সংবাদ শিরোনাম:
দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকার সেরা অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন ‘ভোট জালিয়াতি’ তদন্তের নির্দেশ চট্টগ্রামে গলায় ছুরি ধরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ধর্ষকদের বাঁচাতে কাউন্সিলরপ্রার্থী বেলালের দৌড়ঝাঁপ নারী নির্যাতন মামলায় বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের বিবাহিত সভাপতি মাহবুব হোসেন কারাগারে দুই নবজাতকের লাশ নিয়ে হাইকোর্টে বাবা কনস্টেবলকে মারধর, শ্রমিকলীগ নেতার স্ত্রী কারাগারে অবক্ষয় থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে চলচ্চিত্রের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে- তথ্যমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2020 কর কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২০ ৯ দিনে করোনা জয়ী তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
লৌহ জং নদী পুন: উদ্ধার ও প্রবাসীর নস্টালজিয়া … আখতার বানু (শেফালী)

লৌহ জং নদী পুন: উদ্ধার ও প্রবাসীর নস্টালজিয়া … আখতার বানু (শেফালী)

লৌহ জং নদী পুন: উদ্ধার
লৌহ জং নদী পুন: উদ্ধার

টাংগাইলের লৌহ জং নদী পুনঃ উদ্ধারের কথা পড়ছি বা জানতে পারছি, টাংগাইল সিটিজেন ও জার্নালিস্ট গ্রুপে পড়ে। যদিও আমি দেশ ছেড়ে সূদর আমেরিকায়, তবুও দেশের খবর বিশেষ করে নিজের জেলার খবরে প্রানে
একটা চাঞ্চল্য জাগে।

মনে হয় আরে এতো আমারি সম্পদ, আমারি জিনিস, এতো আমারি নদী ছিলো।লৌহজং নদীর কথা শুনে মনে পড়ে গেলো আমার ছেলে বেলার কথা। আমি যখন কার কথা লিখছি আমার মনে হয় এই নদী উদ্ধারে যারা কাজ করছে তাদের কারো কারো তখন জন্মও হয় নাই।

তখন সময় মনে হয় ১৯৫৮ থেকে ৭০। আমাদের গ্রাম ছিলো পাথরাইল, বাজিতপুরের পর মংগলহোড়।আমরা ছোট বেলা বর্ষাকালে নৌকা দিয়ে টাংগাইল আসতাম। আমি তখন বিন্দু বাসিনী গার্সল সকুলে ক্লাশ থ্রিতে ভর্তি হয়েছি।আমরা আমাদের বাড়ীর ঘাট থেকে আমাদের নিজস্ব প্রাইভেট নৌকায় টাংগাইল আসতাম। আমাদের নৌকা ভ্রমনের আনন্দ নাই বর্ননা করি, কেবল লৌহ জংনদী নিয়েই লিখি।

আমাদের গ্রামের পর চিনামোড়ার মোড়। মোড় পার হলেই চোখে পড়তো উঁচু অলোয়ার মঠ্।মঠ্ চোখে পড়তেই আমাদের আর নৌকার ছই এর নীচে বড়রা আটকে রাখতে পারতো না। কারন সামনেই কাগ মারীর পুল। কাগমারী পুলের একটু আগে থেকে আমাদের আনন্দ শুরু হতো।আমরা পুলের নীচে নৌকা ঢুকার আগেই আমার চাচাতো ভাই বোনেরা সবাই নৌকার বাইরে এসে সমস্বরে টা টু টা টু আওয়াজ শুরু করতাম।

মনেহয় পুলের নীচে আমাদের টা টু টা টু আওয়াজ প্রতিধ্বনিত হতো। আমাদের নৌকাটা পুল টা পার হওয়ার সাথে সাথে মনে হতো আমরা কি এক আনন্দঘন কর্মজজ্ঞে পা রাখলাম। চোখ ফেরানো যায় না।

উচ্ছল, চঞ্চল, স্রোতস্বিনী উপচে পরা পানিতে ভরা চির যৌবনা লৌহ জং নদী।তার ঘাটে বাঁধা মাস্তুল তোলা রং বেরঙ্গের পাল তোলা বড় বড় মহাজনী নৌকা, বড় বড় পানসী নৌকা ও বজড়া গুলির মাস্তুলের মাথায় পতপত করে উড়তো রং বেরঙ্গের পতাকা।

