সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
সময় এসেছে ভেবে দেখার, একটু ভাবুন

সময় এসেছে ভেবে দেখার, একটু ভাবুন

doinik71

বাণী চিরন্তনী… 
“স্বদেশের উপকারে যার নাই মন 
কে বলে মানুষ তারে পশু সেইজন”।

ফেস বুক খুললেই পাকিস্তানি ঝলমলে পোশাকের বন্দনায় আটকে যাচ্ছে চোখ, ঘন্টার পর ঘন্টা এখন মানুষ ছুটছে এই লাইভ থেকে ঐ লাইভে সুন্দর পোশাকের খোঁজে। কিনতে কোথায়ও যেতে হবে না আপনাকে, অনলাইনে অর্ডার করলেই ঘরে বসেই খুব সহজে পেয়ে যাবেন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া থেকে ও দেশের অন্যান্য শহর থেকেও এসব পোশাক। দোকান গুলোতে থরে থরে সাজানো ও ঠাসা আছে পাকিস্তানি পোশাকে । এক একটা বাসা বাড়ী যেন পাকিস্তানি পোশাকের গোডাউন।


শুধু কি বাসা বাড়ী? দামী সব অভিজাত ঝলমলে শপিংমল থেকে শুরু করে ছোট দোকান এমনকি ফুটপাতেও দেদারছে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন নামে ও দামে পাকিস্তানি পোশাক। রাস্তা ঘাটে অফিসে আদালতে যেখানে যাবেন দেখবেন মেয়েদের পরনে পাকিস্তানি পোশাক ।

একসময় ভারতীয় পোশাকের রমরমা ব্যবসা ছিলো, ভারতীয় পোশাকের কাছে মার খেতো বাংলাদেশী পোশাক।

এখন ভারতীয় পোশাক ও বাংলাদেশে মার খেয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানি পোশাকের কাছে। কি তার বাহার? কি তার মনকাড়া নাম? মেয়েদের যেন চুম্বকের মতো টানছে এই পোশাক। মেয়েদের মুখে কেবলই পাকিস্তানি পোশাকের বন্দনা। আর হবেই না বা কেন? তুলনামূলক ভাবে দামও হাতের নাগালে,একটার জায়গায় ১০টা কিনছে কেউ কেউ।

বিক্রেতারা লাইভে শো করার সাথে সাথে অর্ডার পড়ছে, একটু দেরী করলে আর পাওয়া যাচ্ছে না,Sorry sold out, জানাচ্ছে। কয়েকদিন আগে দোকান গুলোতে এমন পাকিস্তানি পোশাক বিক্রি দেখে ঢুঁ মারলাম আমার প্রিয় বাংলার মেলায়,একসময় বাংলার মেলায় ও ক্রেতায় থই থই করতো, বাংলার মেলা ক্রেতাশুন্য দেখলাম।

আমি জানি না দেশী পোশাকের কি অবস্হা, সব সময় এই অবস্হা থাকে না ভালো বিক্রি ও হয় তাও জানিনা। তবে পোশাকে পাকিস্তানি পোশাকের মতো জৌলুশ নাই, কর্মচারীদের বিরস চেহারাই বলে দেয় ব্যবসার অবস্থা কেমন?এক সময় আড়ং এর প্রতি মানুষের গভীর ভালোবাসা ছিলো, নিম্নমধ্য বিত্তরাও আড়ংএ যেতো, এখন আড়ং কেবলই উচ্চবিত্তদের জন্য। শুনেছি ১৪০টাকার চাদর নাকি আড়ং এ ১৪০০ টাকায় বিক্রি হয়। আড়ং এর প্রতিটা পন্য মধ্যবিত্তের হাতের নাগালের বাইরে। আড়ং এর মতো অন্যান্য দেশীয় পোশাকের দোকানেও পছন্দ সই পোশাক সহজ লভ্য নয়।

আমাদের দেশে জীবিকা অর্জনের জন্য প্রচুর ছেলে মেয়েরা পোশাক শিল্পে কাজ করার জন্য ও এই শিল্পকে নান্দনিক করার জন্য এই বিষয়ের উপর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহন করছে। কিন্ত দেশের মাটি ও পানি বিষাক্ত করে বিদেশীদের পোশাক রফতানি করে দেশের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করা ছাড়া এই পড়াশোনা দেশীয় খাতে কোন উন্নয়ন রাখছে এমন কোন অবস্হা দৃশ্যমান না এখনো।

এই যখন দেশীয় পোশাক শিল্পের অবস্হা তখন, যে পাকিস্তানকে আমাদের শোষন করছে বলে আমরা যুদ্ধ করে তাড়ালাম সেই পাকিস্তানি পোশাক কিনে আমরা নিজেরা খুশী হয়ে দেশের টাকা তুলে দিচ্ছি পাকিস্তানের হাতে। জানি না এতো বিপুল পোশাক দেশে বৈধভাবে আসছে না অবৈধ ভাবে আসছে। তবে দেশীয় পোশাকের যে বারোটা বেজে গেছে এতে কোন ভুল নাই, তাতে কি? আমরা তো সস্তায় পাকিস্তানি পোশাক ঘরে বসেই পাচ্ছি।

যেমন আমাদের সরকার তেমনি আমরা সরকারের জনগন,কখনো ভারতীয় পোশাকের জন্য আত্মহত্যা করছি,কখনো পাকিস্তানি পোশাকের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছি, ব্যাপারটা এমন দেশীয় পোশাক গোল্লায় যাক,তাতে সরকারের কী? আমাদের কী? আমার কি?

এই দুটো লাইন ভাবসম্প্রসারণের জন্য বারবার বিভিন্ন পরীক্ষায় পেতা “”স্বদেশের উপকারে যার নাই মন , কে বলে মানুষ তারে পশু সেইজন”। লাইনদ্বয় সম্পর্কে মুখস্ত কিছু কথা সে সময় লিখে গেলেও আজ প্রবাসে বসে হারে হারে টের পাচ্ছি। এই দুটি মহামূল্যবান বাক্য যেন আজ আঙ্গুল তোলে আছে আমাদের দিকে।

আসলে কে মানুষ? কোথায় মানুষ? কে পশু? স্বদেশ নিয়ে ভাবছে কে?

আখতার বানু শেফালী

কবি ও লেখক

আমেরিকা।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840