সংবাদ শিরোনাম:
দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকার সেরা অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন ‘ভোট জালিয়াতি’ তদন্তের নির্দেশ চট্টগ্রামে গলায় ছুরি ধরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ধর্ষকদের বাঁচাতে কাউন্সিলরপ্রার্থী বেলালের দৌড়ঝাঁপ নারী নির্যাতন মামলায় বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের বিবাহিত সভাপতি মাহবুব হোসেন কারাগারে দুই নবজাতকের লাশ নিয়ে হাইকোর্টে বাবা কনস্টেবলকে মারধর, শ্রমিকলীগ নেতার স্ত্রী কারাগারে অবক্ষয় থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে চলচ্চিত্রের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে- তথ্যমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2020 কর কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২০ ৯ দিনে করোনা জয়ী তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

শোভন-রব্বানীর কেন বিদায়?

শোভন-রাব্বানী
শোভন-রাব্বানী

“উচ্চ আদর্শ ও সাদামাটা জীবনযাপন, এই হোক তোমাদের আদর্শ।” ছাত্রলীগের উদ্দেশ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বহুবার এই কথা বলেছেন। আর এই কথাটি বহু ছাত্র নেতারাই তাদের ফেসবুকে অসংখ্যবার পোষ্ট করেছেন কিন্তু আদৌতে তারা কি এসব কথা মেনে চলেন?

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হলে থেকে সাধারণ জীবনযাপনেই অভ্যস্ত ছিলেন। তারা রিক্সা যোগেও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত-ও করতেন কিন্তু পদ পাওয়ার পরের দিন দুজনে কিনে ফেলেন দুটো টয়োটা গাড়ি।

শোভনের কাছ থেকে এ বিষয়ে কোন বক্তব্য পাওয়া না গেলেও রাব্বানী বলেছিল কিস্তিতে কিনেছেন। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারা চাকরি বা কোন ব্যবসায় করতে পারবেন না। তবে কি করে তিনি কিস্তির টাকা পরিশোধ করবেন!

অত্যন্ত পানির দামে দুজনেই দুটি বিশাল বাসা পদ পাওয়ার পরের দিন থেকেই ব্যবহার করতে শুরু করেন। একজনের বাসা ভাড়া সত্তর হাজার টাকা মাত্র আরেকজনের চল্লিশ হাজার টাকা।

তবে রব্বানীর দাবি ছিল এই টাকা তার বাবা ও ভাই দেয়। শোভন যেহেতু পারিবারিকভাবে অনেক পরিচিত। আগে থেকেই তার বাবা অনেক টাকার মালিক তাই প্রশ্ন না উঠলেও প্রশ্নের উত্তর সবার কাছেই ছিল।

রব্বানী ডাকসু ভবনে তার বসার কক্ষেও এসি লাগিয়েছেন, তার গরম সহ্য হয় না। পদ পাবার পূর্বে ঢাবি হলেও তার কোন সমস্যা হতো না।

দলীয় সিনিয়র নেতা কর্মীরা অতিথী হয়ে যে সমস্ত প্রোগ্রামে যান সেখানেও দেখা গেছে বেয়াদবির আভাস। আওয়ামীলীগ এর প্রেসিডিয়াম সদস্যগণ মিটিং এ পৌঁছালেও দেখা যায় ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পৌঁছাতে নিয়মিতই বিলম্ব করতেন।

দলীয় বিভিন্ন শ্রদ্ধাভাজন নেতা কর্মীদের বিভিন্ন আহ্ববানেও তারা সাড়া না দিয়ে দাম্ভিকতার সাথে বলতেন “একমাত্র নেত্রির কথাই তারা মানবেন, আর কার-ও আদেশ-নিষেধ শুনতে ছাত্রলীগ বাধ্য নন।”

ক্ষমতা গ্রহণের পর পূর্নাঙ্গ কমিটি করতে গিয়ে অনৈতিকতার রয়েছে বিস্তর অভিযোগ এছাড়াও দলের ভেতরে রয়েছে ক্ষুব্ধতা।

কিছুদিন আগে জাহাঙ্গীর নগর ভার্সিটিতে চাঁদা দাবী করলে ভিসি প্রধানমন্ত্রীকে অবগত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলতে বাধ্য হোন “ওরা তোমাকেও কাঁদালো।”

প্রধানমন্ত্রীর নজড়ে একে একে ওদের সকল দুর্নিতী-অন্যায়-নিপীড়নের সংবাদ জমা হচ্ছিল। শরীরের কোথাও যদি ক্যান্সার হয়, ঐ অঙ্গটি কেটে ফেলতে হয়। শোভন-রব্বানীর জন্য পুরো ছাত্রলীগ যাতে কলঙ্কিত না হয় তাই ওদেরকেই ছেটে ফেলা হল।

দলীয় বিভিন্ন কমিটি উপ কমিটিতে অভিযোগ রয়েছে টাকা গ্রহণের বিনিময়ে শোভন-রব্বানী হাইব্রিড ও অযোগ্য লোকেদের কমিটির পদবীতে বসিয়েছেন। এছাড়াও নেশা গ্রহণ ও মাদক ব্যবসা, বিশ্ববিদ্যালয়ে গণ রুমে শিক্ষার্থী নির্যাতনের মত বিষয়ে রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ।

উনারা দুজন সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারতেন না ফলে তাদের দলীয় বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণে বিলম্ব ঘটত।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুলর করিম সেলিম বলেছেন, “শোভন ও রাব্বানীর পদচ্যুতির ঘটনা আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সব সংগঠনের নেতাদের জন্য একটি সতর্ক বার্তা।” প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামীলীগ জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে এটাই তার প্রমাণ। কোন কারনেই কোন অন্যায়কারীকে ছাড় দেয়া হবে না।

আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন “দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণেই ছাত্রলীগের সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক রব্বানীর এই পরিণতি। তারাই দায়ী তাদের পরিণতির জন্য। এই প্রথম ছাত্রলীগের কোন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিষয়ে দলীয় এমন কঠোর সিদ্ধান্ত। সবার জন্য সতর্ক বাণী।”

সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ এবং প্রমান রয়েছে এমন দাবী করেছিল ছাত্রলীগের বদ বঞ্চিত অনেকে। তিনি বলেছিলেন, “আমি ২৪ বার রক্ত দিয়েছি। মাদকাসক্ত হলে রক্ত দিতে পারতাম না। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার হচ্ছে।”

সবকিছু ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হলেও, তীরে এসে তরী ডুবে গেলো।

ছাত্রলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটির পদবঞ্চিতরা খুব খুশি হয়েছেন । তাদের দাবী তাদের আন্দোলন সফল হয়েছে। তারা সংবাদ সম্মেলন করে-ও ঘোষণা করেছিল ছাত্রলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটিতে ১৭ জন রয়েছেন যারা ছাত্রলীগের শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজে নিয়োজিক ছিলেন/আছেন।

সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী শোভন-রব্বানী পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন, জমা দিতে বাধ্য হয়েছেন। আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ তথা সকল রাজনৈতিক সংগঠনের মধ্যে এক ধরণের আস্থা তৈরি হয়েছে। সবাই ভয়ানক সিন্ডিকেট হিসেবেই এই দুইজনকে চিহ্নিত করেছেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840