সংবাদ শিরোনাম:
দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকার সেরা অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন ‘ভোট জালিয়াতি’ তদন্তের নির্দেশ চট্টগ্রামে গলায় ছুরি ধরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ধর্ষকদের বাঁচাতে কাউন্সিলরপ্রার্থী বেলালের দৌড়ঝাঁপ নারী নির্যাতন মামলায় বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের বিবাহিত সভাপতি মাহবুব হোসেন কারাগারে দুই নবজাতকের লাশ নিয়ে হাইকোর্টে বাবা কনস্টেবলকে মারধর, শ্রমিকলীগ নেতার স্ত্রী কারাগারে অবক্ষয় থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে চলচ্চিত্রের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে- তথ্যমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2020 কর কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২০ ৯ দিনে করোনা জয়ী তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
হাটহাজারীতে মাদ্রাসায় আবারো বলাৎকার

হাটহাজারীতে মাদ্রাসায় আবারো বলাৎকার

বলাৎকার

চট্টগ্রামের বিখ্যাত হাটহাজারীতে মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের ঘটনা ঘটেছে। গতো মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে মাদ্রাসার শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম (৩০) কে আটক করেছে ওই এলাকার পুলিশ। প্রাথমিক সূত্রমতে সে বাঁশখালী বইলগাঁও মোল্লার পাড়ার সিরাজুল ইসলামের পুত্র বলে জানা গেছে।

উপজেলার উত্তর মাদার্শার মদীনা একাডেমি নামক একটি নূরাণি মাদ্রাসায় বলাৎকারের এই জঘন্য ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় ওই রাতেই ভিকটিম শিশুর পিতা বাদী হয়ে হাটহাজারী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

ভিকটিম শিশুটির পিতা জানান, মাসতিনেক আগে তার দু ছেলেকে ভর্তি করান ঐ নূরাণী মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে। ইসলামী শিক্ষায় আদর্শ পুত্র গড়ে তোলার জন্য তিনি মাদ্রাসায় তার পুত্রদের ভর্তি করিয়ে ছিলেন। ঘটনার দিন মঙ্গলবার রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার কোন এক সময় হেফজ বিভাগের শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম তার ছোট ছেলেকে রুমে নিয়ে জোরপূর্বক বলাৎকার করে এবং কাউকে না বলার জন্য ভয়-ভীতি লাগায়। ছেলেটি ভয়ে ও ব্যথায় কান্না করতে থাকে।

ছেলেটির এক পর্যায়ে রুমের দরজা খুলে দৌড়ে মাদ্রাসা থেকে প্রায় অর্ধ কিলোমিটার দুরে চলে আসে। তখন স্থানীয়রা তাকে দেখতে পেয়ে কারণ জানতে চাইলে তাদের কাছে পুরো ঘটনা সে বলে। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা মাদ্রাসা থেকে এক কিলোমিটার দূরে পলায়নরত অবস্থায় উত্তর মাদার্শা পাখির বাপের বাড়ির ঘাটা সংলগ্ন ঘাবগুল গাছের নিচ থেকে অভিযুক্তকে আটক করে ঐ মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে রাত আড়াইটার দিকে পুলিশে সোপর্দ করে।

থানার এসআই আবুল বাশার জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করি। জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ক্ষমা চেয়েছে।

থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে ৩৭৭ ধারায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছেন। আগামীকাল আসামীকে আদালতে পাঠানো হবে। ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠানো হবে।

ভূক্তভোগীর এক নিকট আত্নীয় রেগে গিয়ে বলেন “যাদের কাছে নৈতিকতার পাঠ শেখার কথা নিয়মিত এরাই অনৈতিক কাজে লিপ্ত। এই ঘটনাই প্রথম নয় এরকম ঘটনা হরহামেশাই মাদ্রাসায় ঘটে। অসংখ্য মামলা রুজ্জু হয় কিন্তু এর শাস্তি কি হয় তা সবার অজানা। কখনো কোন মাওলানা বা মুফতি কে ওয়াজ করতে গিয়ে কখনো এসব বিষয়ে কথা বলতেও দেখা যায় না। তারা যাই করুক সব হালাল কারন তাদের দাঁড়ি টুপি আছে। হুজুরদের যেন পাপ পূন্যের হিসেব হয় না। ওরা সব করতে পারে। এরা যতো হাদিস বলে সব সাধারণ মানুষের জন্য আর এদের শরীর গরম হলে কোন নারী তো দূরের কথা ছেলে শিশুরাও ছাড় পায় না।”

উক্ত মাদ্রাসার সভাপতি জানান “আমাদের দায়িত্ব আমরা পালন করেছি। বাকি দায়িত্ব আইনের। আইন তার বিচার করবে। তবে এই ঘটনায় মাদ্রাসায় কোন প্রভাব বিস্তার করবে না। এই ঘটনা এটাই এই দেশে প্রথম নয়। কিছু কিছু খারাপ মানুষের জন্য মাদ্রাসা খারাপ হতে পারে না। আমরা এরপর আর-ও সতর্ক হবো যাতে এমন চরিত্রের লোকজন আমাদের মাদ্রাসায় নিয়োগ পেতে না পারে।”

মাদ্রাসার সাধারণ সম্পাদক বলেন “আমরা তাকে ভালো জানতাম বলেই নিয়োগ দিয়েছিলাম। ঘটনাটি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না। মাদ্রাসার এতে কোন ইফেক্ট পরবে না।এটা অত্যন্ত্য সাধারণ একটি ব্যপার। এরকম ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। সবাই জানে। কিছু ঘটনা প্রকাশ হয়, বেশিরভাগ ঘটনা তো মানুষ জানতেই পারে না। আমরা এখন থেকে মাদ্রাসায় ‍হুজুর নিয়োগে আর-ও সতর্ক হবো।”

দিনদিন মাদ্রাসাগুলোতে বলাৎকারের ঘটনা বেড়েই চলেছে। না জানি কতো ঘটনা রয়ে যায় পর্দার আড়ালে। আদৌ কি কখনো এই ঘটনা বন্ধ হবে। কখনো কি ঘুচবে হুজুরদের এই দুর্নাম।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840