সংবাদ শিরোনাম:
দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকার সেরা অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন ‘ভোট জালিয়াতি’ তদন্তের নির্দেশ চট্টগ্রামে গলায় ছুরি ধরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ধর্ষকদের বাঁচাতে কাউন্সিলরপ্রার্থী বেলালের দৌড়ঝাঁপ নারী নির্যাতন মামলায় বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের বিবাহিত সভাপতি মাহবুব হোসেন কারাগারে দুই নবজাতকের লাশ নিয়ে হাইকোর্টে বাবা কনস্টেবলকে মারধর, শ্রমিকলীগ নেতার স্ত্রী কারাগারে অবক্ষয় থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে চলচ্চিত্রের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে- তথ্যমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2020 কর কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২০ ৯ দিনে করোনা জয়ী তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
শাপলা ট্যাজেডি থেকে ভোলা বনাম দালাল অপবাদ

শাপলা ট্যাজেডি থেকে ভোলা বনাম দালাল অপবাদ

হেফাজত ইসলাম
নূর আহমদ সিদ্দিকী

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ একটি অরাজনৈতিক প্লার্টফর্ম। যে প্লার্টফর্মটিকে কিছু রাজনৈতিক নেতারা তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য ব্যবহারে করেছিল।২০১৩ সালের সেই শাপলা চত্বরের কথা স্মরণ হলেই হৃদয় হু হু করে কেঁদে উঠে।ঘাড়ে পা রেখে পেছনের দরজা দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য যারা ভুমিকা পালন করেছে তারাই ছিল হেফাজতে ইসলামের হর্তাকর্তা। তারা শুধু হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর হর্তাকর্তা নয় তারা বিএনপিরও হর্তাকর্তা।

বিএনপির জোটে থাকা ইসলামী দলগুলোর মাধ্যমে হেফাজতে ইসলাম কে ব্যবহার করে বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিল। শাপলা চত্বরে সেদিন রাতে যে বক্তব্য গুলো দিয়েছিল তা ছিল বিএনপি জামায়াতের শিখানো বুলি মাত্র।

বিএনপির শরীক ইসলামী দলগুলোর নেতারা সেদিন হেফাজতের হয়ে বক্তব্য দেয়নি বরং বিএনপির পক্ষেই বক্তব্য দিয়েছিল। হেফাজতের আবেগ ব্যবহার করে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিতে সরকার পতনের ছক এঁকেছিল বিএনপি জামায়াত।

সেদিন হেফাজতের যারা হর্তাকর্তা ছিল তাদের কারণে শাপলা চত্বর সেদিন রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল। হাটহাজারি ওলামা সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিমম পীর সাহেব চরমোনাইর বক্তব্য কারো কারো শরীরে আগুন ধরেছিল। সেখানে পীর সাহেব চরমোনাই কে আবুল ফজল আর আবুল আলা মওদুদির সাথে তুলনা করেছিল বিএনপির জোটে থাকা ইসলামী দলের নেতারা।

সেদিন পীর সাহেব চরমোনাইর যৌক্তিক বক্তব্যগুলো এখনো কানে ধ্বনিত হয়।তিনি বলেছিলেন, আমরা কারো কাছে যাবনা বরং তারাই আমাদের কাছে আসবে।

সেদিন জমিয়ত নেতা মুফতি ওয়াক্কাস বলেছিল, আমাদের সেই শক্তি নেই আমরা একা একা ইসলাম কায়েম করে ফেলব। তার কথার সারমর্ম ছিল বিএনপিকে সাথে নিয়ে আওয়ামী লীগের পতন করবে। হাটহাজারির ওলামা সম্মেলনের আগে যে বিএনপির সাথে তাদের রফাদফা হয়েছে তা জাতি জানত না। তাই সেদিন পীর সাহেব চরমোনাইর বক্তব্য তাদের শরীরে আগুন ধরেছিল।

হেফাজতে ইসলামের মঞ্চে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাদের ঠাঁই না হলেও বিএনপি জামায়াতের নেতাদের মঞ্চে আধিক্য ছিল উল্লেখ করার মত। মনে আছে কি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম, মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে না বসে রাজপথে বসে পড়েছিল।

চাটুকারদের জানা ছিল চরমোনাইর কেউ মঞ্চে স্থান পেলে তাদের রফাদফার গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যাবে। তাই তো সেদিন শায়েখে চরমোনাই কে মঞ্চে ডেকে নিয়ে গিয়ে উঠতে না দিয়ে এক প্রকার অপমান করেছিল। শাপলা চত্বরে ঘটে যাওয়া বিভীষিকাময় ও হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্য বিএনপির জোটে থাকা ইসলামী দলের নেতারাই দায়ী।

