সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
সিটি নির্বাচনে মিডিয়ার বৈষম্যের মাঝেও থেমে নেই হাতপাখার প্রচারণা

সিটি নির্বাচনে মিডিয়ার বৈষম্যের মাঝেও থেমে নেই হাতপাখার প্রচারণা

সিটি নির্বাচনে
সিটি নির্বাচনে

সিটি নির্বাচনে ফের চমক দেখাতে পারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর হাতপাখার প্রার্থীরা। শুরু থেকেই দলটির বেশ প্রচারণা চোখে পড়ছে। কিন্তু মিডিয়ার বৈষম্যের শিকার দলটি। বড় দুটি দল আওয়ামী লীগ বিএনপির প্রার্থীর চেয়ে প্রচারণায় কোন অংশে কম নেই দলটির প্রার্থীরা। তাদের প্রচারণার খবর প্রচার কমই প্রকাশ করছে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া।

তাদে অভিযোগ একটু আধটু প্রচার করছে কিছুটা দায় এড়াতে। আজ নয়াদিগন্ত পত্রিকায় দেখলাম আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই সিটির প্রার্থীর নিউজ পাশাপাশি থাকলেও তাতে স্থান পায়নি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর দুই সিটি প্রার্থীর প্রচারণার নিউজ। নয়াদিগন্ত পত্রিকার ২য় পাতায় কোন রকম দায়সারা নিউজ করেছে। অথচ বিরামহীন প্রচারণা করছে দলটির প্রার্থীরা।

গত কাল উত্তরে প্রচারণায় অংশ নেন দলটির আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম পীর সাহেব চরমোনাই এবং দক্ষিণে প্রচারণায় অংশ নেন দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম শায়েখে চরমোনাই। দলের দুই জন শীর্ষ নেতা প্রচারণায় অংশ নিলেও ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচার না হওয়াটা হতাশার। এটা এক প্রকার দলটির জন্য বৈষম্যের। এমন বৈষম্যনীতি আদৌ কাম্য নয়।

রাজনৈতিক বিশ্বেষকদের মতানুসারে দলটি রাজনৈতিক অঙ্গনে তৃতীয় শক্তি। বিগত সিটি নির্বাচন ও বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফলের বিচারে দলটি ভোটের অংকে তৃতীয় অবস্থানে। সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ে খুলনা সিটি নির্বাচনে হাতপাখা ১৩ হাজার ভোট বেশি পেয়েছিল। সুষ্টু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির চেয়ে এগিয়ে থাকত বলে ধারণা করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও বিশেষজ্ঞরা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনশ আসনে প্রার্থী দিয়ে চমক দেখান দলটি। সুষ্টু নির্বাচন হলে বেশ কিছু আসনে জয়ী হত তাদের প্রার্থীরা। ক্ষমতার লোভে দলটি ইতোমধ্যে কোন জোট মহাজটোর সাথে জোট করেনি। নীতি আদর্শ অটল, যুগোপযোগী কর্মসূচি, অনুগত কর্মী আর দক্ষ নেতৃত্বে দলটিকে গগণমানুষের কাছে প্রাসঙ্গিক করে তুলছে।

বড় দুই দলের নির্বাচনি প্রচারণার জন্য কর্মীদের টাকা দিতে হয়। অর্থের বিনিময়ে প্রচারে অংশ নেন কর্মীরা। অপরদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থীদের প্রচারণায় তেমন খরচ হয়না। কর্মীদের তো টাকা দিতে হয়না বরং উল্টা কর্মীরা সবাই মিলে নির্বাচনি ফান্ড গঠন করে। আসন্ন ঢাকা দুই সিটিতে সরগরম ও বিরামহীন প্রচারণা করছে দলটির প্রার্থীরা। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবেনা এক প্রকার জেনে বুঝেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে দলটির প্রার্থীরা।

ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা উত্তরের সভাপতি রাজনীতিবিদ, পিএইচডি গবেষক, তরুণ প্রার্থী প্রিন্সিপ্যাল শেখ ফজলে বারী মাসউদ।

দক্ষিণ সিটিতে প্রতিদন্ধিতা করছেন দলটির কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মুহাম্মদ আব্দুর রহমান। আজ ঢাকা রিপাোর্টার্স ইউনিটে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইশতেহার ঘোষণা করেন উত্তরের প্রার্থী শেখ ফজলে বারী মাসউদ।

উপস্থিত ছিলেন দলটির আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম। ইশতেহারের ৩১ দফার বেশ কিছু দফা আমার খুব ভাল লেগেছে। শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেন, নির্বাচিত হলে ৩০ কর্ম দিবসে সিটির দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখাবেন, প্রত্যেক ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মাতৃসদন হাসপাতাল করবে, মসজিদ ভিত্তিক মশকনিধন করবে, পর্যাপ্ত পরিমাণ খেলার মাঠ, দখলকৃত খাল উদ্ধার ও খনন, বরাদ্দকৃত অর্থের শতভাগ কাজ করাসহ ৩১ টি গুরুত্বপূর্ণ দফা নিয়ে ইশতেহার ঘোষণা করেছে।

গত সপ্তাহের সোমবার ইশতেহার ঘোষণা করেছে দলটির দক্ষিণের প্রার্থী আবদুর রহমান। তিনি সিটির উন্নয়নে ২৯ দফার ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের সাথে পাল্লা দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে দলটির দুই প্রার্থী। মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নানান প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা। আজ উত্তরের প্রার্থী শেখ ফজলে বারী মাউসদ এর ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে দলটির আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম কঠিন হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

তিনি বলেন,৩০ ডিসেম্বরে পুনরাবৃত্তি হলে প্রতিরোধ গড়ে তুলাও হুমকি দেন তিনি। ইতোমধ্যে দুই সিটি ৬০ টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী দিয়েছে। কাউন্সিলর প্রার্থীরাও বিরামহীন প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছে। আজ ইশতেহার ঘোষণাকালে কৃষক শ্রমিক জনতা পার্টির পক্ষ থেকে হাতপাখার প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে বলা যায় দলটির প্রার্থীরা ব্যাপক প্রচারণা করছেন। দলটির শীর্ষ নেতারা মনে করছেন কারচুপি না হলে তাদের প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন।

লেখকঃ নুর আহমদ সিদ্দিকী

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840