছিলাম, নিউ মার্কেট যাবো। হঠাৎ ছোট্ট একটা মেয়েকে হিজাব নিকাব পড়া অবস্থায় সেই ডার্ক রেস্টুরেন্টের সামনে দেখি। আমার সাথে থাকা বন্ধুটি বলে, এই মেয়ে সেক্স করতে আসছে। আমি বিশ্বাসই করি নাই।

আমি বলিঃ এত ছোট একটা মেয়ে! হিজাব-নিকাব পড়া, এগুলা করবে না। কিন্ত একটু পর যখন দেখি মেয়েটা আসলেই একটা ছেলের সাথে সেখানে যাচ্ছে আমার বন্ধুটি হঠাৎ রাগ সামলাতে না পেরে বাধা দিতে যায়।

২টা রেস্টুরেন্টের মধ্যে কমপক্ষে ১০ জোড়া ছাত্র-ছাত্রীকে সেক্স করা অবস্থায় পাই আমরা। সম্পূর্ন বিবস্ত্র, পাশে বোরকা-হিজাব। নীচে পড়ে আছে কনডম। অন্ধকার জায়গায় চারিদিক ঘেরা দিয়ে ছোট ছোট স্পেসে ওপেন সেক্সের ব্যবসা চলছে।

এগুলা আবাসিক হোটেল না, রেস্টুরেন্টের নামে তরুণ প্রজন্মকে সহজে সেক্সে উৎসাহিত করার কৌশল। অথচ, এই সমাজেই আপনার-আমার পরিবার আছে। ছোট বোন-ও আছে। কোচিং ফাঁকি দিয়ে প্রেম না, ডাইরেক্ট সেক্স করতে চলে আসে এরা।

আমরা বাধা দিতে এসে উল্টা আমরাই বাধার সম্মুখীন হই। নীচে মানুষ জমে গেছে, বোরকা পড়া মেয়েরা পালাচ্ছে। পুলিশকে ডেকে ঘটনা জানাই। পুলিশ মাত্র ১ জন। হঠাৎ কিছু বুঝার আগেই ডার্ক রেস্টুরেন্টের কর্মচারীরা ৪/৫ জন এক হয়ে মারতে শুরু করে আমাদের।

আমাদের চোর, চাঁদাবাজ বলে মারতেছে, সাধারণ মানুষ কিছু বাধা দিলেও পেটে, বুকে প্রচন্ড ঘুষি খাই। আমার বন্ধুটি দোকানে ঢুকে যায়। সাথে সাথে কলাপসিবল গেট আটকে দেয় অন্যরা। এরমধ্যে ডার্ক রেস্টুরেন্টকে শেল্টার দেয়া কিছু সন্ত্রাসী এক হয়ে গণধোলাইয়ের আয়োজন করে ফেলছিল। আমি একা হয়ে যাই।

বারবার পুলিশের সামনেই আমাকে ছিনিয়ে নিয়ে মারার চেষ্টা করে তারা। এরপর থানার ওসি চলে আসে এবং আল্লাহর রহমতে অল্পের জন্যে প্রাণে বেঁচে যাই।

আমাকে পুলিশের গাড়িতে করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আশেপাশে বহু সাধারণ মানুষ ছিল, কেউ কিছু বলেনি। হয়তো সন্ত্রাসীদের ভয়েই। এভাবেই তো চলছে দেশ…

থানায় নেয়ার পর শুরু হয় অন্য রাজনীতি। আমাকে চিনে যায় অনেকে। কোটা সংস্কার আন্দোলন করেছিস বলে গালাগালি শুরু হয়। খবর পেয়ে বিভিন্ন গ্রুপ চলে আসে৷ তাদের অনেকদিনের ক্ষোভ আমার উপর।

মানুষের ঘৃণ্য রুপ দেখে বাকরুদ্ধ হই, সেসব প্রকাশ করারও রুচি নাই। নির্দোষ জেনেও সবাই একসাথে গালি দিচ্ছে। “কোটা আন্দোলন করিস, তোকে তো থানায় না এনে পিটিয়ে মেরে ফেলা উচিত ছিল।” আমি একা আর সবাই মিলে আমাকে ফাঁসানোর অনেক চেষ্টা করে৷

এক জাতের চিহ্তি নাম বেচা গুন্ডাগুলা এই সুযোগ কেন ছাড়বে? তারা তাদের পেইজে অপপ্রচার চালায়, “ডিবি পরিচয়ে চাঁদাবাজি করার সময় কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা মুনতাসির গ্রেফতার!”

ঘৃণ্য অনেক খেলা চলে সেখানে। দ্রুত তারা থানায় চলে আসে। আমার জন্যে যারা গিয়েছিল তাদেরকে মেরে তাড়িয়ে দেয় ঐ নেশাখোর ও রাজনৈতিক মদদের নষ্টগুলো। চট্টগ্রামের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অনেকের মোবাইল চেক করে, গালি দিয়ে থানার সামনে থেকে সরিয়ে দেয় আমার ক্যাম্পাসের কথিত সরকার দলীয় ছাত্র নেতারা। কিন্ত কেন?

তারা নাকি আমাকে বাঁচাতে আসছে! আমি অবাক হই। আমি যেখানে কোন অপরাধই করি নাই, সেখানে বাঁচানোর প্রশ্ন। তাদের পেইজে আমাকে চাঁদাবাজ বলে পরিচয় দেয়া হলো আর ১ জন চাঁদাবাজকে বাঁচাতে আসার কি কারণ থাকতে পারে? যার বিরুদ্ধে একটু আগেই তারা পোস্ট দিয়েছে, যদিও সেই পোস্ট পরে ডিলেট করে দেয়।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840