নৌকাগুলোর কোনটা বোঝাই পাট। কোনোটা ভরা নারিকেল, কোনটা বোঝাই শষ্য। কোনোটা বোঝাই টাংগাইলের তাঁতের শাড়ী। দেশ বিভাগের আগে টাংগাইলের তাঁতের শাড়ীর হাট বসতো কোলকাতায়। আরো কতো কি।

টাংগাইল আসার পথে দেখতাম একটু দুরে দুরে মাঝিদের মাঝ ধরার খরা। মাঝিরা একটু পর পর খরা তুলছে তাতে ভর্তি রুপালী মাঝের ঝাক লাফাচ্ছে।আগে তো সড়ক পথ যাতায়াতের কোনো ব্যবস্থা ছিলো না। নৌপথেই বেশীর ভাগ ব্যবসা বনিজ্য হতো। এজন্য কোন না কোন নদীকে কেন্দ্র গড়ে উঠতো লোকালয় ব্যবসা বানিজ্য, শহর।

ঠিক এই ভাবেই লোহ জং নদীকে ঘিরে গড়ে উঠেছিলো টাংগাইল শহর। প্রবাদ আছে 
“টম টম চম চম আর তাঁতের শাড়ী, 
এই তিন নিয়ে টাংগাইলের বাড়ী”।

লৌহজং নদীটি হলো যমুনা নদীর একটি শাখা নদী। টাংগাইলের একুলে হাঁকডাক লোকজন। কোন নৌকা কুলে ভিড়তেছে, কোনো নৌকা ছেড়ে যাচ্ছে।টাংগাইল আগে পিতল কাঁসার জিনিস-এর জন্যও বিখ্যাত ছিলো।

এসব জিনিস পত্র নৌপথেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়া হতো। নদীর শহরের পাশে ছিলো বিশাল পার্ক ।পার্কের যে পাশে নদী ছিলো সেই নদীর পাড়ে ছিলো শতবর্ষজীবী বড় বড় গাছ। এই সবগাছ নদীর পাড়কে ছায়া দিয়ে মায়া দিয়ে ঢেকে রাখতো। নদীর অপর পাড়ে ছিলো বিস্তির্ন শষ্য ক্ষেত।

তারপরেই ছিলো ছবির মতো সমৃদ্ধ দিঘুলিয়া গ্রাম। কোনো পন্য বোঝাই নৌকা ঘাট ছেড়ে যাচ্ছে কোনটা আবার প্রয়োজনীয় পণ্যের পসরা নিয়ে কুলে ভিড়ছে। আমরা নৌকার বাইরে এসে এই কর্ম জজ্ঞ মুগ্ধ হয়ে দেখতাম। বাতাসে ছলছল করতো নদীর পানি। পানির ছোট ছোট ঢেউয়ের উপরে সূর্যর কিরন পড়ে সোনার মতো ঝিলিক দিতো।

এখন আর কেউ ঐ দৃশ্য কল্পনাও করতে পারবে না। মাঝে মাঝে বিকালে পার্কে আমরা বেড়াতে যেতাম, তখন দেখতাম হঠাৎ কতগুলি রং বেরঙ্গের ছিপ নৌকা, তাতে বিচিত্র রংবেরঙ্গের পোশাক পরা মানুষ তারা ঐ ছিপ্ নৌকা দিয়ে ঢোল বাজিয়ে বৈঠা চালিয়ে তীব্র বেগে কাগমারীর দিক থেকে এসে অর্থাৎ বাম দিক দিয়ে লৌহ জং নদীতে ঢুকে ডান দিক দিয়ে মূহুর্তেই বেড়িয়ে যেতো এটা ছিলো নৌকা বাইচের প্রতিযোগীতা।

কি আনন্দ যে পেতাম সেই নৌকা বাইচ দেখে। এখন কতো কিছুই না দেখি, এখনের কোনো কিছুর সাথেই সেই আনন্দের তুলনা হয় না। তাই ভাবি কালের গর্ভে আমাদের অতীত ঐতিহ্য হারিয়ে গেছে।গত বছর দেশে গিয়ে সন্তোস বেড়াতে গিয়ে দেখলাম আবর্জনা, আগাছায় ভরা লৌহজং নদীর জীর্ন শীর্ন খালের মতো রুপ।

আমরা আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য ধরে রাখতে পারিনি কিছুই। নতুন করে লোহজং নদীকে উদ্ধার করার সকলের সম্মিলিত চেষ্টার প্রতি রইলো অকুন্ঠ সমর্থন।
আবার যেনো আমাদের পরবর্তি প্রজন্ম বলতে পারে,
নদী,চর,খাল, বিল, গজারীর বন
, টাংগাইল শাড়ী তার গরবের ধন।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840