সংবাদ শিরোনাম:
দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকার সেরা অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন ‘ভোট জালিয়াতি’ তদন্তের নির্দেশ চট্টগ্রামে গলায় ছুরি ধরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ধর্ষকদের বাঁচাতে কাউন্সিলরপ্রার্থী বেলালের দৌড়ঝাঁপ নারী নির্যাতন মামলায় বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের বিবাহিত সভাপতি মাহবুব হোসেন কারাগারে দুই নবজাতকের লাশ নিয়ে হাইকোর্টে বাবা কনস্টেবলকে মারধর, শ্রমিকলীগ নেতার স্ত্রী কারাগারে অবক্ষয় থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে চলচ্চিত্রের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে- তথ্যমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2020 কর কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২০ ৯ দিনে করোনা জয়ী তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
৩০ লাখ টাকায় মেয়েকে হত্যার অনুমতি দেন বাবা, পরিকল্পনায় ছিলেন মা নিজেও

৩০ লাখ টাকায় মেয়েকে হত্যার অনুমতি দেন বাবা, পরিকল্পনায় ছিলেন মা নিজেও

৩০ লাখ টাকায় মেয়েকে হত্যার অনুমতি দেন বাবা
৩০ লাখ টাকায় মেয়েকে হত্যার অনুমতি দেন বাবা

বাহেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ইলমা খুন হয় ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ। এই ঘটনায় বাদী হয়ে ইলমার বাবা আবদুল মোতালেব নরসিংদী মডেল থানায় মামলা করেন। বাবা মা তাদের শিশু সন্তান হত্যার বিচার চেয়ে তোলপাড় করে ফেলেন।

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বাবাই তাঁর দ্বিতীয় শ্রেণিপড়ুয়া মেয়েকে হত্যার অনুমতি দিয়েছিলেন। নরসিংদীর বাহেরচরে চাঞ্চল্যকর ইলমা হত্যাকাণ্ডের পলাতক আসামি মাসুম মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর সিআইডি এক সংবাদ সম্মেলনে আজ সোমবার এ কথা জানায়। যা রীতিমত হতবাক করে দিয়েছে দেশবাসীকে। চাঞ্চল্যকর এমন একটি রিপোর্ট সকলের মধ্যে দ্বৈত সিদ্ধান্তের উদ্রেগ করেছে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) উপমহাপরিদর্শক (সংঘবদ্ধ অপরাধ বিভাগ) ইমতিয়াজ আহমেদ সিআইডির সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইলমা তার বাবার লোভের বলি হয়েছিল। তার বাবা পশু সুলভ এমন কাজ করেছে যা আমরা নিজেরাও বিশ্বাস করতে পারছি না।

নরসিংদীর বাহেরচরে শাহজাহান ভূঁইয়া ও সাবেক ইউপি সদস্য বাচ্চুর নেতৃত্বে দুটি দলের প্রভাব বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। শাহজাহান ভূঁইয়ার লোকজন প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে শিশু হত্যার পরিকল্পনা করেন। এর বিনিময়ে তিনি ইলমার বাবা আবদুল মোতালেবকে ৩০ লাখ টাকা দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন। টাকার লোভে মোতালেব মেয়েকে হত্যার অনুমতি দেন। এ পর্যন্ত মোতালেব চার লাখ টাকাও পেয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি মাসুম মিয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। মাসুম ইলমার ফুপাতো ভাই। মাত্র ৩০ লাখ টাকার লোভেই নিজের মেয়েকে সে হত্যা করতে পরিকল্পনার অংশ হয়।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরার নেতৃত্বে একটি দল নরসিংদীর মাধবদী থেকে ইলমার বাবা আবদুল মোতালেব, ফুপাতো ভাই মাসুম মিয়া, গ্রুপ লিডার শাহজাহান ভূঁইয়া, মা মঙ্গলী বেগম ও মো. বাতেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর মাসুম মিয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

