সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সরকারের করণীয় …….. মাসুদ রায়হান

রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সরকারের করণীয় …….. মাসুদ রায়হান

রোহিঙ্গা
রোহিঙ্গা

রোহিঙ্গারা যে ভাবে একাত্ম হয়েছে এটাকে কাজে লাগাতে হবে৷ এ শক্তির বিরুদ্ধে গেলে বাংলাদেশ আরও বিপদে পড়বে।

এখনই সময় ওদের যারা নেতা আছে তাদের নিয়ে বসতে হবে৷ প্রয়োজনের ওদের পেছনে ইনভেস্ট করতে হবে৷ রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সরকারের একটা কমিটি করতে হবে৷ যেই কমিটিতে থাকবে দেশি বিদেশি বিশেষজ্ঞ যারা রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করে, গবেষণা করেন৷ মনে রাখতে হবে যেহেতু এই বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতি হচ্ছে তাই এখানে অবহেলা করা যাবে না। তাই এই বিষয় সরকারকে পুরো নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে৷

ওদের নেতাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তাদের নির্দেশনা দিতে হবে এই কমিটির মাধ্যমে। এটা যতটা শক্তির খেলা তার ছেয়ে বেশি খেলা মগজের৷ রোহিঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও এ কমিটিকে বের করতে হবে চীন, ভারত ও মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের উদ্দেশ্য এবং এসব উদ্দেশ্যর বিরোধীতা সরাসরি করা যাবে না বরং তাদের চাহিদাকে ভিত্তি করেই পলিসি গ্রহণ করতে হবে৷ এ সমস্যায় কীভাবে কূটনীতিক করতে হবে সে বিষয় আমার একটা লেখা আছে৷

এ সমাবেশের সহ সকল রোহিঙ্গা নেতাদের দিয়ে ওদের বোঝাতে হবে এ দেশ তোমাদের আশ্রয় দিয়েছে এদেশের জনগণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাক৷ যদি এ দেশের বিরুদ্ধে যাও সারা পৃথিবীর মানুষ তোমাদের বেঈমান বলবে৷ তোমাদের পক্ষে কোন আন্তর্জাতিক শক্তি নেই, বাংলাদেশ তোমাদের আশ্রয় দিয়েছে বলেই তোমরা ত্রান পাচ্ছ, জাতিসংঘে তোমাদের পক্ষে কথা হচ্ছে৷ যদি বাংলাদেশের বিপক্ষে যাও, কিংবা তোমাদের আরাকানের দাবি থেকে সরে আস তবে তোমাদের নাগরিকত্ব দেবে না বার্মিজ সরকার৷

এছাড়া তোমাদের কেউ ত্রান দেবে না যদি বাংলাদেশ সরকার বহির্বিশ্বে তোমাদের জন্য সাহায্য না চায়৷ এছাড়া বাংলাদেশের জনগণের সাহায্যে সরকার তোমাদের শিশুদের পেছনে অনেক অর্থ ব্যায় করছে৷ আরাকান তোমাদের দেশ যেটা ১৯৪৭ সালে বার্মা দখল করে তোমাদের বোকা বানিয়ে রেখেছে৷ এই ভাবে অনেক ধরনের মতবাদ তৈরি করে ওদের বার্মিজ সরকারের প্রতি ক্ষোভ তৈরি করতে হবে এবং এ নেতাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কারা এ প্রত্যাবর্তন বিরোধী তাদের খোঁজ নেয়া৷

রোহিঙ্গাদের একাত্ম করতে হবে একটাই উদ্দেশ্য সেটা হল রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে হবে বার্মিজ সরকারকে অথবা আরাকানের স্বাধীনতা দিতে হবে, না হয় লড়াই করে আরাকার স্বাধীন করতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতি তাদের সম্মানবোধ তৈরি করতে হবে৷ প্রয়োজনে ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়ে ঘটনা অনুকূলে রাখতে হবে।

মাওলানাদের নিয়ে ওয়াজ করে তাদের বাংলাদেশের পক্ষে বাধ্য করতে হবে৷ সকল রাজনৈতিকদল ও নীতিনির্ধারকদের মনে রাখতে হবে, এ বিশ্বে সহজ কথায় কাজ হয় না৷ যতই ভীরু হবেন ততই বিপদে পড়তে হবে৷ যদি আপনে প্রেক্ষাপট তৈরি করতে না পারেন সকল দোষ পড়বে আপনার ঘাড়ে৷ যতই নিজেদের বিভক্তি নিয়ে অন্য দেশের কাছে নালিশ করেন ততই দেশের সম্মান ও শক্তি হারাবেন৷

