সংবাদ শিরোনাম:
দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকার সেরা অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন ‘ভোট জালিয়াতি’ তদন্তের নির্দেশ চট্টগ্রামে গলায় ছুরি ধরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ধর্ষকদের বাঁচাতে কাউন্সিলরপ্রার্থী বেলালের দৌড়ঝাঁপ নারী নির্যাতন মামলায় বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের বিবাহিত সভাপতি মাহবুব হোসেন কারাগারে দুই নবজাতকের লাশ নিয়ে হাইকোর্টে বাবা কনস্টেবলকে মারধর, শ্রমিকলীগ নেতার স্ত্রী কারাগারে অবক্ষয় থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে চলচ্চিত্রের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে- তথ্যমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2020 কর কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২০ ৯ দিনে করোনা জয়ী তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
শিক্ষকের ছেলে ও ছেলের বউয়ের অভিনব উপায়ে ডাকাতি

শিক্ষকের ছেলে ও ছেলের বউয়ের অভিনব উপায়ে ডাকাতি

শিক্ষকের ছেলে ও ছেলের বউয়ের অভিনব উপায়ে ডাকাতি
শিক্ষকের ছেলে ও ছেলের বউয়ের অভিনব উপায়ে ডাকাতি

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে হাবু ওরফে বাবু (৩৮) নামের এক আসামিকে গত সোমবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সে উপজেলার রায়কালী গ্রামের মৃত আবুল কাশেম মাস্টারের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে।

মামলাগুলো হল: বাবুর বিরুদ্ধে দিনাজপুর জেলার ঘোরাঘাট থানায় একটি চুরি, বগুড়া জেলার আদমদীঘি থানায় ডাকাতি মামলাসহ দুটি, জয়পুরহাট সদর থানায় একটি চুরি, আক্কেলপুর থানায় একটি ডাকাতি ও চারটি চুরিসহ সাতটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রী বিউটি আক্তারের বিরুদ্ধে দিনাজপুর জেলার বিরামপুর থানায় প্রতারণামূলক একটি চুরির মামলা রয়েছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, রায়কালী গ্রামের হাবু ওরফে বাবু আন্ত জেলা ডাকাতদলের একজন সদস্য। সে তার স্ত্রী বিউটি আক্তারকে (৩০) দিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করত। এরপর সুযোগ বুঝে সুবিধামতো স্থানে চালককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অটোরিকশা নিয়ে যেত।

আক্কেলপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জোবায়ের হোসেন বলেন, ‘হাবু ওরফে বাবু তার স্ত্রীকে দিয়ে বিশেষ করে শীতকালে বিভিন্ন এলাকা থেকে রাতের বেলা বিপদে পড়েছে বলে অটোরিকশা ভাড়া করে নিয়ে যায়। এরপর পূর্ব থেকে প্রস্তুতি নিয়ে থাকা তার অন্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ওই চালককে জিম্মি করে আটোরিকশা ছিনতাই করে। এ ছাড়াও সে বিভিন্ন এলাকায় ছদ্মবেশে কোনো লোকের সঙ্গে সখ্য তৈরি করে সেই বাড়িতে ডাকাতি করত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় বিভিন্ন ধরণের ১১টি মামলা রয়েছে।’

এ বিষয়ে আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) আবু রায়হান বলেন, ‘হাবু ওরফে বাবু বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি করাই তার মূল কাজ। সে আন্ত: জেলা ডাকাতদলের সদস্য। তাকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

এলাকাবাসী মো শরিফ মিয়া বলেন “কাশেম মাষ্টার অত্যন্ত ভাল মানুষ। আশেপাশের দশ গ্রামে তার সুনাম রয়েছে। তার ছেলে হয়েছে চোর। এটা ভাবতেই তাদের কষ্ট হয়। সে ডাকাতি করে। হাবু গরীব মানুষের বেঁচে থাকার সম্পত্তিটুকু কেড়ে নিয়ে সর্বশান্ত করে দেন। একজন শিক্ষকের ছেলে এমন কুলাঙ্গার হতে পারেন এটা তারা ভাবতেই পারেন না। বাবার মানসম্মান তো ধুলায় লুটাইছেন সাথে সাথে গ্রামের-ও। অনেক আগে থেকেই গ্রামবাসী জানতো তার এই হীন কর্মকান্ডের ব্যাপারে। তাকে নিয়ে বেশ কয়েকবার গ্রাম্য মাতাব্বরেরা শালিষ বিচার-ও করেন। তিনি বারবার শোধরানোর সুযোগ পেয়েছেন কিন্তু নিজেকে পরিবর্তণ করেন নি।“

পুলিশ জানায় এর আগেও গ্রেফতার হয়েছে হাবু। তবে আইনের মারপ্যাঁচে সহজেই জামিন পেয়ে গেছে সে। তার টার্গেট মেহনতি খেটে খাওয়া গরীব মানুষ। অটো রিক্সা লুট করে নিয়ে বিক্রি করে দেয়াই তার মূল ব্যবসা। এই ক্ষেত্রে তার স্ত্রী ছাড়াও তার গ্যাং এ আর-ও লোকজন রয়েছে। পুলিশ তাদের ধরার জন্যও চেষ্টা চালাচ্ছে। চুরি করা এসমস্ত রিক্সাগুলো কোথায় বিক্রি হয় সেই ব্যাপারেও তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা অব্যাহত আছে। এসব চুরি যাওয়া রিক্সাগুলো আবার কীভাবে কোথায় ব্যবহৃত হচ্ছে এটা জানা অত্যন্ত জরুরী। কারা এসমস্ত গ্যারেজ মালিক? কারা ওদের থেকে এসব কিনে? তাদেরকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। শাস্তির ব্যবস্থা করবে আদালত।”

সে তার স্ত্রীকেও এই ডাকাতির কাজে টোপ হিসেবে নিয়মিত ব্যবহার করতো। এটা অত্যন্ত দু:খের স্বপরিবারে তারা ডাকাতির সাথে জড়িত। পরিবারের একজন সদস্য ভুল পথে থাকলে তাকে শুধরানো অন্যদের দায়িত্ব যেক্ষেত্রে স্বামি-স্ত্রীর ভূমিকাটাই সবচেয়ে বড়। এখানে তারা উভয়ে মিলেই অপরাধের সাথে জড়িত।

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন “এরকমটা আসলে মেনে নেয়া কষ্টকর। একনজ শিক্ষকের ছেলে হয়ে ডাকাতির সাথে যুক্ত। তার স্ত্রী- নিজেই সহযোগী। আমাদের সামাজিক অবক্ষয় কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে ভাবাও যায় না। পারিবারিক সচেতনা বৃদ্ধিই পারে আমাদের এই হীন অবস্থার উন্নতি করতে। আমরা চাই হাবু ও তার স্ত্রী সহ বাকিদের সঠিকভাবে শাস্তি হোক যাতে করে আর কেউ এমন ভুল পথে পা না বাড়ায়।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840