সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
সংসার বা প্রেম ভাঙ্গনে কে দায়ী?

সংসার বা প্রেম ভাঙ্গনে কে দায়ী?

সংসার বা প্রেম ভাঙ্গনে কে দায়ী
সংসার বা প্রেম ভাঙ্গনে কে দায়ী

মারুনা রাহী রিমি

একটা পরিসংখ্যানে দেখা গেছে- যেকোনো বিয়ের বা প্রেমের সম্পর্কের ভাঙ্গনের জন্য সবসময় দায়ী করা হয় মেয়েটাকে সে যেকোনো লজিকাল বা ইলজিকাল কারনেই হোক না কেন। বরাবরই সবার কাছে দোষী মেয়েটাই থাকে।

প্রেমের ক্ষেত্রে মেয়ের বিয়েটা প্রেমিকের সাথে না হয়ে অন্য কোন ভাল বা প্রতিষ্ঠিত ছেলের সাথে হলেও দোষটা মেয়েরই হয়। সবার কাছে মেয়েটাকেই বদনাম করা হয় যে, মেয়েটা তাকে ধোঁকা দিয়েছে, সে বেকার বা গরিব বলে তাকে বিয়ে করে নি, টাকার লোভে তাকে ছেড়ে অন্য কাউকে বিয়ে করেছে ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক কিছু।

কেউ একবারও চেয়ে দেখে না, মেয়েটাও হয়তো সেই ছেলেটাকে মন থেকেই ভালবেসেছিল। শুধু নিজের পরিবারের প্রতি ভালবাসার কাছে সেই ছেলেটার ২ দিনের ভালবাসা হেরে গেছে। এমনও হতে পারে যে, মেয়েটাকে জোর করে অন্য কারো সাথে বিয়ে দিয়েছে পরিবার। প্রেমিক যদি সত্যই যোগ্য হতো তবে কোন প্রেমিকার পরিবার রাজী হয় না বিয়ের জন্য?

এসব লজিক বোঝানো না সেই প্রেমিককে সম্ভব আর না তাদের সমাজকে বোঝানো সম্ভব। ঘুরে ফিরে দোষ মেয়েটার ই হয়। ঘুরে ফিরে নষ্টা বা ধোঁকাবাজ বা লোভী বা প্রতারক এমন সব উপাধি মেয়েটাকেই পেতে হয়। হোক সে নিজে অযোগ্য, বেকার, লোভী কোন মানুষ যাকে গ্রহন করাও বোকামি ছাড়া আর কিছু হয় না।

সংসার বা বিয়ে ভাঙ্গার ক্ষেত্রেও একই বিষয় লক্ষ্য করা যায়। ছেলে বা ছেলের পরিবারের যতই দোষ থাকুক না কেন, শেষ পর্যন্ত দোষটা মেয়েটারই হয়। ছেলে বা ছেলের পরিবারের কখনও দোষ থাকে না। এটা কেউ দেখবে না যে, পরের একটা মেয়ে এনে তার সাথে সবাই কেমন ব্যবহার করে, কেমন অত্যাচার বা নির্যাতন করে বা কতটাই অসহায় মেয়েটাকে অনুভব করায় যে, শেষ পর্যন্ত বাবার রাজকুমারী বিধ্বস্ত কাজের বুয়ার মত ফিরে আসে বাবার রাজপ্রাসাদেই শেষ একটু আশ্রয়ের জন্য। কোন কোন নারী অনেক ভাগ্যবতী হয় যাদের বাবার বাড়ি থাকে ফিরে যাবার জন্য, বাবার বাড়ির সাপোর্ট থাকে নতুন করে বাঁচার জন্য। ভাবছি, যাদের সেটাও নাই তারা কোথায় যাবে? তাদের কি আসলেই যাবার কোন জায়গা থাকে কবর ছাড়া?

বহু সংসার ভাঙ্গা ছেলের পরিবারের কাছে প্রায়ই শুনতে হয়, বউ এর এই সমস্যা ছিল, বউ এর ওই সমস্যা ছিল, বউ পরকীয়া করতো, বউ অন্যের সাথে প্রেম করতো, বউ এর আরেক জায়গায় লাইন ছিল, বউ এর পরিবার অনেক খারাপ ছিল ইত্যাদি ইত্যাদি। অথচ মেয়েটার ঘরে গিয়ে দেখা যায়, মলিন চেহারায় ছলছল চোখে সে কোন প্রেমিকের অপেক্ষায় নেই, থাকে তার স্বামীর অপেক্ষায় এই ভেবে, যদি সে কোনদিন আসে আমাকে ফিরিয়ে নিতে!

এমন পরিবারও দেখেছি যারা নিজেদের মেয়ের উপরেই দোষ চাপিয়ে মেয়েটাকে বাধ্য করে সেই জাহান্নামেই ফিরে যেতে। কারন তাদেরও মনে হয়, দোষ হয়তো তাদের মেয়ের মাঝেই আছে। সেই ভাল ভাবে থাকতে পারে নি। কেউ একবারও ভেবে দেখে না যে, একটা মেয়ে কতটা অসহায় হলে তার বাপের বাড়িতে ফিরে আসে শেষ কোন আশ্রয়ের আশায়।