দেশের বাহিরে বাংগালী জাতীয় ঐক্য নিশ্চিত করতে হবে৷ দেশের ভেতরে বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে জাতীয় ঐক্য গড়তে হবে। বড় বিপদ সামাল দিতে ছোট বিপদকে ভুলে যেতে হবে৷ এ বিপদে সরকার পরাস্ত হলে দেশ পরাস্ত হবে পাশাপাশি সরকার জনগনের আস্থা হারাবে৷ রোহিঙ্গাদের বার্তা দিতে হবে বার্মিজ সেনাদের বিরুদ্ধে তোমাদের ঐক্য থাকতে হবে৷

এছাড়া বিভিন্ন সময় বা তাদের গুরুত্বপূর্ণ দিবসে বাংলাদেশ সরকারকে এ কমিটির মাধ্যমে বক্তব্য দিতে এবং তাদের ধর্মের শত্রু হিসেবে আখ্যা দিতে হবে। এখন সময় তোমরা তোমাদের দেশের জমি ফিরে পেতে একাত্ম হও৷ বার্মিজদের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রস্তুত রাখ৷ ওদের ভয় লাগাতে না পারলে তোমাদের জমিন ওরা দেবে না৷ ওরা তোমাদের সন্তান বাবা মা কে হত্যা করেছে৷ বাংলাদেশের মানুষ তোমাদের আশ্রয় না দিলে তোমরা সবাই মারা যেতে৷ তোমরা বার্মা না গেলে তোমাদের সন্তানদের না খেয়ে মরতে হবে৷ এই অল্প যায়গায় বেচে থাকা যায় না৷ আর বিদেশি সাহায্যও বেশিদিন দিবে না৷ তখন না খেয়ে মরতে হবে৷

ওদের মোটিভেট করতে লোক নিয়োগ দিতে হবে৷ ওদের দলে দলে বিভক্ত করে মোটিভেশন করতেই হবে৷ ধর্মীয় নেতা পাঠিয়ে ওদের বোঝাতে হবে, আল্লাহ ওদের সাহায্য করবে না৷ যদি ওরা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। এভাবেই ধর্মীয় আলোচনায় ওদেত ব্রেন ডেভেলপ করতে হবে৷ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যাওয়া মানে ধর্মের বিরুদ্ধে যাওয়া৷ আর এই বাংলাদেশ বিরোধীদের ধর্ম বিরোধী হিসেবে আখ্যা দিয়ে ওদের খাবার বদ্ধ করে দিয়ে কঠিন শাস্তি দিতে হবে৷

পাশাপাশি ওদের দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ ও দেশের জন্য দোয়ার ব্যাবস্থা করতে হবে প্রতি শুক্রবার ও বিশেষ দিবসে। বিশেষ করে স্থানীয়দের সেবা করা রোহিঙ্গাদের জন্য সওয়াব, এ ধরনের ধর্মীয় আমলের দিকে তাদের অনুপ্রাণিত করতে হবে৷ ওদের মোটিভেট করতে আলেমদের কাজে লাগাও৷

ইয়াবা, সন্ত্রাস, হত্যা, বিশৃঙ্খল থেকে দূরে সরাতে ওদের ধর্মের নীতি অনুসরণ করতে হবে৷ তাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রতি অনুগত থেক৷ আর যেসব এনজিও ওদের ফিরে না যেতে উৎসাহ দিচ্ছে তাদের প্রকাশ্যে কঠিন শাস্তি দেয়া হোক যেন অন্যরা ভয় পায় এবং বাংলাদেশ বিরোধী অবস্থান থেকে সরে আসে৷ এখনই যদি ওদের নিয়ন্ত্রণ করা না যায় দেশ বিপদে পড়বে৷

প্রশাসন, রাজনীতিবিদ, নীতিনির্ধারকদের লোকদের ঘুম ভাংগাতে ওদের প্রশ্ন করুন, ওরা কী রোহিঙ্গাদের প্রশাসক হবে না বাঙ্গালীদের প্রশাসক হবে? ওদের স্বরণ করিয়ে দিতে হবে, তারা বাংলাদেশের জনগণের ভ্যাটের উপর নির্ভর করে জীবন চালাচ্ছে সুতরাং দায়িত্ব অবহেলা করা চলবে না৷

মাসুদ রায়হান

কবি,গবেষক, চলচ্চিত্র নির্মাতা

প্রোগ্রাম ডিরেক্টর, রূপান্তর টেলিভিশন।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840