সেদিন যারা হেফাজতে ইসলামকে বিএনপির ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর এসে ঠিক তারাই হেফাজতে ইসলামকে আওয়ামী লীগ কে ক্ষমতায় নিয়ে যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করেছে ইতিহাস বিকৃত শোকরানা মাহফিলের মাধ্যমে।

কেউ ক্ষমতার লোভে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী কে কওমী জননী উপহার দেয়।কেউ বা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পেছনে দাঁড়িয়ে মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ব্যস্ত ছিল যারা ২০১৩ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার পেছনের দেহরক্ষীর ন্যায় দাঁড়িয়ে থাকতে।

যারা ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামকে বিএনপিকে কাছে বন্ধক দেয় আবার ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগে বিক্রি করে তারা ভোলার ইস্যুতে হেফাজতের ব্যানার নিয়ে আবারো মাঠ গরম করতে চাইছে।

এসব নেতাদের এখন দুটি গ্রুপ। এক গ্রুপ হেফাজতকে বিএনপির পক্ষে আরেক গ্রুপ হেফাজতকে আওয়ামী লীগের পক্ষে ব্যবহার করতে চাইছে। হেফাজতে ইসলাম যদি অরাজনৈতিক হয়ে থাকে তাহলে ২০ দলীয় জোটের সভায় যারা সভাপতিত্ব করে তারা কেন হেফাজতের ব্যানার নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দিবে? কেন আবার হুমকি দিবে আরেকটি শাপলা ট্যাজেডির? শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বিজয়ী হয়নি হয়েছে পরাজিত সুতরাং আরেকটি শাপলা চত্বর কায়েমের হুমকি বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে যেতে নয়তো?

যারা যুগ যুগ ধরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কে আওয়ামী লীগের দালাল বলে অপবাদ দিয়েছিল তারাই হেফাজতকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের নৌকা পেতে মরিয়া হয়েছিল। আমরা ভুলিনি সেই হাসিটি।

তাদের যুক্তি হলো ইসলামী আন্দোলনের সভা সমাবেশ বাধা দেয়না তাই তারা আওয়ামী লীগের দালাল। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল। যারা এক ঘন্টার প্রোগামের অনুমতি নিয়ে সেই প্রোগাম এক ঘন্টার মধ্যেই শেষ করে দেয়।

মিছিল মিটিং এ অন্যান্য দল যেখানে লোক সমাগম বেশি হলে ভাঙচুর করে সেখানে ইসলামী আন্দোলন লাখ লাখ মানুষের সমাবেশে সামান্যতমও বিশৃঙ্খলা হয়না। এই কারণে প্রশাসন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রতি ইতিবাচক ধারণা পোষণ করে।

হেফাজতে ইসলাম নিজেদের অরাজনৈতিক দাবি করলেও তা শতভাগ সত্য নয়। তাদের নেতৃত্বে বেশির ভাগ বিএনপি পন্থী আলেম যারা হেফাজতে ইসলামকে সদা বিএনপির কল্যাণে ব্যবহার করতে চাই।তাহলে বুঝাই যাচ্ছে রাজনৈতিক দল শুধু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আর রাজনৈতিক নেতা পীর সাহেব চরমোনাই।

যারা বিএনপির শরীক দল তারা রাজনৈতিক দল নয় এবং দলের নেতারা রাজনৈতিক নেতার সংজ্ঞায় পড়েনা তাই তারা হেফাজতে ইসলামের হর্তাকর্তা।রাজনৈতিক দল আর রাজনৈতিক নেতা সেটা চরমোনাইর জন্য সীমাবদ্ধ অন্য কারো জন্য নয়।

২২ অক্টোবর হেফাজতে ইসলামের ঘাটি চট্টগ্রামের লোক সমাগম কেন এতো কম ছিল? চাটুকারদের দালালির কারণে সম্ভাবনাময়ী ঐক্যের সর্ববুহৎ প্লাটফরমটি আজ অনেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। অপরদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর লোক সমাগম ছিল রেকড সংখ্যক।

নানা অপবাদ আর মিথ্যা অভিযোগকে পায়ে পিষ্ট করে বিজয়ের লক্ষ্যে নীতি আদর্শকে জলাজঞ্জলি না দিয়ে সম্মুখপানে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। হিংসুকদের হিংসা আর জালিমের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে দেশের শান্তিকামী ও মুক্তিকামী জনতার পক্ষে কথা বলছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটি যেন ইসলাম,দেশ, মানবতা ও স্বাধীনতার অতন্দ্রপ্রহরীর ভুমিকায় অবতীর্ণ। গণমানুষের মন জয় করে চলছে দলটি। অদূরভবিষ্যতে দলটি এদেশের শান্তি ও ইনসাফের শাসন কায়েম করবে ইনশাআল্লাহ।

লেখকঃ নুর আহমদ সিদ্দিকী

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840