খুব বেশি অবাক হব না যদি কখনও আমাকেও শুনতে হয় যে, আমি বাপের বাড়ি গিয়ে অন্য ছেলেদের সাথে চ্যাট করে, কথা বলে, মেলা মেশা করি বা পরকীয়া করি বা প্রেম করি বা আমার চরিত্র খারাপ বা আমি নিজেই এত বেশি খারাপ যে, নিজের ঘর নিজেই ভেঙ্গে চলে আসি যদিও এমন কথা আমাকে এখনও বহুজনের কাছে শুনতে হয়। শেষ পর্যন্ত বেচারা হয়ে থাকে আমার স্বামী ও পরিবার। কারন সবকিছুর জন্য দায়ী শেষ পর্যন্ত মেয়েটাই থাকে।

একটা সময় খুব রাগ হতো এসব শুনতে। মনে হতো সবার কথার জবাব দিয়ে দেই। এসব যে তারা বলে বেড়ায়, তারা নিজেরা কি দেখে নি আমি কিভাবে থাকি বা কিভাবে চলি বা কয়দিনে কয়বার বাইরে যাই বা আমার কাছে কয়টা ফোন আসে? এখন আর কিছুই মনে হয় না এই ভেবে যে, আমি যদি ফেরেশতাও হই, তবুও শেষ পর্যন্ত সকল দোষ আমারই হবে যদিও আমি ফেরেশতা নই। আমারও অনেক দোষত্রুটি রয়েছে।

আজ একজনকে বলছিলামও যে, আল্লাহ যখন মুখ দিয়েছেন তবে খাবারের ব্যবস্থাও তিনিই করবেন। জীবন যখন দিয়েছেন, থাকার জায়গাও কোথাও না কোথাও করে দিবেন, বাসায় না হলেও ফুটপাতে, ফুটপাতে না হলেও পতিতালয়ে। কোন না কোন ব্যবস্থা আল্লাহ ঠিকই করবেন তা সে ভাল হোক বা খারাপ হোক।

পরের বাড়ির একটা মেয়ের দোষে নাকি সম্পর্ক ভেঙ্গে যায়, সংসার ভেঙ্গে যায়, পরিবার আলাদা হয়ে যায়, পরকীয়ার সমস্যা দেখা দেয়, প্রতারনা দেখা দেয় ইত্যাদি। এখন আমার প্রশ্ন, নিজের বাড়ির ছেলেগুলোর জন্য কি এগুলোর ১০০ ভাগের ১ ভাগও দেখা দেয় না? নিজের ছেলে কি বউ কে ফেলে অন্য মেয়ের আচলের নিচে থাকার স্বপ্ন দেখে না? তাদের ছেলেরা কি কখনও প্রতারনা করে না? তাদের ছেলেরা কি কখনও মদ খায় না, মাতাল হয়ে বউ পেটায় না? তাদের ছেলেরা কি বউদের নোংরা সব গালিগালাজ করে না?

ছেলেদের কথা বাদ ই দিলাম। ছেলের পরিবারগুলো কি কোন একটা দিনের ১ মিনিটের জন্য ভেবে দেখেছে যে, পরের বাড়ি থেকে আসা মেয়েটা আমাদের এখানে এত কষ্ট করে কিভাবে থাকে? তার কষ্ট একটু হলেও কমিয়ে দেই? একটু হলেও আমাদের ছেলেকে বলি যে, বউয়ের যা ভাল লাগে তাকে সেটা খাওয়া, সেটা দে, সেখানে ঘুড়িয়ে নিয়ে আয় যেখানে সে যেতে চায়, তাকে একটু সময় দে ! কারন সব ফেলে সে আমাদের এখানে শুধু বুয়ার কাজ বা বাচ্চা জন্মের মেশিন বা আয়া হয়ে থাকতে আসে নি। তারও অনেক সখ আহ্লাদ থাকতে পারে। সাধ্যের মধ্যে সেগুলো পূরণের চেষ্টা কর।

যেদিন থেকে পরিবারগুলো এমন ভাবতে শুরু করবে ও ছেলেরা পরিবারের কথা শুধু নয়, নিজের বিবেক দিয়ে পরের বাড়ি থেকে সব ফেলে বাবার দেয়া সব নিয়ে আসা মেয়েটার জন্য একটু ভাবতে শুরু করবে, সেদিন থেকে কোন পরিবার আর ভাঙ্গবে না। কোন সংসার বা বিয়ে ভাঙ্গবে বা সম্পর্ক ভাঙ্গবে না। কোন মেয়েকে নোংরা বদনাম, চোখের পানি ও বুকভরা কষ্ট নিয়ে ফিরে আসতে হবে না। তাহলে আসলেই কি মেয়েটারই সব দোষ থাকে? আসলেই কি মেয়েটাই খারাপ হয়?

বিঃদ্রঃ হতে পারি আমি বা আমাদের মত বহু মেয়ে খারাপ। কিন্তু সবাই খারাপ হয় না। খুব বেশি অসহায় না হলে কোন মেয়েই বাবার বাড়ি ফিরে যেতে চায় না। সহ্য করতে করতে সীমা ছাড়ালেই তারা ফিরে যেতে চায়। স্যালুট জানাই সেই সকল ছেলেদের যারা সব জেনে শুনে, শত নোংরা অপবাদের পরেও একটা মেয়েকে গ্রহন করে তার দায়িত্ব নেয়। স্যালুট জানাই সেসব মেয়েদেরও যারা এসব অন্যায়, অপবাদ ও নোংরামির পরেও মাথা তুলে দাড়ায় ও নতুন জীবনের শুভারাম্ভ করে সব ভুলে।

মারুনা রাহী রিমি

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840