জিজ্ঞাসাবাদে মাসুম বলেন, ইলমাকে হত্যার পরিকল্পনা হয় ২০১৫ সালের ১ মার্চ। ওই রাতে যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, তাতে ১৩ জন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুসারে মোতালেবকে সন্তানের বিনিময়ে ৩০ লাখ টাকার টোপ দেওয়া হয়। তাতেই রাজি হয়ে যান তিনি। তাকে বেশি বোঝাতে হয়নি।

পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় ইলমার দুলাভাই বাবুল বাড়ির পাশে নূরার দোকান থেকে ইলমাকে জিনিসপত্র কিনতে পাঠান। বাড়ি ফেরার পথে দুলাভাই বাবুল ও ফুপাতো ভাই মাসুমের নেতৃত্বে সাত-আটজন তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে ইট ও মুগুর দিয়ে মাথা থেঁতলে এবং গলা টিপে তাকে হত্যা করা হয়। এ সময় ইলমার বাবা পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি সব দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছেন। তার কোন ভাবান্তর ছিল না। তিনি ৩০ লাখ টাকার জন্যই মুখিয়ে ছিলেন।

সিআইডি বলছে, এই পরিকল্পনা সম্পর্কে ইলমার মা–ও জানতেন। মাসুম আরও বলেন, ইলমা হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিদের বাদ দিয়ে মোতালেব বাদী হয়ে বিরোধীপক্ষ ‘বাচ্চু’ গ্রুপের বিলকিস, খোরশেদ, নাসুসহ অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে নরসিংদী সদর মডেল থানায় ওই বছরের ৩১ মার্চ হত্যা মামলা করেন। মোতালেব হত্যাকাণ্ডের আগে টাকা দাবি করেছিলেন। পরে ওই টাকা পুরো পাননি। এভাবেই ঘটনা আগাতে থাকে।

শুধু মাসুম মিয়ার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে সন্তান হত্যার দায় মা–বাবার ওপর চাপানো কতটা যৌক্তিক হচ্ছে, সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ইলমার মা–বাবা মূল আসামির নাম এজাহারে উল্লেখই করেননি। শুরু থেকেই তিনি মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহীত করার প্রানান্ত প্রচেষ্টা চালান।

এমনকি তদন্ত করার সময় ইলমার বাবা একেকবার একেকজনের নাম এজাহারভুক্ত করার আবদার নিয়ে এসেছেন। সন্তান হত্যার বিচার না চেয়ে, তিনি বারবার আসামির নাম বদলানোর অনুরোধ নিয়ে পুলিশের কাছে এসেছেন। এ ছাড়া ইলমার সুরতহাল প্রতিবেদনে যেখানে যেখানে আঘাতের কথা বলা হয়েছে, মাসুম ঠিক সে জায়গাগুলোরই উল্লেখ করেছেন। মাসুমের তথ্যে কোন ভুল থাকার সম্ভাবনা নেই। তিনি নির্ভুল ভাবে এমন কিছু বিষয়ের অবতারণা করেন যা খুনি ব্যতীত অন্য কেউ জানার প্রশ্নই আসে না।

তদন্তে জানা যায়, নরসিংদী থানার বাহেরচরে শাহজাহান ভূঁইয়া ও সাবেক ইউপি সদস্য বাচ্চুর নেতৃত্বে দুটি দলের মধ্যে এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। শাহজাহান গ্রুপের সদস্য ও ইলমার ফুফাতো ভাই মাসুমের সঙ্গে বাচ্চুপক্ষের সদস্য তোফাজ্জলের মেয়ে তানিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

বিয়ে করার জন্য তানিয়াকে তোলা হয়েছিল মাসুমের ভাইয়ের শ্বশুরবাড়িতে। পরে তানিয়ার বাবা দলবল নিয়ে এসে তানিয়াকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যান। ওই ঘটনায় তানিয়ার বাবা বাদী হয়ে মাসুম, তাঁর ভাই খসরু ও ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নরসিংদী সদর মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছালে বাচ্চু গ্রুপের সদস্যদের ক্ষতি করতে শাহজাহানের অনুসারীরা ইলমাকে খুনের পরিকল্পনা করে।

বড়দের এই স্বার্থ সিদ্ধির সাথে নিজের বাবাও জড়িয়ে পড়েন। ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে বাবা মা তুলে দেন নিজের মেয়েকে।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840